ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রবাসীদের হয়রানি নিরসনে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা, শিগগিরই চালু যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলের অভিযোগ, বিচার দাবিতে মানববন্ধন সিলেটে হামের চাপ, শয্যা সংকটে এক বিছানায় একাধিক শিশু শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা কি চাইলেই করা যায়? রয়েছে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমল ৩,২৬৬ টাকা রাতে মহাসড়কে সিএনজি চালায় কারা? পরিচয়হীন চালক, ঝুঁকিতে যাত্রী জেএফকে বিমানবন্দরে তোপের মুখে ড. ইউনূস অনিয়মের ভিডিও করায় সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিলেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারী নাসিরনগরে সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, কাঠগড়ায় এমপি হান্নান ২৯ অক্টোবর এইচএসসি-সমমানের ফল, মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে জাবিতে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১১৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে মুরাদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রধান ফটক ডেইরি গেটে এসে শেষ হয়। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধের দাবি জানান এবং আওয়ামী লীগের বিষয়ে বর্তমান সরকারের নীরবতার সমালোচনা করেন।

বিক্ষোভ মিছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য জাকিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের সহপাঠীদের রক্তের বিনিময়ে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। সেই রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি এবং স্বৈরাচার দূর করতে সফল হয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের কোনো দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দেখছি না। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কোনো ব্যবস্থা দেখছি না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আওয়াজ তুলতে চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের দোসরদের বিচার ও সকল ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে আমাদের ভোট দেখার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। রাতের আধারে ভোট কেটে সকালে ভোটের মুলা ঝোলানো হয়েছে। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা একটু নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি একদল মানুষ উঠে পড়ে লেগেছে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য। আমরা বলে দিতে চাই কোন প্রকার তালবাহানা আমরা মেনে নেব না। অবিলম্বে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, গণহত্যার পরে যে অন্তবর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে তাদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করা কিন্তু তারা তা করেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ হরতালের কর্মসূচি দেয়, লিফলেট বিতরণ করে, গুপ্ত হামলা চালায়, আমরা এই সরকারকে বলে দিতে চাই গণহত্যার দায়ে এই দেশে আওয়ামীলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সচিবালয়, পুলিশ, প্রশাসনে, বিচার বিভাগ ও সেনাবাহিনীতে আছে। বিপ্লবীরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্লিপ্ততার সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ যে অপরাধ করতে চায় আমরা তার প্রশ্রয় দিতে চাই না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে। এই বাংলার ছাত্র-জনতা তাদেরকে প্রতিহত করবে।অন্তবর্তীকালীন সরকারকে বলতে চাই আপনারা যদি শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি না করতে চান এবং গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করেন তাহলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেন।

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক মাহফুজ ইসলাম মেঘ বলেন, এখনো যদি ইউরোপ মহাদেশে নাৎসি বাহিনীর নাম মুখে নেওয়া হয়, নাৎসি বাহিনীকে সাপোর্ট করেন, তাহলে আপনাকে সমাজ থেকে বিতাড়িত করা হয়। অথচ আজ পর্যন্ত আমরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখি নাই। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে, যারা নাৎসি বাহিনীর দোসর ছিল, জনসম্মুখে তাদের চুল কেটে দেয়া হয়েছিল। অথচ আমরা যখন ৩২ নাম্বারের বাড়ি ভাঙতে যাই, তখন আমাদের বিশিষ্ট নাগরিকরা এর বিপক্ষে বিবৃতি দেয়। আমরা চাই, শেখ হাসিনাকে অতিদ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে চিরতরে রাষ্ট্রীয় ভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে জাবিতে বিক্ষোভ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে মুরাদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রধান ফটক ডেইরি গেটে এসে শেষ হয়। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধের দাবি জানান এবং আওয়ামী লীগের বিষয়ে বর্তমান সরকারের নীরবতার সমালোচনা করেন।

বিক্ষোভ মিছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য জাকিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের সহপাঠীদের রক্তের বিনিময়ে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। সেই রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি এবং স্বৈরাচার দূর করতে সফল হয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের কোনো দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দেখছি না। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কোনো ব্যবস্থা দেখছি না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আওয়াজ তুলতে চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের দোসরদের বিচার ও সকল ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে আমাদের ভোট দেখার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। রাতের আধারে ভোট কেটে সকালে ভোটের মুলা ঝোলানো হয়েছে। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা একটু নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি একদল মানুষ উঠে পড়ে লেগেছে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য। আমরা বলে দিতে চাই কোন প্রকার তালবাহানা আমরা মেনে নেব না। অবিলম্বে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, গণহত্যার পরে যে অন্তবর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে তাদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করা কিন্তু তারা তা করেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ হরতালের কর্মসূচি দেয়, লিফলেট বিতরণ করে, গুপ্ত হামলা চালায়, আমরা এই সরকারকে বলে দিতে চাই গণহত্যার দায়ে এই দেশে আওয়ামীলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সচিবালয়, পুলিশ, প্রশাসনে, বিচার বিভাগ ও সেনাবাহিনীতে আছে। বিপ্লবীরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্লিপ্ততার সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ যে অপরাধ করতে চায় আমরা তার প্রশ্রয় দিতে চাই না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে। এই বাংলার ছাত্র-জনতা তাদেরকে প্রতিহত করবে।অন্তবর্তীকালীন সরকারকে বলতে চাই আপনারা যদি শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি না করতে চান এবং গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করেন তাহলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেন।

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক মাহফুজ ইসলাম মেঘ বলেন, এখনো যদি ইউরোপ মহাদেশে নাৎসি বাহিনীর নাম মুখে নেওয়া হয়, নাৎসি বাহিনীকে সাপোর্ট করেন, তাহলে আপনাকে সমাজ থেকে বিতাড়িত করা হয়। অথচ আজ পর্যন্ত আমরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখি নাই। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে, যারা নাৎসি বাহিনীর দোসর ছিল, জনসম্মুখে তাদের চুল কেটে দেয়া হয়েছিল। অথচ আমরা যখন ৩২ নাম্বারের বাড়ি ভাঙতে যাই, তখন আমাদের বিশিষ্ট নাগরিকরা এর বিপক্ষে বিবৃতি দেয়। আমরা চাই, শেখ হাসিনাকে অতিদ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে চিরতরে রাষ্ট্রীয় ভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।