ঢাকা ০৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় হট্টগোল, ডিসির ক্ষমা প্রার্থনা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪০:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পরে ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি সংযুক্ত করে অনুষ্ঠান শুরু করা হলেও এক বক্তার বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ সম্বোধন করায় দ্বিতীয় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মূল ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মঞ্চে ওঠেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরু করা সম্ভব হয়নি।

পরে জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা মঞ্চে গিয়ে ব্যানারটি নামিয়ে নেন। এরপর জিয়াউর রহমানের ছবি-সংবলিত একটি পোস্টার কসটেপ দিয়ে মূল ব্যানারে সাঁটানো হয়। এ প্রক্রিয়া শেষে প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে ওঠেন। নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পর শুরু হয় আলোচনা সভা।

অনুষ্ঠান চলাকালে জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি একাধিকবার শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করলে সভাস্থলে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি একেএম গোলাম মাহফুজ শুভসহ কয়েকজন নেতা উত্তেজিত হয়ে ডায়াসের দিকে এগিয়ে যান। পরে ওই বক্তাকে ডায়াস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান জেলা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের নেতা-কর্মীরা।

ব্যানারে ছবি না থাকার বিষয়ে জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া বলেন, ইন্টারনেট থেকে ছবি সংগ্রহ করে ব্যানারটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে এ ত্রুটির জন্য তিনি সবার সামনে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি ও হট্টগোলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দেন তিনি। তদন্তের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৯ বছর পর দিবসটি পালন করা হচ্ছে। অথচ শহীদ জিয়াউর রহমানের ছবি ছাড়া ব্যানার তৈরি করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাঁরা একে প্রশাসনের ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের চক্রান্তের বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, সিভিল সার্জন আল-মামুন এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় হট্টগোল, ডিসির ক্ষমা প্রার্থনা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪০:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পরে ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি সংযুক্ত করে অনুষ্ঠান শুরু করা হলেও এক বক্তার বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ সম্বোধন করায় দ্বিতীয় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মূল ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মঞ্চে ওঠেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরু করা সম্ভব হয়নি।

পরে জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা মঞ্চে গিয়ে ব্যানারটি নামিয়ে নেন। এরপর জিয়াউর রহমানের ছবি-সংবলিত একটি পোস্টার কসটেপ দিয়ে মূল ব্যানারে সাঁটানো হয়। এ প্রক্রিয়া শেষে প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে ওঠেন। নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পর শুরু হয় আলোচনা সভা।

অনুষ্ঠান চলাকালে জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি একাধিকবার শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করলে সভাস্থলে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি একেএম গোলাম মাহফুজ শুভসহ কয়েকজন নেতা উত্তেজিত হয়ে ডায়াসের দিকে এগিয়ে যান। পরে ওই বক্তাকে ডায়াস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান জেলা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের নেতা-কর্মীরা।

ব্যানারে ছবি না থাকার বিষয়ে জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া বলেন, ইন্টারনেট থেকে ছবি সংগ্রহ করে ব্যানারটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে এ ত্রুটির জন্য তিনি সবার সামনে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি ও হট্টগোলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দেন তিনি। তদন্তের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৯ বছর পর দিবসটি পালন করা হচ্ছে। অথচ শহীদ জিয়াউর রহমানের ছবি ছাড়া ব্যানার তৈরি করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাঁরা একে প্রশাসনের ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের চক্রান্তের বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, সিভিল সার্জন আল-মামুন এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন।