ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু ১৬ নভেম্বর আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযান, তদন্তের নির্দেশ ডিএমপির দুমকিতে জ্বালানি সংকট ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে লিফলেট বিতরণ যশোর ও নড়াইলে ১২৭৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা: তিন স্তরের নিরাপত্তায় মাঠে এসআরবি সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই আগামীর বাংলাদেশের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলি ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভে শত শত হোটেল-রিসোর্ট, নেই ফায়ার স্টেশন সেনাবাহিনীর ৭ ইউনিটকে জাতীয় পতাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সতর্কবার্তার পরও চালু ছিল রিসোর্ট ‘টুপটুপ’, চার মাস আগেই ঝুঁকি শনাক্ত দুর্গাপূজার মণ্ডপে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ভিড়ের চাপে গেট ভেঙে নিহত ১৭

আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযান, তদন্তের নির্দেশ ডিএমপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায়। প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের ফেসবুক পেজে অভিযানের ভিডিও প্রকাশের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অস্ত্রের ব্যবহার, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণ এবং মাদকবিরোধী অভিযানে জনপ্রতিনিধির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রতিমন্ত্রী কয়েকজনকে ধরতে নির্দেশ দিচ্ছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরাও রেললাইনের পাশে অবস্থান করা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। ভিডিওতে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ, স্যার।’ জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ আসবে তারপর কথা হবে।’

ভিডিওর আরেকটি অংশে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা একজনকে গুলি করার হুমকিসূচক কথা বলতে শোনা যায়। এ ছাড়া এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায় একজন দেহরক্ষীকে। ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রীর হাতে পিস্তল এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের প্রত্যেকের পরিচয় ও তাঁদের ভূমিকা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদার বলেন, শনিবার বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে তাঁরা সেখানে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের বারবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়েছিল, তবে তাদের পৌঁছাতে দেরি হয় বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে ভিডিওটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছিল, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’। আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে দেখা যায়।

অস্ত্রের বৈধতা ও ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন

অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—অস্ত্রটি বৈধ কি না, বৈধ হলেও এভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করা আইনসম্মত কি না এবং মাদকবিরোধী অভিযানে জনপ্রতিনিধির এমন ভূমিকার সীমা কোথায়।

শনিবার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, তাঁর হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ। নির্বাচনের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য উল্লেখ না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি করার ঘটনার পর তিনি অস্ত্রটি নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, অস্ত্রটি নেওয়ার সময় নির্বাচনী হলফনামায় তা দেখানোর সুযোগ ছিল না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদে বৈধ অস্ত্র বহন ও ব্যবহারের শর্ত উল্লেখ রয়েছে। এর ‘ক’ উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র বহন বা ব্যবহার করা যায়। তবে অন্যের মধ্যে ভীতি বা বিরক্তি সৃষ্টি করে—এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।

এ অবস্থায় প্রতিমন্ত্রীর অভিযানে অস্ত্রের ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণ বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের বিষয় হয়ে উঠেছে।

ডিএমপির তদন্তে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি, অস্ত্র ব্যবহারের প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কতটা স্পষ্ট হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যা বললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে গিয়ে ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তার দাবি, মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে হামলার আশঙ্কা থাকায় আত্মরক্ষার স্বার্থে তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। তার দাবি, শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে একদল ব্যক্তি তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে। এসময় নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নেন তারা।

বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেন বলেও জানান।

ইশরাক হোসেন দাবি করেন, মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবলসংকট দূর করতে সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র দেয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ এখনও বাস্তবায়নাধীন। পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নাগরিকদের অংশগ্রহণে সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি ওই এলাকায় যান।

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে অভিযান চালানো হয়। এসময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযান, তদন্তের নির্দেশ ডিএমপির

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায়। প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের ফেসবুক পেজে অভিযানের ভিডিও প্রকাশের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অস্ত্রের ব্যবহার, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণ এবং মাদকবিরোধী অভিযানে জনপ্রতিনিধির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রতিমন্ত্রী কয়েকজনকে ধরতে নির্দেশ দিচ্ছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরাও রেললাইনের পাশে অবস্থান করা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। ভিডিওতে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ, স্যার।’ জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ আসবে তারপর কথা হবে।’

ভিডিওর আরেকটি অংশে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা একজনকে গুলি করার হুমকিসূচক কথা বলতে শোনা যায়। এ ছাড়া এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায় একজন দেহরক্ষীকে। ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রীর হাতে পিস্তল এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের প্রত্যেকের পরিচয় ও তাঁদের ভূমিকা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদার বলেন, শনিবার বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে তাঁরা সেখানে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের বারবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়েছিল, তবে তাদের পৌঁছাতে দেরি হয় বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে ভিডিওটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছিল, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’। আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে দেখা যায়।

অস্ত্রের বৈধতা ও ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন

অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—অস্ত্রটি বৈধ কি না, বৈধ হলেও এভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করা আইনসম্মত কি না এবং মাদকবিরোধী অভিযানে জনপ্রতিনিধির এমন ভূমিকার সীমা কোথায়।

শনিবার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, তাঁর হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ। নির্বাচনের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য উল্লেখ না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি করার ঘটনার পর তিনি অস্ত্রটি নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, অস্ত্রটি নেওয়ার সময় নির্বাচনী হলফনামায় তা দেখানোর সুযোগ ছিল না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদে বৈধ অস্ত্র বহন ও ব্যবহারের শর্ত উল্লেখ রয়েছে। এর ‘ক’ উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র বহন বা ব্যবহার করা যায়। তবে অন্যের মধ্যে ভীতি বা বিরক্তি সৃষ্টি করে—এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।

এ অবস্থায় প্রতিমন্ত্রীর অভিযানে অস্ত্রের ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণ বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের বিষয় হয়ে উঠেছে।

ডিএমপির তদন্তে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি, অস্ত্র ব্যবহারের প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কতটা স্পষ্ট হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যা বললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে গিয়ে ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তার দাবি, মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে হামলার আশঙ্কা থাকায় আত্মরক্ষার স্বার্থে তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। তার দাবি, শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে একদল ব্যক্তি তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে। এসময় নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নেন তারা।

বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেন বলেও জানান।

ইশরাক হোসেন দাবি করেন, মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবলসংকট দূর করতে সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র দেয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ এখনও বাস্তবায়নাধীন। পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নাগরিকদের অংশগ্রহণে সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি ওই এলাকায় যান।

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে অভিযান চালানো হয়। এসময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।