অবরুদ্ধ অধ্যায়ের অবসান, চুয়েট ছাড়লেন উপাচার্য

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ঘিরে চলা অচলাবস্থার আপাতত অবসান হয়েছে। টানা ৩০ ঘণ্টা উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ থাকার পর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, ভবিষ্যতে আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না—এমন শর্তেই তাঁকে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে উপাচার্যকে ভবন থেকে বের করে নিয়ে যান জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। এ সময় ভবনের ভেতরে তাঁর সঙ্গে অবরুদ্ধ থাকা অন্য ব্যক্তিদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের আপত্তি তালা ভাঙা নিয়ে
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁদের আন্দোলন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে ছিল না। কিন্তু তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশের ঘটনায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তাঁদের অভিযোগ, তিনি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন আটকে দিয়েছিলেন। কয়েকজন শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, উপাচার্য আর ক্যাম্পাসে আসবেন না—এমন শর্তে তাঁকে চলে যেতে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে উপাচার্যের বক্তব্য জানা যায়নি।
জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকারিভাবে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অসুস্থ। তাঁকে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেই তাঁরা ক্যাম্পাসে এসেছেন। উপাচার্য চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই উপাচার্যকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, একজন নাগরিক হিসেবে উপাচার্যের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আগে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
উপাচার্য নিয়োগের পর শুরু সংকট
চুয়েটে বর্তমান অচলাবস্থার সূত্রপাত গত ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর পরদিন, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে অধ্যাপক আবু সাদাতকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেন। একই দাবিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি শুরু করেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বন্ধ হয়ে যায় ক্লাস ও পরীক্ষা। এ সময় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে সংশ্লিষ্টরা ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিলে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয় বলে জানা গেছে।
তালা ভেঙে প্রবেশের পর পরিস্থিতির অবনতি
সোমবার সকালে ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এর পরপরই শিক্ষার্থীরা ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এতে উপাচার্যসহ ভেতরে থাকা অন্য ব্যক্তিরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এ ঘটনার মধ্যে চুয়েটের শিক্ষার্থীদের একটি বাসে হামলার ঘটনাও ঘটে। এ হামলায় উপাচার্যের ইন্ধনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগটির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অবরুদ্ধ অবস্থায় উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় দুই দফায়। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ক্যাম্পাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাঁদের উদ্যোগে অবশেষে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান উপাচার্য ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা।
তবে উপাচার্যকে ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির অবসান হলেও চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে এবং উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে চলমান বিরোধের সমাধান কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।





















