ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ১০৪৪ ভরি সোনা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ছয় বছরে জমা হয়েছে ১ হাজার ৪৪ ভরি সোনা ও ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা। এ ছাড়া পাওয়া গেছে ৩০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা। সোমবার (১২ অক্টোবর) দিনভর বাছাই, পরিমাপ ও গণনা শেষে এসব তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ছয় বছরে জমা হওয়া সোনার ওজন ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম এবং রুপার ওজন ১২ কেজি। দীর্ঘদিন ধরে দানবাক্সে জমা হওয়া এসব মূল্যবান ধাতু এবারই প্রথম একসঙ্গে পরিমাপ করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ৯টার দিকে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারি থেকে সিলগালা করা কন্টেইনার ও খাম বের করা হয়। পরে কড়া নিরাপত্তায় সেগুলো কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে নয়টি কন্টেইনারে রাখা সোনা-রুপা এবং ছয়টি সিলগালা খামে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা গণনা ও পরিমাপের কাজ শুরু হয়। দিনভর চলে এ কার্যক্রম।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের তত্ত্বাবধানে গণনা ও পরিমাপের কাজ পরিচালিত হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য ও ছয়জন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্য। এ কাজে অংশ নেন জেলা প্রশাসন, পাগলা মসজিদ ও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাঁদের সহযোগিতা করেন জুয়েলারি সমিতির ১০ জন স্বর্ণকার।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ জানান, ছয় বছরে জমা হওয়া সোনার পরিমাণ ১০৪৪ ভরি, যার ওজন ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম। আর রুপার পরিমাণ ১০৮৮ ভরি, যার ওজন ১২ কেজি।

গণনা কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা রূপালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ আলী হারেছী জানান, দানবাক্সে ৩০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। তবে সব মুদ্রার গণনা শেষ করতে আরও সময় প্রয়োজন।

নিলামে বিক্রি হবে সোনা-রুপা

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোনা ও রুপার বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণের পর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকের বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।

পাগলা মসজিদের দানবাক্স সাধারণত তিন মাস পরপর খোলা হয়। প্রতিবার নগদ অর্থের পাশাপাশি সোনা-দানা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া যায়। দানবাক্স খোলার পর নগদ অর্থ গণনা করে দ্রুত হিসাব প্রকাশ করা হলেও সোনা-রুপা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়।

সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ সোনা-রুপার হিসাব করা হয়েছিল। সে সময় প্রায় তিন বছরে জমা হওয়া ৪২০ ভরি সোনা ও ১৮৮ ভরি রুপা নিলামে বিক্রি করে ১ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১২০ টাকা পাওয়া যায়। বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে পাওয়া গিয়েছিল আরও ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।

২০২০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত পাগলা মসজিদের দানবাক্স ১৮ বার খোলা হয়েছে। তবে এবারই প্রথম সোনা-রুপা পরিমাপ এবং বৈদেশিক মুদ্রা গণনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মসজিদের তহবিলে ১৩১ কোটি টাকার বেশি

জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। এ ছাড়া মসজিদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনুদান হিসেবে এসেছে আরও ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা।

কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ দেশজুড়ে পরিচিত। মানত পূরণের আশায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে দান করেন। এসব অনুদানের অর্থ মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।

দীর্ঘ ছয় বছরে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবার সামনে আসায় পাগলা মসজিদের দানের পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ১০৪৪ ভরি সোনা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ছয় বছরে জমা হয়েছে ১ হাজার ৪৪ ভরি সোনা ও ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা। এ ছাড়া পাওয়া গেছে ৩০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা। সোমবার (১২ অক্টোবর) দিনভর বাছাই, পরিমাপ ও গণনা শেষে এসব তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ছয় বছরে জমা হওয়া সোনার ওজন ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম এবং রুপার ওজন ১২ কেজি। দীর্ঘদিন ধরে দানবাক্সে জমা হওয়া এসব মূল্যবান ধাতু এবারই প্রথম একসঙ্গে পরিমাপ করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ৯টার দিকে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারি থেকে সিলগালা করা কন্টেইনার ও খাম বের করা হয়। পরে কড়া নিরাপত্তায় সেগুলো কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে নয়টি কন্টেইনারে রাখা সোনা-রুপা এবং ছয়টি সিলগালা খামে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা গণনা ও পরিমাপের কাজ শুরু হয়। দিনভর চলে এ কার্যক্রম।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের তত্ত্বাবধানে গণনা ও পরিমাপের কাজ পরিচালিত হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য ও ছয়জন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্য। এ কাজে অংশ নেন জেলা প্রশাসন, পাগলা মসজিদ ও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাঁদের সহযোগিতা করেন জুয়েলারি সমিতির ১০ জন স্বর্ণকার।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ জানান, ছয় বছরে জমা হওয়া সোনার পরিমাণ ১০৪৪ ভরি, যার ওজন ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম। আর রুপার পরিমাণ ১০৮৮ ভরি, যার ওজন ১২ কেজি।

গণনা কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা রূপালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ আলী হারেছী জানান, দানবাক্সে ৩০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। তবে সব মুদ্রার গণনা শেষ করতে আরও সময় প্রয়োজন।

নিলামে বিক্রি হবে সোনা-রুপা

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোনা ও রুপার বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণের পর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকের বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।

পাগলা মসজিদের দানবাক্স সাধারণত তিন মাস পরপর খোলা হয়। প্রতিবার নগদ অর্থের পাশাপাশি সোনা-দানা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া যায়। দানবাক্স খোলার পর নগদ অর্থ গণনা করে দ্রুত হিসাব প্রকাশ করা হলেও সোনা-রুপা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়।

সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ সোনা-রুপার হিসাব করা হয়েছিল। সে সময় প্রায় তিন বছরে জমা হওয়া ৪২০ ভরি সোনা ও ১৮৮ ভরি রুপা নিলামে বিক্রি করে ১ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১২০ টাকা পাওয়া যায়। বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে পাওয়া গিয়েছিল আরও ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।

২০২০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত পাগলা মসজিদের দানবাক্স ১৮ বার খোলা হয়েছে। তবে এবারই প্রথম সোনা-রুপা পরিমাপ এবং বৈদেশিক মুদ্রা গণনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মসজিদের তহবিলে ১৩১ কোটি টাকার বেশি

জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। এ ছাড়া মসজিদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনুদান হিসেবে এসেছে আরও ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা।

কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ দেশজুড়ে পরিচিত। মানত পূরণের আশায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে দান করেন। এসব অনুদানের অর্থ মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।

দীর্ঘ ছয় বছরে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবার সামনে আসায় পাগলা মসজিদের দানের পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।