ইউক্রেনের গণ্ডি পেরিয়ে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে হামলার শঙ্কা, বাড়ছে উদ্বেগ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৬:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
ইউক্রেনে সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। ইউক্রেনকে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা দেওয়া ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো রাশিয়ার সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশ্লেষকদের ধারণা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি সাইবার আক্রমণের মাধ্যমেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে মস্কো।
যদিও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউরোপের বিরুদ্ধে আগ্রাসী মনোভাব পোষণ করেন না বলে জানিয়েছেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তিনি ইউরোপ ও ফ্রান্সের ওপর রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হুমকি’ আরও তীব্র হয়েছে বলে সতর্ক করেন।
ফ্রান্সে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ
২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ম্যাক্রোঁ। এরপর সম্ভাব্য ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা খাতের সংবেদনশীল স্থাপনাগুলো সুরক্ষায় একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ‘হাইব্রিড’ হামলার কোনো ঘটনাই প্রতিক্রিয়াহীন থাকবে না। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, রাশিয়া কোনো হামলা চালালে ফ্রান্স পালটা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তবে হামলার আশঙ্কা থাকলেও তা সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধকে ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে দেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে পোল্যান্ডের সতর্কতা
এর আগে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক দেশটির পার্লামেন্টে জানিয়েছিলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। এসব দেশের মধ্যে ন্যাটোর সদস্য পোল্যান্ডও রয়েছে।
টাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, মস্কো সম্ভাব্য হামলাকে ‘দুর্ঘটনাজনিত’ ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। এর মাধ্যমে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকর, তা যাচাই করার চেষ্টা হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অর্থাৎ, রাশিয়া সরাসরি বড় ধরনের হামলার পরিবর্তে সীমিত আকারের আঘাতের মাধ্যমে ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া পরিমাপ করতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর।
ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া নিয়ে নজর
ইউক্রেনকে ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এর ফলে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার সংঘাতের প্রভাব ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও পড়ছে।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি সাইবার আক্রমণ এবং অন্যান্য ‘হাইব্রিড’ কৌশল ব্যবহারের আশঙ্কায় ইউরোপের দেশগুলো নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করছে। রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপের জবাবে ন্যাটো কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, সেটিই এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।






















