ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অপ্রতীম হত্যা: গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়ার দাবি পুলিশের ছয় মাসেই সরকার পতনের হুঁশিয়ারি, বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির বিরোধ কোন পথে? নতুন স্কেলে বেতন কত বাড়বে, হিসাব করবেন যেভাবে এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর একাদশে ভর্তির চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, রোববার থেকে কলেজে ভর্তি শুরু আদমদীঘিতে বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে সাংবাদিকসহ পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ যাত্রাবাড়ীতে পরপর ৫ ককটেল বিস্ফোরণ, রিকশাচালক আহত জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান পাবনায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু  প্রেসক্লাব যশোরের নতুন সভাপতি জাহিদ, সম্পাদক নুর

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনজীবনের সংকট ও রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে বাড়ছে দূরত্ব

ছয় মাসেই সরকার পতনের হুঁশিয়ারি, বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির বিরোধ কোন পথে?

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১২:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সরকার পতনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ৮ দফা দাবিতে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচিতে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় প্রয়োজনে যেকোনো সময় এক দফা আন্দোলনের ঘোষণা আসতে পারে। পরবর্তী লংমার্চ ঢাকা অভিমুখে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান হয়েছে। তারেক রহমান হেলিকপ্টারে পালাবেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন—সেই সিদ্ধান্ত তাঁকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও বলেছিলেন, সরকার পতনের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে যেসব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে আন্দোলন করেছিল, তাদের একটি দল এখন সরকারে, অন্যরা বিরোধী অবস্থানে। একই সময়ে তাদের অভিন্ন প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম কার্যত নিষিদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে মিত্রদের মধ্যে সম্পর্কের এতটা অবনতি হলো কেন?

বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যকার বিরোধ কি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে? এই বিরোধ কি আবারও সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে? আর এমন সংঘাতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিণতি ভোগ করবে কারা?

গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়, সরকারের অবস্থান কী

ঢাকা-চট্টগ্রাম প্রথম লংমার্চের পথসভা ও সমাবেশগুলোতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, তেল-গ্যাস-সার সংকট নিরসন এবং নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মতো বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিয়েছিলেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা।

তবে রংপুরের লংমার্চে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় জামায়াতের শক্ত অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় ইস্যুকে সামনে এনে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াত আমিরের বক্তব্যেও জনজীবনের সংকটগুলো গুরুত্ব পায়। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংকটের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং চাঁদাবাজির বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।

সমর্থকদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। কোনো দলীয় দাবি নিয়ে নামিনি। ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি। গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ বলেছে। সরকার আপনাদের গণভোটকে অগ্রাহ্য করে আপনাদের অপমান করেছে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে রাস্তায় নেমেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন বাংলার মাটিতে হবে। এই বিএনপিই করতে বাধ্য হবে। পানি খাবে, কিন্তু ঘোলা করে খাবে। আজ আট দফা দাবি দিয়েছি। জনগণের প্রয়োজনে এই আট দফা যেকোনো এক দফায় পরিণত হতে পারে। আমরা দাবি আদায় করে ঘরে ফিরব।’

লংমার্চ নিয়ে বিএনপির অবস্থান

বিরোধী দলগুলোর লংমার্চ এবং এসব কর্মসূচিতে নেতাদের বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, দল বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে। তবে আপাতত তারা এসব কর্মসূচিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে রাজি নন।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিরোধী দল তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। তাদের যেসব দাবি বা বক্তব্য, তা নিয়ে সরকারের তরফ থেকে সংসদ ও সংসদের বাইরে পরিষ্কার বক্তব্য দেওয়া হয়েছে এবং সেটিই দেশের মানুষ সমর্থন করছে। সরকার মনে করে, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার নিয়ম মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছে।’

এর আগে বিরোধী দলগুলোর প্রথম লংমার্চ কর্মসূচির পর সংসদে সেটিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না? গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধ

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে জামায়াত ও সমমনা দলগুলো।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথও নিয়েছিলেন। তবে বিদ্যমান সংবিধানে এ ধরনের শপথের বিধান না থাকায় সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা এতে অংশ নেননি।

জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্য অন্তর্ভুক্তির জন্য নাম চাওয়া হলেও তারা তা দেয়নি।

কমিটি গঠনের প্রস্তাব তখন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এরপর থেকেই বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

সামনে কী হতে পারে

এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে গত ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে অনুষ্ঠিত জোটের অবস্থান কর্মসূচি থেকে ঢাকাসহ চারটি বিভাগীয় শহরে লংমার্চ ও মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন জোটের নেতা শফিকুর রহমান।

গণভোটের রায়, জুলাই সনদ, জনজীবনের সংকট এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য—এসব ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর অবস্থান ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। ফলে আগামী দিনে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির পারস্পরিক সম্পর্ক কোন দিকে যায়, তা দেশের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনজীবনের সংকট ও রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে বাড়ছে দূরত্ব

ছয় মাসেই সরকার পতনের হুঁশিয়ারি, বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির বিরোধ কোন পথে?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১২:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সরকার পতনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ৮ দফা দাবিতে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচিতে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় প্রয়োজনে যেকোনো সময় এক দফা আন্দোলনের ঘোষণা আসতে পারে। পরবর্তী লংমার্চ ঢাকা অভিমুখে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান হয়েছে। তারেক রহমান হেলিকপ্টারে পালাবেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন—সেই সিদ্ধান্ত তাঁকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও বলেছিলেন, সরকার পতনের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে যেসব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে আন্দোলন করেছিল, তাদের একটি দল এখন সরকারে, অন্যরা বিরোধী অবস্থানে। একই সময়ে তাদের অভিন্ন প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম কার্যত নিষিদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে মিত্রদের মধ্যে সম্পর্কের এতটা অবনতি হলো কেন?

বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যকার বিরোধ কি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে? এই বিরোধ কি আবারও সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে? আর এমন সংঘাতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিণতি ভোগ করবে কারা?

গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়, সরকারের অবস্থান কী

ঢাকা-চট্টগ্রাম প্রথম লংমার্চের পথসভা ও সমাবেশগুলোতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, তেল-গ্যাস-সার সংকট নিরসন এবং নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মতো বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিয়েছিলেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা।

তবে রংপুরের লংমার্চে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় জামায়াতের শক্ত অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় ইস্যুকে সামনে এনে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াত আমিরের বক্তব্যেও জনজীবনের সংকটগুলো গুরুত্ব পায়। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংকটের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং চাঁদাবাজির বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।

সমর্থকদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। কোনো দলীয় দাবি নিয়ে নামিনি। ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি। গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ বলেছে। সরকার আপনাদের গণভোটকে অগ্রাহ্য করে আপনাদের অপমান করেছে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে রাস্তায় নেমেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন বাংলার মাটিতে হবে। এই বিএনপিই করতে বাধ্য হবে। পানি খাবে, কিন্তু ঘোলা করে খাবে। আজ আট দফা দাবি দিয়েছি। জনগণের প্রয়োজনে এই আট দফা যেকোনো এক দফায় পরিণত হতে পারে। আমরা দাবি আদায় করে ঘরে ফিরব।’

লংমার্চ নিয়ে বিএনপির অবস্থান

বিরোধী দলগুলোর লংমার্চ এবং এসব কর্মসূচিতে নেতাদের বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, দল বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে। তবে আপাতত তারা এসব কর্মসূচিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে রাজি নন।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিরোধী দল তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। তাদের যেসব দাবি বা বক্তব্য, তা নিয়ে সরকারের তরফ থেকে সংসদ ও সংসদের বাইরে পরিষ্কার বক্তব্য দেওয়া হয়েছে এবং সেটিই দেশের মানুষ সমর্থন করছে। সরকার মনে করে, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার নিয়ম মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছে।’

এর আগে বিরোধী দলগুলোর প্রথম লংমার্চ কর্মসূচির পর সংসদে সেটিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না? গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধ

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে জামায়াত ও সমমনা দলগুলো।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথও নিয়েছিলেন। তবে বিদ্যমান সংবিধানে এ ধরনের শপথের বিধান না থাকায় সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা এতে অংশ নেননি।

জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্য অন্তর্ভুক্তির জন্য নাম চাওয়া হলেও তারা তা দেয়নি।

কমিটি গঠনের প্রস্তাব তখন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এরপর থেকেই বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

সামনে কী হতে পারে

এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে গত ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে অনুষ্ঠিত জোটের অবস্থান কর্মসূচি থেকে ঢাকাসহ চারটি বিভাগীয় শহরে লংমার্চ ও মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন জোটের নেতা শফিকুর রহমান।

গণভোটের রায়, জুলাই সনদ, জনজীবনের সংকট এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য—এসব ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর অবস্থান ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। ফলে আগামী দিনে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির পারস্পরিক সম্পর্ক কোন দিকে যায়, তা দেশের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।