ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজনীতিতে বেয়াদবির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, এর জবাব দেবে জনগণ’ : মুন্না কৃষি, আইটি ও অবকাঠামো খাতে মার্কিন বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের মূর্তমান প্রতীক: তথ্যমন্ত্রী সরকার-ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা প্রধানমন্ত্রীর বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় নতুন স্বপ্ন দেখছেন গোবিন্দগঞ্জের নারীরা সাইবার সন্ত্রাস: নাগরিক নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ দুর্নীতির পুরোনো জালে আটকে গেল জুলাইয়ের স্বপ্ন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি গোলাম পরওয়ারের যশোরে বাজুসের খুলনা মতবিনিময়, জুয়েলারি খাতকে রপ্তানিমুখী করার প্রত্যয় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু, সংস্কারকাজ উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

কৃষি, আইটি ও অবকাঠামো খাতে মার্কিন বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গমসহ কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়লে বাংলাদেশের সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক হবে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

বৈঠকে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। এর প্রতিফলন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে, যা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরবে।

বৈঠকে আগামী মাসে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়।

শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ও গুরুত্ব পায়। সার্জিও গর বাংলাদেশে এফডিএর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে সহায়তার আশ্বাস দেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশন (ডিএফসি)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানালে বিশেষ দূত জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে ঢাকায় একটি ইউএস ইনভেস্টর সামিট আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। জবাবে সার্জিও গর বলেন, বাংলাদেশের আইটি খাতে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশটি প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটও বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সার্জিও গর বাংলাদেশ সরকারের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং আশ্রয় দেওয়া ও সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার সবচেয়ে বড় অংশের একটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জবাবে সার্জিও গর বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত, টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আসিয়ানভুক্ত প্রতিবেশী দেশসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনসেনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কৃষি, আইটি ও অবকাঠামো খাতে মার্কিন বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গমসহ কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়লে বাংলাদেশের সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক হবে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

বৈঠকে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। এর প্রতিফলন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে, যা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরবে।

বৈঠকে আগামী মাসে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়।

শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ও গুরুত্ব পায়। সার্জিও গর বাংলাদেশে এফডিএর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে সহায়তার আশ্বাস দেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশন (ডিএফসি)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানালে বিশেষ দূত জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে ঢাকায় একটি ইউএস ইনভেস্টর সামিট আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। জবাবে সার্জিও গর বলেন, বাংলাদেশের আইটি খাতে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশটি প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটও বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সার্জিও গর বাংলাদেশ সরকারের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং আশ্রয় দেওয়া ও সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার সবচেয়ে বড় অংশের একটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জবাবে সার্জিও গর বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত, টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আসিয়ানভুক্ত প্রতিবেশী দেশসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনসেনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।