কুমিল্লার পর্যটন কেন্দ্রে ঈদের ভিড়, উপচে পড়ছে দর্শনার্থী
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ ৯৩ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটন নগরী কুমিল্লায় এখন উৎসবের আমেজ। ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন কুমিল্লার অর্ধশতাধিক ঐতিহাসিক ও বিনোদন কেন্দ্রে। পাহাড়, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আর আধুনিক থিম পার্কের এক অনন্য সমন্বয় হওয়ায় এবারের ঈদে কুমিল্লার পর্যটন স্পটগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রেই এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই।
ঈদের দিন বিকেল থেকেই কুমিল্লার কোটবাড়ি, লালমাই ও ময়নামতি এলাকার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল নামতে শুরু করে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে আসা পরিবারগুলোর প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যাজিক প্যারাডাইস এবং ব্লু ওয়াটার পার্ক। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে তৈরি কৃত্রিম ঝর্ণা, রোলার কোস্টার আর ডাইনোসর পার্কের বৈচিত্র্যময় রাইডে মেতেছে ছোট-বড় সবাই। পাশেই অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) প্রাঙ্গণে নীলাচল পাহাড় আর বনকুটিরের শান্ত প্রকৃতিতে সময় কাটাচ্ছেন অনেক প্রকৃতিপ্রেমী।
ইতিহাসের টানে দর্শনার্থীদের বড় একটি অংশ ভিড় করছেন অষ্টম শতকের পুরাকীর্তি শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরে। বৌদ্ধ বিহারের লাল ইটের প্রাচীন স্থাপত্য আর রূপবান মুড়া কিংবা কোটিলামুড়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব পর্যটকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করছে। অনেকে আবার শ্রদ্ধাভরে ঘুরে দেখছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি। এছাড়া লালমাই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ১৩শ বছরের প্রাচীন চন্ডি মন্দির ও দুতিয়া দীঘি দেখতেও ভিড় জমাচ্ছেন সংস্কৃতিমনা পর্যটকরা।
নগরীর প্রাণকেন্দ্র বাদুরতলায় অবস্থিত সাড়ে পাঁচশ বছরের প্রাচীন ধর্মসাগর দীঘির পাড়েও এখন উপচে পড়া ভিড়। দীঘির স্বচ্ছ জলে নৌকা ভ্রমণ আর পাড় সংলগ্ন নগর পার্ক ও রাণীর কুটিরে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কুমিল্লার ঐতিহ্যের সাথে মিশে থাকা শচিন দেব বর্মনের বাড়ি, ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ি এবং মুরাদনগরের দৌলতপুরে কবি নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা ভিড় করছেন। শৌখিন ক্রেতারা ভুলে যাচ্ছেন না বিজয়পুরের মৃৎশিল্প এলাকা ঘুরে দেখতে, যেখান থেকে মাটির তৈরি নানা তৈজসপত্র কেনায় ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে অনেককে।
পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ময়নামতি ও কোটবাড়ি এলাকায় যানবাহনের চাপ কিছুটা বাড়লেও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জেলা পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাদাপোশাকে নজরদারির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য নিতে ৯৯৯ নম্বরে কল করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতেও রাখা হয়েছে বিশেষ তদারকি। সব মিলিয়ে কুমিল্লার প্রাকৃতিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের এই সমাহার এবারের ঈদ আনন্দে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।





















