ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: আদালতে বর্ণনা শুনে আবেগাপ্লুত সবাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

বিমানের সাবেক এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমান

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীতে ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীর ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় আদালতে উঠে এসেছে লোমহর্ষক তথ্য। শুনানির সময় ভুক্তভোগীর শরীরজুড়ে আঘাত ও নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরেন বিচারক, যা শুনে উপস্থিত আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টরা বেদনাহত হন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সাফিকুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রী বীথি আক্তারসহ চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মামলা এবং নির্যাতনের কারণ ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে রিমান্ড প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, শিশু আইনে ১২ বছরের নিচে কাউকে গৃহকর্মে নিয়োগের সুযোগ নেই। উচ্চপদে থাকা সত্ত্বেও কেন শিশুকে কাজে রাখা হয়েছে এবং কীভাবে এমন নির্যাতন করা হয়েছে—তা তদন্তে বের করা জরুরি।

শুনানির সময় বিচারক ভুক্তভোগী শিশুর দেওয়া জবানবন্দির অংশ পড়ে শোনান। এতে উল্লেখ করা হয়, তার মুখ থেকে গলা পর্যন্ত পোড়ার দাগ, কপাল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠির আঘাত, পায়ে খুন্তির ছ্যাঁকা, পিঠে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তাকে বাথরুমে আটকে রাখা, পর্যাপ্ত খাবার না দেওয়া, মরিচের গুঁড়া চোখে দেওয়া এবং শীতের মধ্যেও প্রয়োজনীয় কাপড় না দেওয়ার মতো নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এসেছে।

বিচারকের বর্ণনা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন অমানবিক পরিবেশে থাকার কারণে শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শুনানিতে আসামিরা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে আদালত প্রাথমিক তথ্য ও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় সাফিকুর রহমানের পাঁচ দিন, তাঁর স্ত্রী বীথি আক্তারের সাত দিন, গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের পাঁচ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং শিশু গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: আদালতে বর্ণনা শুনে আবেগাপ্লুত সবাই

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীতে ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীর ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় আদালতে উঠে এসেছে লোমহর্ষক তথ্য। শুনানির সময় ভুক্তভোগীর শরীরজুড়ে আঘাত ও নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরেন বিচারক, যা শুনে উপস্থিত আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টরা বেদনাহত হন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সাফিকুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রী বীথি আক্তারসহ চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মামলা এবং নির্যাতনের কারণ ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে রিমান্ড প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, শিশু আইনে ১২ বছরের নিচে কাউকে গৃহকর্মে নিয়োগের সুযোগ নেই। উচ্চপদে থাকা সত্ত্বেও কেন শিশুকে কাজে রাখা হয়েছে এবং কীভাবে এমন নির্যাতন করা হয়েছে—তা তদন্তে বের করা জরুরি।

শুনানির সময় বিচারক ভুক্তভোগী শিশুর দেওয়া জবানবন্দির অংশ পড়ে শোনান। এতে উল্লেখ করা হয়, তার মুখ থেকে গলা পর্যন্ত পোড়ার দাগ, কপাল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠির আঘাত, পায়ে খুন্তির ছ্যাঁকা, পিঠে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তাকে বাথরুমে আটকে রাখা, পর্যাপ্ত খাবার না দেওয়া, মরিচের গুঁড়া চোখে দেওয়া এবং শীতের মধ্যেও প্রয়োজনীয় কাপড় না দেওয়ার মতো নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এসেছে।

বিচারকের বর্ণনা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন অমানবিক পরিবেশে থাকার কারণে শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শুনানিতে আসামিরা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে আদালত প্রাথমিক তথ্য ও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় সাফিকুর রহমানের পাঁচ দিন, তাঁর স্ত্রী বীথি আক্তারের সাত দিন, গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের পাঁচ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং শিশু গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।