বৈভবের প্রভাব এবার দক্ষিণ আফ্রিকায়, দাম দেড় কোটির বেশি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আইপিএল মাতিয়ে ক্রিকেটবিশ্বের নজর কেড়েছে বৈভব সূর্যবংশী। তার ব্যাটিং ও পরিণত ক্রিকেটীয় মানসিকতা তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে। সেই প্রবণতারই প্রতিফলন দেখা গেল দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ লিগের নিলামে। মাত্র ১৮ বছর বয়সী অলরাউন্ডার জেসন রাওলসকে দলে নিতে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা খরচ করেছে জোবার্গ সুপার কিংস।
রাওলসকে দলে পেতে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে এমআই কেপ টাউনও। তবে শেষ হাসি হেসেছে জোবার্গ সুপার কিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক এই বাঁহাতি ক্রিকেটার নিলামে নজর কেড়েছেন অভিজ্ঞ তারকাদের ভিড়েও। কায়রন পোলার্ড, ট্রেন্ট বোল্ট ও ফাফ ডু’প্লেসির মতো পরিচিত ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে তরুণ রাওলসের এমন দাম পাওয়া বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
জানা গেছে, রাওলসকে পেতে জোবার্গ সুপার কিংস খরচ করেছে ২৯ লাখ দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তাঁর এই মূল্য তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বাড়তি আগ্রহেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৈভবের সাফল্যে বদলাচ্ছে তরুণদের মূল্যায়ন
বৈভব সূর্যবংশীকে মাত্র ১৩ বছর বয়সে ১ কোটি ১০ লাখ রুপিতে দলে নিয়ে আলোচনায় এসেছিল রাজস্থান রয়্যালস। এরপর আইপিএলে তাঁর পারফরম্যান্স তরুণ ক্রিকেটারদের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে। অল্প বয়সেও বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করা সম্ভব—বৈভবের সাফল্য সেই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে।
এসএ২০ লিগের কমিশনার গ্রেম স্মিথের মতে, তরুণ প্রতিভাদের ওপর ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আস্থা বাড়ছে। প্রতিভা শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের সামনে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ তৈরি করে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
স্মিথের ভাষ্য, বৈভবকে আইপিএলে দেখার পর বিশ্বজুড়ে তরুণ ক্রিকেটারদের ওপর আস্থা রাখার প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার লিগেও অনূর্ধ্ব-২৩ ক্রিকেটারদের ভালো দাম পাওয়া সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কোয়েনা মাফাকা ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের মতো তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতিও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহ রয়েছে। স্মিথ মনে করেন, তরুণদের এমন সুযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
বড় দাম পেলেই কি নিশ্চিত সাফল্য?
নিলামে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়া একজন তরুণ ক্রিকেটারের প্রতিভার স্বীকৃতি হলেও, তাৎক্ষণিক সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। কম বয়সে বড় মঞ্চে খেলার চাপ সামলানো, ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা—সবই গুরুত্বপূর্ণ।
এমআই কেপ টাউনের প্রধান কোচ রবিন পিটারসনের মতে, বৈভবের মতো ক্রিকেটাররা তরুণদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নতুন আলোচনা তৈরি করেছেন। তবে শুধু প্রতিভা দেখে কাউকে দলে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। খেলোয়াড়ের মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস এবং ক্রিকেটীয় উন্নতির পথেও নজর রাখা প্রয়োজন।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ও কোচদের পরিকল্পিত পরিচর্যা তরুণদের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, এসএ২০ নিলামে জেসন রাওলসের উচ্চমূল্যে দল পাওয়া শুধু একজন তরুণ ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নতুন প্রতিভা খোঁজা ও তাদের ওপর বিনিয়োগের বাড়তি প্রবণতাকেও সামনে এনেছে। এখন দেখার বিষয়, নিলামে পাওয়া এই আস্থাকে মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা কাজে লাগাতে পারেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই তরুণ অলরাউন্ডার।






















