ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিরিয়ানি রান্নায় চাল ভেঙে যাচ্ছে? রইল ঝরঝরে রাখার কৌশল ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসের চেয়ারে বসে কাজ? অজান্তেই বাড়তে পারে ঝুঁকি বৈভবের প্রভাব এবার দক্ষিণ আফ্রিকায়, দাম দেড় কোটির বেশি পাঠাওয় থেকে ১ কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের তথ্য চুরির , বাড়ছে সাইবার ঝুঁকি শুভ মহালয়া আজ, দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু পাহাড় রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির মৌলভীবাজার কমিটি, জিতু সভাপতি-সুমন সম্পাদক ‘নুন-পান্তা খেয়েও ছেলের সঙ্গে থাকতে চাই’ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে বসুন্ধরার ব্যতিক্রমী ক্রীড়া আয়োজন ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রের সংগ্রাম থামানো যাবে না: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত টাইব্রেকারের রোমাঞ্চে জয়পুরহাট সদরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন কালাই

শুভ মহালয়া আজ, দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা নিয়ে আজ শনিবার উদযাপিত হচ্ছে শুভ মহালয়া। মহালয়ার মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনা হয়। এদিন ভোরে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা ও পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

মহালয়া কেবল দুর্গাপূজার ক্ষণগণনার সূচনা নয়, প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের আত্মার শান্তি কামনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষা শুরু হয়।

পুরাণ অনুযায়ী, মহালয়ার তিথিতেই দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান। বরপ্রাপ্ত মহিষাসুরের অত্যাচারে দেবতারা স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হলে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত শক্তিতে আবির্ভূত হন মহামায়া দুর্গা। দেবতাদের দেওয়া দশ অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী দেবী নয় দিনব্যাপী যুদ্ধে মহিষাসুরকে পরাজিত ও বধ করেন।

মহালয়ার ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে নদী ও জলাশয়ে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করা হয়। জল, তিল ও অন্ন নিবেদনের মাধ্যমে প্রয়াত আত্মীয়স্বজনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান অনেকে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা এবং মহালয়ার ঘট স্থাপনের আয়োজন করা হয়।

রাজধানী ঢাকায় মহালয়া উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল উপাসনালয়সহ বিভিন্ন মন্দিরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ভোর থেকেই এসব আয়োজনে ভক্তদের সমাগম হওয়ার কথা রয়েছে।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহালয়ার অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। রমনা কালীমন্দিরেও মহালয়া উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মিন্টু বসু।

এ ছাড়া রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির এবং জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে চণ্ডীপাঠ ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে মহালয়া উদযাপিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল উপাসনালয়ের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী জানান, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায় হবে বলে প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বাসসকে জানান, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটিও তিন দিন করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটিসহ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়ার কথা রয়েছে।

পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্যান্ডেল নির্মাণ, প্রতিমা স্থাপন, আলোকসজ্জা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং চলাচল নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও চলছে।

ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দুর্গাপূজা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দেবীপক্ষের আবহে এখন অপেক্ষা দেবী দুর্গার আগমন এবং শারদীয় উৎসবের।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শুভ মহালয়া আজ, দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা নিয়ে আজ শনিবার উদযাপিত হচ্ছে শুভ মহালয়া। মহালয়ার মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনা হয়। এদিন ভোরে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা ও পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

মহালয়া কেবল দুর্গাপূজার ক্ষণগণনার সূচনা নয়, প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের আত্মার শান্তি কামনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষা শুরু হয়।

পুরাণ অনুযায়ী, মহালয়ার তিথিতেই দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান। বরপ্রাপ্ত মহিষাসুরের অত্যাচারে দেবতারা স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হলে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত শক্তিতে আবির্ভূত হন মহামায়া দুর্গা। দেবতাদের দেওয়া দশ অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী দেবী নয় দিনব্যাপী যুদ্ধে মহিষাসুরকে পরাজিত ও বধ করেন।

মহালয়ার ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে নদী ও জলাশয়ে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করা হয়। জল, তিল ও অন্ন নিবেদনের মাধ্যমে প্রয়াত আত্মীয়স্বজনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান অনেকে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা এবং মহালয়ার ঘট স্থাপনের আয়োজন করা হয়।

রাজধানী ঢাকায় মহালয়া উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল উপাসনালয়সহ বিভিন্ন মন্দিরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ভোর থেকেই এসব আয়োজনে ভক্তদের সমাগম হওয়ার কথা রয়েছে।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহালয়ার অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। রমনা কালীমন্দিরেও মহালয়া উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মিন্টু বসু।

এ ছাড়া রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির এবং জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে চণ্ডীপাঠ ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে মহালয়া উদযাপিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল উপাসনালয়ের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী জানান, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায় হবে বলে প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বাসসকে জানান, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটিও তিন দিন করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটিসহ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়ার কথা রয়েছে।

পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্যান্ডেল নির্মাণ, প্রতিমা স্থাপন, আলোকসজ্জা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং চলাচল নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও চলছে।

ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দুর্গাপূজা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দেবীপক্ষের আবহে এখন অপেক্ষা দেবী দুর্গার আগমন এবং শারদীয় উৎসবের।