ঢাকা ০১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেলের চুক্তি

জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট চান ট্রাম্প

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি চুক্তি নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনার জবাবে তাঁকেই নিশানা করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মন্তব্য, ইউক্রেনে এবার নতুন প্রেসিডেন্ট আসার সময় হয়েছে—এমন একজন নেতা, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করতে পারবেন।

রাশিয়ার ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করে দেশটি থেকে ডিজেল কেনার চুক্তি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়াকে জ্বালানি বিক্রির সুযোগ দেওয়া মানে কার্যত দেশটির যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতায় বিনিয়োগ করা। এর পরই ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, তাঁর মনে হয় ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, এমন একজন নেতা দরকার, যিনি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন। কোনো কারণে জেলেনস্কি তা পারছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাশিয়া থেকে ৩ লাখ টন ডিজেল কেনার ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল কেনার চুক্তির কথা জানান ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি বলেন, রাশিয়া থেকে ডিজেল কিনবে যুক্তরাষ্ট্র। অবিলম্বে তিন লাখ টন ডিজেল মার্কিন বাজারে পাঠানোর বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হতো না। তাঁর অভিযোগ, নেতৃত্বের অযোগ্যতার কারণে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছে। জেলেনস্কির নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইউক্রেন ইতিমধ্যে তার ভূখণ্ডের ৩০ শতাংশ হারিয়েছে এবং যুদ্ধে ২০ লাখ মানুষ মারা গেছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা ও ভূখণ্ড হারানোর বিষয়ে ট্রাম্পের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

‘পুতিনকে উপহার দিলে শান্তি আসবে না’

রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পুতিনকে উপহার দিলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। বরং রাশিয়া আরও আগ্রাসী পদক্ষেপের মাধ্যমে এর জবাব দিতে পারে।

জেলেনস্কির বক্তব্য, রাশিয়াকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বিক্রির সুযোগ দেওয়া মানে দেশটির যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতায় বিনিয়োগ করা। মস্কোর সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্বল আলোচনায় কোনো লাভ হবে না।

এদিকে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তির পর শনিবার ইউক্রেনে রুশ হামলার অভিযোগ উঠেছে। ওই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলার বিস্তারিত এবং চুক্তির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর চাপ?

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনে খারাপ ফল হলে কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টি নিজেদের প্রভাব হারাতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

তাঁদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের অসন্তোষ কমাতে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল কেনার চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে নির্বাচনের হিসাব মাথায় রেখেই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন দাবির পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য, ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি—তিনটি বিষয়ই এখন আলোচনায়। জেলেনস্কির নেতৃত্ব নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য দুই দেশের অবস্থানগত দূরত্ব আরও স্পষ্ট করেছে। তবে এই বক্তব্য ইউক্রেনের রাজনৈতিক নেতৃত্বে বাস্তব কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেলের চুক্তি

জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট চান ট্রাম্প

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি চুক্তি নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনার জবাবে তাঁকেই নিশানা করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মন্তব্য, ইউক্রেনে এবার নতুন প্রেসিডেন্ট আসার সময় হয়েছে—এমন একজন নেতা, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করতে পারবেন।

রাশিয়ার ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করে দেশটি থেকে ডিজেল কেনার চুক্তি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়াকে জ্বালানি বিক্রির সুযোগ দেওয়া মানে কার্যত দেশটির যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতায় বিনিয়োগ করা। এর পরই ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, তাঁর মনে হয় ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, এমন একজন নেতা দরকার, যিনি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন। কোনো কারণে জেলেনস্কি তা পারছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাশিয়া থেকে ৩ লাখ টন ডিজেল কেনার ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল কেনার চুক্তির কথা জানান ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি বলেন, রাশিয়া থেকে ডিজেল কিনবে যুক্তরাষ্ট্র। অবিলম্বে তিন লাখ টন ডিজেল মার্কিন বাজারে পাঠানোর বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হতো না। তাঁর অভিযোগ, নেতৃত্বের অযোগ্যতার কারণে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছে। জেলেনস্কির নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইউক্রেন ইতিমধ্যে তার ভূখণ্ডের ৩০ শতাংশ হারিয়েছে এবং যুদ্ধে ২০ লাখ মানুষ মারা গেছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা ও ভূখণ্ড হারানোর বিষয়ে ট্রাম্পের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

‘পুতিনকে উপহার দিলে শান্তি আসবে না’

রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পুতিনকে উপহার দিলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। বরং রাশিয়া আরও আগ্রাসী পদক্ষেপের মাধ্যমে এর জবাব দিতে পারে।

জেলেনস্কির বক্তব্য, রাশিয়াকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বিক্রির সুযোগ দেওয়া মানে দেশটির যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতায় বিনিয়োগ করা। মস্কোর সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্বল আলোচনায় কোনো লাভ হবে না।

এদিকে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তির পর শনিবার ইউক্রেনে রুশ হামলার অভিযোগ উঠেছে। ওই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলার বিস্তারিত এবং চুক্তির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর চাপ?

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনে খারাপ ফল হলে কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টি নিজেদের প্রভাব হারাতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

তাঁদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের অসন্তোষ কমাতে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল কেনার চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে নির্বাচনের হিসাব মাথায় রেখেই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন দাবির পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য, ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি—তিনটি বিষয়ই এখন আলোচনায়। জেলেনস্কির নেতৃত্ব নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য দুই দেশের অবস্থানগত দূরত্ব আরও স্পষ্ট করেছে। তবে এই বক্তব্য ইউক্রেনের রাজনৈতিক নেতৃত্বে বাস্তব কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।