প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা জোরদার করতে আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের অন্যতম লক্ষ্য হবে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। বিশেষ করে চলমান বড় প্রকল্পগুলোতে জাপানি বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নতুন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে।
তিনি বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানি সংকট ও স্থায়িত্ব নিয়ে গত এপ্রিলে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আয়োজিত বিশেষ অনলাইন সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছিলেন, তা দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারেও উদ্যোগ
জাপান সফরের প্রস্তুতির পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগের কথাও জানান হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, সৌদি যুবরাজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। সুবিধাজনক সময়ে সফরটি অনুষ্ঠিত হবে।
একই সঙ্গে সৌদি যুবরাজও বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। উপযুক্ত সময়ে তাঁর ঢাকা সফরের আয়োজন করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈদেশিক সহায়তা থেকে বিনিয়োগ অংশীদারত্বে গুরুত্ব
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়।
সেমিনারে উঠে আসে, বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উদীয়মান ও উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা। এ ক্ষেত্রে জাপানের মতো উন্নত অর্থনীতির দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কূটনীতিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিষয়ে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি হয়, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরিধি বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
























