ভাড়া বাসায় আটকে মুদি ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ৩
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
ভাড়া বাসায় আটকে রেখে এক মুদি ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মারধর ও প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে ওই ব্যবসায়ী ও তাঁর স্বজনদের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চল (৪৭), নাটোরের লালপুর উপজেলার বৃষ্টি খাতুন (৩৫) এবং ঈশ্বরদীর পিয়ারাখালী জামতলা এলাকার মুক্তি খাতুন (২৫)। মামলায় আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী জামিরুল ইসলাম (৩৫) বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর বাজারের একজন মুদি ব্যবসায়ী। অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর পূর্বপরিচয় ছিল। তাঁদের কাছে দোকানের বকেয়া টাকাও পাওনা ছিল তাঁর।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, মুক্তি খাতুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের সূত্র ধরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পিয়ারাখালী জামতলার ‘মমতাজ ভিলা’ ভবনের তৃতীয় তলার একটি ভাড়া বাসায় যান জামিরুল। সেখানে মুক্তি ও বৃষ্টি খাতুন তাঁকে বসিয়ে নাশতা খেতে দেন।
কিছুক্ষণ পর সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চলসহ আরও তিন থেকে চারজন ওই বাসায় আসেন। একপর্যায়ে মুক্তি খাতুনের সঙ্গে জামিরুলের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে তাঁর কাছে থাকা ছবি ও ভিডিও স্ত্রীকে দেখানোর ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাণনাশের ভয় দেখানোর পর জামিরুল তাঁর স্ত্রী আসমা খাতুনকে ফোন করে টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। পরে তাঁর স্ত্রী ও দুই বন্ধু চন্ডিপুর থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়ে ঈশ্বরদীর ওই বাসায় পৌঁছান।
এজাহারে বলা হয়েছে, ওই টাকা সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চলের হাতে তুলে দেওয়া হয়। টাকা পাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে জামিরুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাসা থেকে মুক্তি পাওয়ার সময় বিষয়টি প্রকাশ করলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। পরে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





















