ঢাকা ০৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এমপি নজরুলের ৪ দিন, প্রথম স্ত্রী মাকসুদার একদিনের রিমান্ড এমপি নজরুলের গ্রেপ্তারের বিষয় জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দেবে পুলিশ, তদন্তে মরিয়মের চিরকুট বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত: প্রতিমন্ত্রী জয়পুরহাটে গৃহবধূ সাজেদা হত্যা মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন ঝালকাঠিতে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে ‘বাংলা কিউআর’ বাস্তবায়নে র‍্যালি কোটি টাকার যানবাহন ডাম্পিংয়ে নষ্ট, রেকার বাণিজ্যের নেপথ্যে কারা? জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ধাক্কা, পরিবহন ব্যয় থেকে নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ দেবিদ্বারে মা-ভাবি-ভাতিজিকে গলা কেটে হত্যা, হাসপাতালে ভাবিরও মৃত্যু এমপি নজরুলের বাসায় দ্বিতীয় স্ত্রীর শেষ চিঠি, উঠে এসেছে সম্পর্কের টানাপোড়েন বিমানবন্দর রেলস্টেশনে পরিচয়, জামালপুরে নিয়ে যৌনপল্লীতে বিক্রি

এমপি নজরুলের গ্রেপ্তারের বিষয় জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দেবে পুলিশ, তদন্তে মরিয়মের চিরকুট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:২৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্ধার হওয়া চিরকুটগুলো তাঁর নিজের লেখা কি না, তা-ও তদন্ত করা হচ্ছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইবনে মিজান এ তথ্য জানান।

ডিসি বলেন, ‘গাজী নজরুল ইসলামের গ্রেপ্তার ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সংসদের স্পিকারকে পুলিশের পক্ষ থেকে চিঠি লেখা হচ্ছে। সেখানে শুধু স্পিকারকে এসব বিষয়ে অবগত করা হবে।’

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন বলে জানা গেছে।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অপর আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান এখনো গ্রেপ্তার হননি।

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা

মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গত রোববার রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।

মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর সময় গাজী নজরুল ও মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে তাঁদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ জানায়, মামলার এজাহার অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা গ্রামের মুদিদোকানি এস এম মাসুম বিল্লাহর বড় মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়মকে নিয়ে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন তিনি। সেখানে তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমও থাকতেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। মামলায় আরও বলা হয়েছে, আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়েছিল।

উদ্ধার চিরকুটে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা

মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে যায় শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চিরকুটগুলোতে মরিয়মের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, মানসিক কষ্ট, অভিমান ও ক্ষোভের কথা লেখা রয়েছে। এর একটিতে লেখা—

‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবই বা কেমনে যুদ্ধে—শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’

অন্য একটি চিরকুটে লেখা রয়েছে, ‘আমি হেরেছি—তুমি জিতেছো—কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো।’

আরেকটি চিরকুটে লেখা হয়েছে, ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী—কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের, আর আমি ছিলাম বোকা…!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ…!!! কাউকে অধিক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ…… ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়….. ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’

আরেক চিরকুটে মরিয়ম লিখেছেন, ‘শুধুই মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই…. তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই।’

তবে উদ্ধার হওয়া চিরকুটগুলো সত্যিই মরিয়মের লেখা কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ডিসি মোহাম্মদ ইবনে মিজান বলেন, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট কিছু চিরকুট উদ্ধার করেছে। ফরেনসিক প্রক্রিয়া শেষে সিআইডি এগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। হাতের লেখা মিলিয়ে দেখা অথবা সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে চিরকুটগুলো মরিয়মের লেখা কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনার তদন্তে বিভিন্ন আলামত

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত ন্যাম ভবনের বাসায় যেতে বলেন। খবর পেয়ে মাসুম বিল্লাহ তাঁর শ্যালিকা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। বাসায় গিয়ে তাঁরা অনেক মানুষের ভিড় দেখতে পান। পরে জানতে পারেন, একটি কক্ষে মরিয়ম গলায় ফাঁস দিয়েছেন।

পুলিশের সহায়তায় এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। সেখানে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর বিছানার ওপর থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধারের কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুট ও অন্যান্য আলামত সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট সংগ্রহ করেছে। চিরকুটগুলোর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং মরিয়মের মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে গাজী নজরুল ইসলামসহ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে কি না, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিসি মোহাম্মদ ইবনে মিজান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

এমপি নজরুলের গ্রেপ্তারের বিষয় জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দেবে পুলিশ, তদন্তে মরিয়মের চিরকুট

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:২৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্ধার হওয়া চিরকুটগুলো তাঁর নিজের লেখা কি না, তা-ও তদন্ত করা হচ্ছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইবনে মিজান এ তথ্য জানান।

ডিসি বলেন, ‘গাজী নজরুল ইসলামের গ্রেপ্তার ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সংসদের স্পিকারকে পুলিশের পক্ষ থেকে চিঠি লেখা হচ্ছে। সেখানে শুধু স্পিকারকে এসব বিষয়ে অবগত করা হবে।’

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন বলে জানা গেছে।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অপর আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান এখনো গ্রেপ্তার হননি।

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা

মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গত রোববার রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।

মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর সময় গাজী নজরুল ও মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে তাঁদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ জানায়, মামলার এজাহার অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা গ্রামের মুদিদোকানি এস এম মাসুম বিল্লাহর বড় মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়মকে নিয়ে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন তিনি। সেখানে তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমও থাকতেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। মামলায় আরও বলা হয়েছে, আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়েছিল।

উদ্ধার চিরকুটে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা

মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে যায় শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চিরকুটগুলোতে মরিয়মের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, মানসিক কষ্ট, অভিমান ও ক্ষোভের কথা লেখা রয়েছে। এর একটিতে লেখা—

‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবই বা কেমনে যুদ্ধে—শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’

অন্য একটি চিরকুটে লেখা রয়েছে, ‘আমি হেরেছি—তুমি জিতেছো—কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো।’

আরেকটি চিরকুটে লেখা হয়েছে, ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী—কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের, আর আমি ছিলাম বোকা…!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ…!!! কাউকে অধিক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ…… ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়….. ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’

আরেক চিরকুটে মরিয়ম লিখেছেন, ‘শুধুই মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই…. তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই।’

তবে উদ্ধার হওয়া চিরকুটগুলো সত্যিই মরিয়মের লেখা কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ডিসি মোহাম্মদ ইবনে মিজান বলেন, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট কিছু চিরকুট উদ্ধার করেছে। ফরেনসিক প্রক্রিয়া শেষে সিআইডি এগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। হাতের লেখা মিলিয়ে দেখা অথবা সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে চিরকুটগুলো মরিয়মের লেখা কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনার তদন্তে বিভিন্ন আলামত

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত ন্যাম ভবনের বাসায় যেতে বলেন। খবর পেয়ে মাসুম বিল্লাহ তাঁর শ্যালিকা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। বাসায় গিয়ে তাঁরা অনেক মানুষের ভিড় দেখতে পান। পরে জানতে পারেন, একটি কক্ষে মরিয়ম গলায় ফাঁস দিয়েছেন।

পুলিশের সহায়তায় এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। সেখানে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর বিছানার ওপর থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধারের কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুট ও অন্যান্য আলামত সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট সংগ্রহ করেছে। চিরকুটগুলোর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং মরিয়মের মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে গাজী নজরুল ইসলামসহ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে কি না, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিসি মোহাম্মদ ইবনে মিজান।