ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠিতে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে ‘বাংলা কিউআর’ বাস্তবায়নে র‍্যালি কোটি টাকার যানবাহন ডাম্পিংয়ে নষ্ট, রেকার বাণিজ্যের নেপথ্যে কারা? জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ধাক্কা, পরিবহন ব্যয় থেকে নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ দেবিদ্বারে মা-ভাবি-ভাতিজিকে গলা কেটে হত্যা, হাসপাতালে ভাবিরও মৃত্যু এমপি নজরুলের বাসায় দ্বিতীয় স্ত্রীর শেষ চিঠি, উঠে এসেছে সম্পর্কের টানাপোড়েন বিমানবন্দর রেলস্টেশনে পরিচয়, জামালপুরে নিয়ে যৌনপল্লীতে বিক্রি দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেনের গণ্ডি পেরিয়ে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে হামলার শঙ্কা, বাড়ছে উদ্বেগ ইউপি ভোট নিয়ে নতুন হিসাব, নজর জানুয়ারিতে

কোটি টাকার যানবাহন ডাম্পিংয়ে নষ্ট, রেকার বাণিজ্যের নেপথ্যে কারা?

আবুল কাশেম রুমন,সিলেট
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪৬:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেটে ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে জব্দ করা হাজার হাজার যানবাহন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) ট্রাফিক বিভাগের ডাম্পিং ইয়ার্ডে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত টমটম, মোটরসাইকেল ও রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন।

অন্যদিকে, ট্রাফিক পুলিশের অভিযান, মামলা ও রেকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেক যানবাহন আটক করে মামলা দেওয়া হচ্ছে কিংবা রেকার করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও রয়েছে।

খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে গাড়ি

সরেজমিনে আলমপুর ডাম্পিং ইয়ার্ডে দেখা যায়, পুরো এলাকায় হাঁটুপানি জমে আছে। ঝোপঝাড়ের আড়ালে পড়ে রয়েছে হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা, টমটম, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। কোনোটি পানিতে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, আবার কোনোটি দীর্ঘদিন পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ব্যাটারিচালিত অনেক রিকশা ব্যাটারি ছাড়াই পড়ে আছে। অন্যান্য যানবাহনেরও বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ নেই। ফলে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা গাড়িগুলোর অনেকটাই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

শুধু ডাম্পিং ইয়ার্ড নয়, বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা যানবাহনের অবস্থাও থানার ভেতরে নাজুক। দীর্ঘদিন ধরে খোলা জায়গায় পড়ে থাকায় অনেক গাড়ির ব্যাটারি, হেডলাইট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ হারিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে ভোগান্তি

এসএমপি সূত্র জানায়, ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে জব্দ করা যানবাহনগুলো দক্ষিণ সুরমার আলমপুর ডাম্পিং ইয়ার্ডে রাখা হয়। অন্যদিকে, বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা গাড়ি সংশ্লিষ্ট থানার কম্পাউন্ডে রাখা হয়।

পুলিশের দাবি, স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড ও শেড না থাকা এবং মামলা তদন্ত ও নিলাম প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে জব্দ করা যানবাহন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় গাড়িগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এসএমপির উপকমিশনার (ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় বলেন, ট্রাফিক পুলিশের হাতে আটক করা গাড়ি মালিকেরা হালনাগাদ কাগজপত্র নিয়ে এলে অনেক সময় তা ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে ডাম্পিং ইয়ার্ডে অতিরিক্ত যানবাহন থাকার কথা নয়। তবে কাগজপত্রবিহীন যানবাহন ও অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, শেড না থাকায় বাধ্য হয়ে যানবাহনগুলো খোলা আকাশের নিচে রাখতে হচ্ছে। এ কারণে কিছু গাড়ি নষ্ট হচ্ছে।

নিলামে মোটরসাইকেলের দাম ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা

থানায় রাখা যানবাহনগুলোর অনেকগুলো মামলার তদন্ত শেষে কিংবা আদালতের নির্দেশে নিলামে বিক্রি করা হয়। তবে দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে এসব গাড়ির অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে অনেক সময় সেগুলো স্ক্র্যাপ বা ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করা ছাড়া অন্য কোনো কাজে আসে না।

চলতি মাসে কয়েকটি মোটরসাইকেলের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে একেকটি মোটরসাইকেলের দাম ওঠে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

নিলামে অংশ নেওয়া সোহেল আহমদ বলেন, একটি মোটরসাইকেলের দাম ২৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাইকটির বেশির ভাগ যন্ত্রাংশই নেই। তাই তিনি ৩ হাজার টাকা দাম হাঁকেন। তাঁর মতে, মোটরসাইকেলটি ভাঙারির দোকানে বিক্রি করা ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণের উদ্যোগ

জব্দ করা যানবাহন নষ্ট হওয়ার বিষয়ে এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম বলেন, বর্তমানে যত গাড়ি জব্দ রয়েছে, সেগুলো সংরক্ষণের জন্য এসএমপির পর্যাপ্ত ডাম্পিং ইয়ার্ড নেই। সাময়িকভাবে দুটি স্থানে যানবাহন রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ করা গেলে যানবাহনগুলো ভালোভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সেখানে স্থায়ী শেড নির্মাণের সুযোগও তৈরি হবে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

খোলা আকাশের নিচে যানবাহন রাখলে কিছুটা নষ্ট হওয়া স্বাভাবিক উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, অস্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ডের চারপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা গেলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব হতো। পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও কিছু যানবাহনের যন্ত্রাংশ খোয়া যাওয়ার ঘটনা সত্য বলেও স্বীকার করেন তিনি।

রেকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ

এদিকে ট্রাফিক পুলিশের অভিযান ও রেকার ব্যবস্থাপনা নিয়েও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, অনেক সময় কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও যানবাহন আটক করে মামলা দেওয়া হয় বা রেকার করা হয়।

দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কিছু কর্মকর্তা এসব কার্যক্রমের ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে রেকার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বা বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

সিলেটবাসীর দাবি, যানবাহন জব্দ ও সংরক্ষণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন পড়ে থাকা গাড়িগুলোর বিষয়ে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ এবং জব্দ করা যানবাহনের যন্ত্রাংশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কোটি টাকার যানবাহন ডাম্পিংয়ে নষ্ট, রেকার বাণিজ্যের নেপথ্যে কারা?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪৬:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটে ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে জব্দ করা হাজার হাজার যানবাহন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) ট্রাফিক বিভাগের ডাম্পিং ইয়ার্ডে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত টমটম, মোটরসাইকেল ও রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন।

অন্যদিকে, ট্রাফিক পুলিশের অভিযান, মামলা ও রেকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেক যানবাহন আটক করে মামলা দেওয়া হচ্ছে কিংবা রেকার করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও রয়েছে।

খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে গাড়ি

সরেজমিনে আলমপুর ডাম্পিং ইয়ার্ডে দেখা যায়, পুরো এলাকায় হাঁটুপানি জমে আছে। ঝোপঝাড়ের আড়ালে পড়ে রয়েছে হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা, টমটম, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। কোনোটি পানিতে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, আবার কোনোটি দীর্ঘদিন পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ব্যাটারিচালিত অনেক রিকশা ব্যাটারি ছাড়াই পড়ে আছে। অন্যান্য যানবাহনেরও বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ নেই। ফলে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা গাড়িগুলোর অনেকটাই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

শুধু ডাম্পিং ইয়ার্ড নয়, বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা যানবাহনের অবস্থাও থানার ভেতরে নাজুক। দীর্ঘদিন ধরে খোলা জায়গায় পড়ে থাকায় অনেক গাড়ির ব্যাটারি, হেডলাইট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ হারিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে ভোগান্তি

এসএমপি সূত্র জানায়, ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে জব্দ করা যানবাহনগুলো দক্ষিণ সুরমার আলমপুর ডাম্পিং ইয়ার্ডে রাখা হয়। অন্যদিকে, বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা গাড়ি সংশ্লিষ্ট থানার কম্পাউন্ডে রাখা হয়।

পুলিশের দাবি, স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড ও শেড না থাকা এবং মামলা তদন্ত ও নিলাম প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে জব্দ করা যানবাহন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় গাড়িগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এসএমপির উপকমিশনার (ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় বলেন, ট্রাফিক পুলিশের হাতে আটক করা গাড়ি মালিকেরা হালনাগাদ কাগজপত্র নিয়ে এলে অনেক সময় তা ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে ডাম্পিং ইয়ার্ডে অতিরিক্ত যানবাহন থাকার কথা নয়। তবে কাগজপত্রবিহীন যানবাহন ও অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, শেড না থাকায় বাধ্য হয়ে যানবাহনগুলো খোলা আকাশের নিচে রাখতে হচ্ছে। এ কারণে কিছু গাড়ি নষ্ট হচ্ছে।

নিলামে মোটরসাইকেলের দাম ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা

থানায় রাখা যানবাহনগুলোর অনেকগুলো মামলার তদন্ত শেষে কিংবা আদালতের নির্দেশে নিলামে বিক্রি করা হয়। তবে দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে এসব গাড়ির অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে অনেক সময় সেগুলো স্ক্র্যাপ বা ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করা ছাড়া অন্য কোনো কাজে আসে না।

চলতি মাসে কয়েকটি মোটরসাইকেলের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে একেকটি মোটরসাইকেলের দাম ওঠে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

নিলামে অংশ নেওয়া সোহেল আহমদ বলেন, একটি মোটরসাইকেলের দাম ২৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাইকটির বেশির ভাগ যন্ত্রাংশই নেই। তাই তিনি ৩ হাজার টাকা দাম হাঁকেন। তাঁর মতে, মোটরসাইকেলটি ভাঙারির দোকানে বিক্রি করা ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণের উদ্যোগ

জব্দ করা যানবাহন নষ্ট হওয়ার বিষয়ে এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম বলেন, বর্তমানে যত গাড়ি জব্দ রয়েছে, সেগুলো সংরক্ষণের জন্য এসএমপির পর্যাপ্ত ডাম্পিং ইয়ার্ড নেই। সাময়িকভাবে দুটি স্থানে যানবাহন রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ করা গেলে যানবাহনগুলো ভালোভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সেখানে স্থায়ী শেড নির্মাণের সুযোগও তৈরি হবে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

খোলা আকাশের নিচে যানবাহন রাখলে কিছুটা নষ্ট হওয়া স্বাভাবিক উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, অস্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ডের চারপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা গেলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব হতো। পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও কিছু যানবাহনের যন্ত্রাংশ খোয়া যাওয়ার ঘটনা সত্য বলেও স্বীকার করেন তিনি।

রেকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ

এদিকে ট্রাফিক পুলিশের অভিযান ও রেকার ব্যবস্থাপনা নিয়েও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, অনেক সময় কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও যানবাহন আটক করে মামলা দেওয়া হয় বা রেকার করা হয়।

দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কিছু কর্মকর্তা এসব কার্যক্রমের ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে রেকার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বা বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

সিলেটবাসীর দাবি, যানবাহন জব্দ ও সংরক্ষণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন পড়ে থাকা গাড়িগুলোর বিষয়ে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ এবং জব্দ করা যানবাহনের যন্ত্রাংশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।