বংশালের মেসে জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ, মিলেছে চিরকুট

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪২:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর বংশালে একটি মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী অনিক চন্দ্র পালের (২১) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চানখাঁরপুল এলাকার বি কে গাঙ্গুলী লেনের একটি ছাত্র মেস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার শিবপুর উপজেলায়।
কক্ষের দরজা ছিল ভেতর থেকে বন্ধ
মেসের সদস্য ও জবির শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকেই অনিকের তেমন সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তার এক ব্যাচমেট ফোনে যোগাযোগ না পেয়ে মেসে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন।
পরে তারা দুজন অনিকের কক্ষে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ দরজায় কড়া নাড়লেও কোনো সাড়া পাননি। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তাদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে অনিককে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখা যায়।
পরে দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রেমের বিচ্ছেদ নিয়ে সহপাঠীদের বক্তব্য
সহপাঠী ও মেস সদস্যদের দাবি, ঘটনার প্রায় দুই দিন আগে অনিকের সঙ্গে তার প্রেমিকার সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি চুপচাপ থাকতেন। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ কারণে সহপাঠীদের কেউ কেউ ধারণা করছেন, প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদের কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী অনিক শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
চিরকুটে শারীরিক অসুস্থতার কথা
বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রুবেল হোসেন জানান, অনিকের কক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে তার শারীরিক অসুস্থতার কথা লেখা রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অনিক চোখে ভালো দেখতেন না এবং ভবিষ্যতে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা করতেন বলে চিরকুটে উল্লেখ করেছেন। এসব বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় থাকতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এসআই রুবেল হোসেন বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
হাসপাতালে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান জবির ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা খবর দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছান। তবে ততক্ষণে অনিক মারা গেছেন।
সুবাস পাল জানান, তিনি অনিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং তার বাবার সঙ্গেও কথা বলেছেন। পরিবারের সদস্যরা আসার পর মেডিকেল ও থানার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এরপর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।






















