জামায়াতের কাঁধে ভর করে আওয়ামী লীগের ফেরার চেষ্টা: রাশেদ খাঁন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ এখন সরাসরি নেতৃত্ব দিয়ে কোনো আন্দোলন সফল করার অবস্থায় নেই। তাই জামায়াতের কাঁধে ভর করে দলটি রাজনীতির মাঠে ফেরার চেষ্টা করছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন লেখেন, জামায়াতের আমির ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলনে নামার কথা বলেছেন। একই সময়ে শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন দাবি করেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘NO GAS, NO BILL, NO Service, NO TAX’ লিখে পোস্ট দেওয়ার পর স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানাও একই ধরনের পোস্ট করেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে জামায়াতের বিভিন্ন দাবির প্রতি সংহতি জানাচ্ছে। আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের একটি অংশও জামায়াতের দাবিকে সমর্থন করছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, “যেহেতু আওয়ামী লীগ এই মুহূর্তে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে কোনো আন্দোলন সফল করতে পারবে না, সেক্ষেত্রে জামায়াতের কাঁধে ভর করে আওয়ামী লীগ আন্দোলনে ফিরে আসতে চেষ্টা করছে।” জামায়াতের আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত-আওয়ামী লীগের কথিত রাজনৈতিক সমঝোতার অভিযোগ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, বর্তমানে ক্ষমতা দখলই তাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। আওয়ামী লীগ জানে জামায়াত হয়তো সরাসরি ক্ষমতায় যেতে পারবে না, তবে তাদের ব্যবহার করে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা সম্ভব।
জামায়াতের লংমার্চ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তিনি অভিযোগ করেন, কর্মসূচিতে পরিকল্পিতভাবে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, ছাত্রদল-যুবদল গেলি কই’—এ ধরনের স্লোগানের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, লংমার্চের দাবির মধ্যে গণহত্যার বিচারের কথা থাকলেও জামায়াতের নেতাদের বক্তব্যে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা প্রাধান্য পেয়েছে। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিচারের বিষয়টি সেখানে গুরুত্ব পায়নি।
সবশেষে তিনি রাজনৈতিক বিরোধের এই সমীকরণকে ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের ঘটনাবলির সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেন, ক্ষমতার স্বার্থে ‘৭১-এর গণশত্রু ও ‘২৪-এর গণশত্রু’ আজ একাকার হয়ে গেছে।






















