নাঈম-কাণ্ডের পর খুলশীতে দুই দিনের ওসি, নতুন মুখ পাঁচ থানায়
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনার মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানায় আবারও ওসি পরিবর্তন করা হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় নবনিযুক্ত ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে বদলি করে নগর বিশেষ শাখায় (সিটিএসবি) পরিদর্শক হিসেবে পাঠানো হয়েছে।
তার স্থলে খুলশী থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সিটিএসবির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক।
এ ঘটনায় পুলিশ অঙ্গনসহ সংশ্লিষ্ট মহলে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, সিএমপি কমিশনারের নতুন আদেশে মোহাম্মদ সোলাইমানই যেন ‘বলির পাঠা’য় পরিণত হলেন। তারা বলছেন, সিএমপিতে এমন ঘটনা নিকট অতীতে ঘটেনি।
সোমবার (১৫ জুন) রাতে সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে নগরের পাঁচ থানার ওসি পদে রদবদল করা হয়। একই সঙ্গে তিন ওসিকে অন্য ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, কর্ণফুলী থানার ওসি শাহীনূর আলমকে ডবলমুরিং থানায়, চান্দগাঁও থানার ওসি নূর হোসেন মামুনকে চকবাজার থানায়, সিটিএসবির পরিদর্শক কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ারকে কর্ণফুলী থানায়, সিটিএসবির পরিদর্শক মোজাম্মেল হককে খুলশী থানায় এবং সিটিএসবির পরিদর্শক জসিম উদ্দিনকে চান্দগাঁও থানার ওসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে দুই দিন আগে খুলশী থানার দায়িত্ব পাওয়া ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান এবং ডবলমুরিং থানার ওসি জামাল উদ্দিন খানকে সিটিএসবির পরিদর্শক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। চকবাজার থানার ওসি মো. বাবুল আজাদকে সিএমপির ডিবি-দক্ষিণের পরিদর্শক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
মোহাম্মদ সোলাইমান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান। প্রায় ১৬ মাস পর ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর তাকে বাকলিয়া থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। তার দায়িত্বকালেই চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলার তদন্ত মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় বাকলিয়া থানা-পুলিশ আলোচনায় আসে।
অন্যদিকে শনিবার (১৩ জুন) রাতে বাকলিয়া থানার নতুন ওসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মোহাম্মদ জাহিদুল কবির এর আগে চান্দগাঁও ও বায়েজিদ বোস্তামী থানার দায়িত্ব পালন করেছেন।
খুলশীর ঘটনার পরই তোলপাড়
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে নগরের লালখান বাজার এলাকায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর এবং থানায় নিয়ে গিয়ে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে খুলশী থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
পরদিন শনিবার সকালে চান্দগাঁওয়ের ফরিদারপাড়া এলাকায় নাঈম হাসানের বাসায় যান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এর আগে নাঈম হাসানের সঙ্গে অপেশাদার আচরণের অভিযোগে শনিবার খুলশী থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া এবং কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করে সিএমপি। একই রাতে খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। সেই শূন্য পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন মোহাম্মদ সোলাইমান। তবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় তাকেও বদলির আদেশ দেওয়া হলো।



















