ঢাকা ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃণমূলের রাজনীতি ও প্রান্তিক মানুষের আস্থার প্রতীক তারেক রহমান

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ ৭৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৃণমূলমুখী রাজনীতির আলোচনায় বারবার উঠে আসে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ের কর্মী, কৃষক, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।

বিএনপির নেতারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রামীণ জনপদ এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তারেক রহমান ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরছেন। তৃণমূলভিত্তিক সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তিনি নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বলেও দাবি তাদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও তাদের সমস্যাগুলো অনেক সময় জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় যথাযথ গুরুত্ব পায় না। কৃষক, খেতমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনসংগ্রাম দেশের অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হলেও তারা প্রায়ই নীতিনির্ধারণী আলোচনার বাইরে থেকে যান।

বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন, এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে তারেক রহমান তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতিকে নতুন গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা বলেন, তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গ্রাম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন।

ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার হিসাবে তিনি শহীদ জিয়ার গ্রামীণ রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে মাঠে নেমেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবদান ছিল অপরিসীম। মানবিক মর্যাদা ও অধিকারের আশায় তারা জীবন বাজি রেখেছিলেন। তবে স্বাধীনতার পর তাদের প্রথম আশার আলো দেখান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি রাজধানীকেন্দ্রিক ড্রয়িংরুম রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ছুটে বেড়াতেন। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ভেঙে সরাসরি প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন যে, বাংলাদেশের আসল শক্তি নিহিত রয়েছে গ্রামে। তাই তিনি রাজনীতিকে শহর থেকে গ্রামে নিয়ে যান। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত শাসনামলে তিনি ‘নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার’ ও ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করেন। কোদাল হাতে পাতলী খাল খননের মতো দেশব্যাপী খাল কাটা কর্মসূচির সূচনা করে তিনি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। গ্রামীণ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও ‘গ্রাম সরকার’ ধারণার মাধ্যমে তিনি তৃণমূলের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে প্রান্তিক মানুষ তাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুকে হারিয়ে আবার অবহেলার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল।

তারেক রহমান পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তৃণমূলের ক্ষমতায়নে কাজ করে চলেছেন। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর তার পিতার মতই তিনি প্রান্তিক মানুষের সেই আপনজন হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন।

ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ করার অনেক আগে থেকেই, অর্থাৎ ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘তৃণমূল সম্মেলন’ আয়োজনের মাধ্যমে রাজনীতিতে এক অভিনব ধারার সূচনা করেন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের রাজনীতি ছেড়ে তিনি কৃষকের আঙিনায় গেছেন। স্থানীয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দূর দেশে অবস্থান করেও আধুনিক প্রযুক্তির (স্কাইপ, জুম) মাধ্যমে তিনি দলের হাল ধরেন। বড় বড় নেতাদের চেয়ে তিনি গুরুত্ব দিতেন মাঠপর্যায়ের সাধারণ কর্মীদের মতামতকে। বিগত ১৭ বছরের সীমাহীন জুলুম-নির্যাতনের মুখেও বিএনপি যে আজ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এর মূল ভিত্তি ছিল তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক দূরদর্শী রাজনীতি।

রাষ্ট্রীয় ও সংসদীয় কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই তিনি ছুটে যাচ্ছেন অবহেলিত জনপদে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, কক্সবাজার থেকে ঠাকুরগাঁও। সবখানের সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনছেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছেন।

তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন—”গ্রাম বাঁচলেই বাঁচবে বাংলাদেশ। হবে প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নই সামগ্রিক দেশের প্রকৃত উন্নয়ন। সাড়ে চার দশক পর তৃণমূলের মানুষ আবার তাদের এক পরম সুহৃদকে ফিরে পেয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনীতি ও উন্নয়নে এক নতুন আশার আলো ছড়াচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তৃণমূলের রাজনীতি ও প্রান্তিক মানুষের আস্থার প্রতীক তারেক রহমান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৃণমূলমুখী রাজনীতির আলোচনায় বারবার উঠে আসে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ের কর্মী, কৃষক, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।

বিএনপির নেতারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রামীণ জনপদ এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তারেক রহমান ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরছেন। তৃণমূলভিত্তিক সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তিনি নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বলেও দাবি তাদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও তাদের সমস্যাগুলো অনেক সময় জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় যথাযথ গুরুত্ব পায় না। কৃষক, খেতমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনসংগ্রাম দেশের অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হলেও তারা প্রায়ই নীতিনির্ধারণী আলোচনার বাইরে থেকে যান।

বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন, এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে তারেক রহমান তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতিকে নতুন গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা বলেন, তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গ্রাম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন।

ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার হিসাবে তিনি শহীদ জিয়ার গ্রামীণ রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে মাঠে নেমেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবদান ছিল অপরিসীম। মানবিক মর্যাদা ও অধিকারের আশায় তারা জীবন বাজি রেখেছিলেন। তবে স্বাধীনতার পর তাদের প্রথম আশার আলো দেখান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি রাজধানীকেন্দ্রিক ড্রয়িংরুম রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ছুটে বেড়াতেন। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ভেঙে সরাসরি প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন যে, বাংলাদেশের আসল শক্তি নিহিত রয়েছে গ্রামে। তাই তিনি রাজনীতিকে শহর থেকে গ্রামে নিয়ে যান। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত শাসনামলে তিনি ‘নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার’ ও ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করেন। কোদাল হাতে পাতলী খাল খননের মতো দেশব্যাপী খাল কাটা কর্মসূচির সূচনা করে তিনি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। গ্রামীণ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও ‘গ্রাম সরকার’ ধারণার মাধ্যমে তিনি তৃণমূলের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে প্রান্তিক মানুষ তাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুকে হারিয়ে আবার অবহেলার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল।

তারেক রহমান পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তৃণমূলের ক্ষমতায়নে কাজ করে চলেছেন। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর তার পিতার মতই তিনি প্রান্তিক মানুষের সেই আপনজন হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন।

ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ করার অনেক আগে থেকেই, অর্থাৎ ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘তৃণমূল সম্মেলন’ আয়োজনের মাধ্যমে রাজনীতিতে এক অভিনব ধারার সূচনা করেন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের রাজনীতি ছেড়ে তিনি কৃষকের আঙিনায় গেছেন। স্থানীয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দূর দেশে অবস্থান করেও আধুনিক প্রযুক্তির (স্কাইপ, জুম) মাধ্যমে তিনি দলের হাল ধরেন। বড় বড় নেতাদের চেয়ে তিনি গুরুত্ব দিতেন মাঠপর্যায়ের সাধারণ কর্মীদের মতামতকে। বিগত ১৭ বছরের সীমাহীন জুলুম-নির্যাতনের মুখেও বিএনপি যে আজ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এর মূল ভিত্তি ছিল তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক দূরদর্শী রাজনীতি।

রাষ্ট্রীয় ও সংসদীয় কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই তিনি ছুটে যাচ্ছেন অবহেলিত জনপদে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, কক্সবাজার থেকে ঠাকুরগাঁও। সবখানের সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনছেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছেন।

তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন—”গ্রাম বাঁচলেই বাঁচবে বাংলাদেশ। হবে প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নই সামগ্রিক দেশের প্রকৃত উন্নয়ন। সাড়ে চার দশক পর তৃণমূলের মানুষ আবার তাদের এক পরম সুহৃদকে ফিরে পেয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনীতি ও উন্নয়নে এক নতুন আশার আলো ছড়াচ্ছে।