মৃত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে জটিলতা, শিশুর সিদ্ধান্তে শেষ হলো বিতর্ক
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর ধর্মীয় পরিচয় ঘিরে দাহ নাকি দাফন—এ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান ঘটেছে তার ৯ বছরের ছেলের আকুতি ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে মুসলিম ধর্মীয় রীতিতে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানায়, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগ (৪৩) নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তার মরদেহ দাহ করা হবে নাকি দাফন করা হবে—এ নিয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।
পরে জানা যায়, মৃত ব্যক্তি মূলত গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের সুব্রত পোদ্দার কানু। প্রায় ২১ বছর আগে তিনি এফিডেভিটের মাধ্যমে ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নাম পরিবর্তন করে কাজী সোহাগ রাখেন। পরে তিনি মমতাজ মিম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ৯ বছরের ছেলে আব্দুর রহমান রয়েছে।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার মরদেহ মোল্লাহাটের উত্তরআমবাড়ি কালী মন্দির সংলগ্ন শ্মশানে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করার জন্য নেওয়া হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে স্ত্রী মমতাজ মিম ও ছেলে আব্দুর রহমান সেখানে উপস্থিত হয়ে মুসলিম ধর্মীয় রীতিতে দাফনের দাবি জানান। এতে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ হেফাজতে নেয়।
এরপর শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ মোল্লাহাট থানায় নেওয়া হয়। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন ৯ বছরের ছেলে আব্দুর রহমানের কাছে জানতে চান, “তুমি কী চাও?” জবাবে সে জানায়, তার বাবাকে দাফন করা হোক।
শিশুটির আকুতি ও পরিবারের সিদ্ধান্তের পর প্রশাসন মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে মুসলিম ধর্মীয় রীতিতে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রমজানুল হক বলেন, শিশুটির দাবির পর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরে দাফন সম্পন্ন হয়।




















