ঢাকা ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কর্মীদের মানসিক চাপ কমাতে ৩০ মিনিটের ‘ওয়েলনেস ব্রেক’

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমাতে চা–কফি বিরতি বা স্বল্প বিশ্রাম নতুন কিছু নয়। তবে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেনের বার্সেলোনাভিত্তিক একটি প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন–সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটি কর্মীদের জন্য প্রতিদিন ৩০ মিনিটের একটি বিশেষ ব্যক্তিগত বিরতি (হস্তমৈথুন) চালু করেছে, যার লক্ষ্য একটাই—মানসিক চাপ কমানো এবং কর্মদক্ষতা বাড়ানো।

সংস্থার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দ্য নিউজ মুভমেন্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময়, ২০২১ সালের মে মাসে পরীক্ষামূলকভাবে এই বিরতি চালু করা হয়। ইতিবাচক ফল পাওয়ায় সেটি এখনো বহাল রয়েছে।

সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও মালিক লাস্ট জানান, করোনা-পরবর্তী সময়ে কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও কাজে মনোযোগের ঘাটতি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। সে সময় প্রচলিত স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতির বাইরে গিয়ে নতুন সমাধানের কথা ভাবেন তিনি। দীর্ঘ আলোচনার পর কর্মীদের ব্যক্তিগত স্বস্তি ও মানসিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য এই অতিরিক্ত বিরতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে অফিসে একটি আলাদা কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে কর্মীরা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে সময় কাটাতে পারেন। সংস্থার দাবি, এই বিরতি চালুর পর কর্মীদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে—তারা আগের তুলনায় অনেক বেশি শান্ত, মনোযোগী এবং কাজের প্রতি একাগ্র।

সংস্থার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এই উদ্যোগের কথা জানার পর কয়েকটি প্রাপ্তবয়স্ক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে পুরো ব্যবস্থাটি কর্মীদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও সম্মতির ওপর নির্ভরশীল।

লাস্ট বলেন, “এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু মানসিক চাপ কমানো নয়, বরং যৌনতা ও আত্মযত্ন নিয়ে সমাজে যে অপ্রয়োজনীয় সংকোচ রয়েছে, তা ভাঙা। ব্যক্তিগত স্বস্তি মানসিক সুস্থতার পাশাপাশি সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীলতাও বাড়াতে পারে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বাড়ছে। এ ধরনের উদ্যোগ বিতর্ক তৈরি করলেও কর্মীদের সুস্থতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কর্মীদের মানসিক চাপ কমাতে ৩০ মিনিটের ‘ওয়েলনেস ব্রেক’

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমাতে চা–কফি বিরতি বা স্বল্প বিশ্রাম নতুন কিছু নয়। তবে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেনের বার্সেলোনাভিত্তিক একটি প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন–সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটি কর্মীদের জন্য প্রতিদিন ৩০ মিনিটের একটি বিশেষ ব্যক্তিগত বিরতি (হস্তমৈথুন) চালু করেছে, যার লক্ষ্য একটাই—মানসিক চাপ কমানো এবং কর্মদক্ষতা বাড়ানো।

সংস্থার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দ্য নিউজ মুভমেন্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময়, ২০২১ সালের মে মাসে পরীক্ষামূলকভাবে এই বিরতি চালু করা হয়। ইতিবাচক ফল পাওয়ায় সেটি এখনো বহাল রয়েছে।

সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও মালিক লাস্ট জানান, করোনা-পরবর্তী সময়ে কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও কাজে মনোযোগের ঘাটতি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। সে সময় প্রচলিত স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতির বাইরে গিয়ে নতুন সমাধানের কথা ভাবেন তিনি। দীর্ঘ আলোচনার পর কর্মীদের ব্যক্তিগত স্বস্তি ও মানসিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য এই অতিরিক্ত বিরতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে অফিসে একটি আলাদা কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে কর্মীরা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে সময় কাটাতে পারেন। সংস্থার দাবি, এই বিরতি চালুর পর কর্মীদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে—তারা আগের তুলনায় অনেক বেশি শান্ত, মনোযোগী এবং কাজের প্রতি একাগ্র।

সংস্থার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এই উদ্যোগের কথা জানার পর কয়েকটি প্রাপ্তবয়স্ক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে পুরো ব্যবস্থাটি কর্মীদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও সম্মতির ওপর নির্ভরশীল।

লাস্ট বলেন, “এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু মানসিক চাপ কমানো নয়, বরং যৌনতা ও আত্মযত্ন নিয়ে সমাজে যে অপ্রয়োজনীয় সংকোচ রয়েছে, তা ভাঙা। ব্যক্তিগত স্বস্তি মানসিক সুস্থতার পাশাপাশি সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীলতাও বাড়াতে পারে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বাড়ছে। এ ধরনের উদ্যোগ বিতর্ক তৈরি করলেও কর্মীদের সুস্থতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিচ্ছে।