হাসপাতালে নিঃশব্দ লড়াই: গৃহকর্মী শিশুটির শরীরে জমে থাকা নির্যাতনের ক্ষত
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৭:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
হাসপাতালের আইসিইউর বাইরে নির্বাক হয়ে বসে আছেন এক বাবা। চোখে ঘুম নেই, মুখে অসহায়ত্ব। ভেতরে তাঁর ছোট্ট মেয়েটি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে—যে মেয়েটি কয়েক মাস আগেও সংসারের হাল ধরতে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজে এসেছিল।
গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাসায় একটি শিশু দীর্ঘদিন ধরে গৃহকর্মীর কাজ করছিল। অভিযোগ রয়েছে, সামান্য ভুল কিংবা কাজের অজুহাতে শিশুটিকে নিয়মিত মারধর করা হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই নির্যাতন এতটাই ভয়াবহ রূপ নেয় যে একপর্যায়ে শিশুটি গুরুতর আহত হয়ে পড়ে।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে অভিযুক্তদের। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটি গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের ভাষায়, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নির্যাতিত শিশুটির বাবা বলেন, “মেয়ে শুধু বলত, কাজ করতে কষ্ট হয়। আমরা বুঝতে পারিনি, ওর শরীরজুড়ে এমন নির্যাতনের চিহ্ন।” কথা বলতে গিয়ে কেঁপে ওঠে তাঁর কণ্ঠ।
দেশে গৃহকর্মী শিশু নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু প্রতিবারই প্রশ্ন ওঠে—আইন, সমাজ আর বিবেকের ব্যর্থতা কোথায়? ক্ষমতাধর বা প্রভাবশালীর ঘরে কাজ করলেই কি একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না?
হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা বাবার চোখে শুধু একটাই প্রার্থনা—মেয়েটা যেন বেঁচে যায়। অথচ এই লড়াই শুধু একটি শিশুর নয়; এটি নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমাজের নীরবতার সঙ্গেও এক কঠিন যুদ্ধ।
এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটি বর্তমানে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সার্জারি বিভাগের বেডে কাতরাচ্ছে ১১ বছর বয়সী ওই শিশু। তার বুক, পিঠ, হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর ও পোড়া ক্ষতের চিহ্ন স্পষ্ট। কিছু ক্ষত শুকিয়ে শক্ত হয়ে টান ধরেছে, আবার অনেক ক্ষত এখনও দগদগে অবস্থায় রয়েছে।























