ডেডলাইনের ছায়ায় ক্রিকেট: মিরপুরে নিস্তব্ধতা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬ ৮৬ বার পড়া হয়েছে
মিরপুরের বিসিবি সদর দফতর আজ অদ্ভুত নিস্তব্ধ। করিডোরে বাতাস চলছে, কিন্তু মানুষের ভেতরের অস্থিরতা শব্দ করে না। দরজার আড়ালে, বৈঠকের কাগজপত্রে, ফোনের স্ক্রিনে—সবখানে একটাই শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে: “ডেডলাইন”।
আইসিসি বৈঠক শেষ হয়েছে একটু আগেই। প্রত্যাশা ছিল, হয়তো বুঝবে, হয়তো গ্রুপ বদলাবে, হয়তো বিশ্বকাপের গল্পটা একটু অন্যভাবে বলা যাবে। কিন্তু উত্তরে এসেছে কঠিন সোজা বার্তা—গ্রুপ বদলাবে না।
এবং আরও কঠিন নির্দেশ—বৃহস্পতিবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর আলটিমেটাম।
এই খবরের পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের মুখে হাসি নেই, আছে ভারী ক্লান্তি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, “একদিন সময় চেয়েছি। সরকারের সঙ্গে কথা বলার শেষ সুযোগ… এখন অলৌকিক কিছু না হলে খেলাটা সম্ভব না।”
কথাটা বলার সময় তাঁর চোখ বলছিল বাকিটা:“এখানে বোর্ডের ক্ষমতা কতোটা? আর রাষ্ট্রের নিরাপত্তা-চিন্তা কতোটা?”
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিসিবি বলেছে—ভারতে খেলা নিরাপত্তাজনিত কারণে অসম্ভব। এখন প্রশ্ন—একদিনে কি রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত বদলাবে? জানা যাচ্ছে, না।
সেই কারণে আমিনুল বলতে বাধ্য হলেন, “আমি সরকারকে চাপ দিতে চাই না। ওরা তো চায় আমরা খেলি। কিন্তু এই মুহূর্তে নিরাপত্তা নেই। আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই। দাবি থেকে সরিনি।” কথাগুলোতে রাজনীতি নেই, কিন্তু আছে রাষ্ট্রের বারুদময় বাস্তবতা।
মুস্তাফিজুরকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা তাঁকে নাড়িয়ে দিয়েছে—তিনি নিজেই স্বীকার করলেন—
“ওটা হওয়ার পর থেকেই মনে হয়েছে, ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়।” এ দৃশ্যের মাঝেই বিসিবি সদরে ভাসছে অলৌকিকের অপেক্ষা।
সরকারের অবস্থান বদলাবে না—এটা আমিনুল জানেন। বিসিবিও জানে। দেশও জানে।
তাহলে কার দিকে তাকানো?
উত্তর একটাই—আইসিসি হয়তো বদলাতে পারে মত। কিন্তু আজকের সিদ্ধান্তের পর আশা ক্ষীণ। তবু মানুষ অলৌকিকের গল্পে বাঁচে—বিসিবি সভাপতি সেই মানুষের প্রতিনিধিই যেন।
মিরপুরের নিস্তব্ধ ভবনে রাত নামছে, আর বাংলাদেশের ক্রিকেট অপেক্ষায়— যেখানে সামনে ভরা অনিশ্চয়তা, আর পাশে একটাই প্রার্থনা— “হয়তো শেষ মুহূর্তে কিছু বদলে যাবে।”






















