ঢাকা ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কিডনি সুস্থ রাখতে দিনে কতটা পানি প্রয়োজন? জানুন সঠিক হিসাব ‘শান্তি ফেরাতে আলোচনায় রাজি ইরান’, সঙ্গে দিলেন শর্ত একই শ্যাম্পু সবার জন্য নয়: চুলের ধরন বুঝে বানান ঘরোয়া শ্যাম্পু রোস্ট–কোর্মার বাইরে নতুন স্বাদ, বানান ফুলকপির কিমা আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব: রাজনৈতিক বার্তা নাকি আর্থিক নজরদারি? ঢাকা পলিটেকনিকে হামলার প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ বড় সাজ্জাদের দুই অনুসারী অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার এমপি নাসের রহমানের সঙ্গে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বৈঠক নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করে যাওয়া ইউনূসের গেজেট কোথায়? বাগেরহাটে ভয়াবহ আগুনে ৮ দোকান ভস্মীভূত, ক্ষতি ৩০ লাখ টাকার বেশি

ফুটবল খেলার ক্ষোভ থেকে মৃত্যু, রুবেলের ১০ বছর জেল

জামালপুর প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামালপুরের ইসলামপুরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া একটি ছোট্ট ঘটনাই শেষ পর্যন্ত থেমে যায় ১২ বছরের শিশু বিপ্লবের জীবনের ধারা। আর সেই ঘটনার প্রায় দশ বছর পর বিচার পেল পরিবারটি।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম মামলার আসামি রুবেল (২২)-কে ১০ বছরের সাজা দেন।

২০১৬ সালের ১৭ জুলাই। গ্রামের মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ১২ বছরের রুবেল (তখন বয়স ১২, বর্তমানে ২২) বিপ্লবকে একাধিকবার পেটে লাথি মারে। ছোট্ট বিপ্লব ব্যথায় কুঁকড়ে গেলেও বিষয়টি তখনকার মতো শেষ হয়নি। পরদিন অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বাঁচানো যায়নি—ময়মনসিংহে নেওয়ার পথেই মৃত্যু হয় বিপ্লবের।

শিশুর প্রাণ ঝরে যাওয়া সেই দিনটি আজও ভুলতে পারেন না বিপ্লবের পরিবার। মামলাটি করেছিলেন তার নানি পিয়ারা বেগম, যিনি নাতিকে হারানোর পর থেকে ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন। নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত রায় দেন—ঘটনার ১০ বছর পর, কিন্তু বিচার পেল পরিবারটি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান—এটি ছিল একটি শিশুর ওপর অপ্রাপ্তবয়স্ক আরেক শিশুর সহিংসতা, যার পরিণতি ছিল মৃত্যুবরণ। আর আসামির পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মেহেদি হাসান।

এই রায়ের মাধ্যমে শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তি হয়নি—সামাজিকভাবে একটি বার্তাও গিয়েছে: খেলাধুলা, ঝগড়া বা ক্ষোভ—শিশুদের আচরণ কখনও কখনও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, যদি সমাজ ও পরিবার সময়মতো তাদের শেখাতে না পারে সহমর্মিতা, ধৈর্য ও মানবিক মূল্যবোধ।

বিপ্লব আজ নেই। কিন্তু তার মৃত্যু সমাজকে একটি প্রশ্ন রেখে গেল—আমরা কি আমাদের শিশুদের নিরাপদ, ধৈর্যশীল ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে পারছি?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ফুটবল খেলার ক্ষোভ থেকে মৃত্যু, রুবেলের ১০ বছর জেল

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

জামালপুরের ইসলামপুরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া একটি ছোট্ট ঘটনাই শেষ পর্যন্ত থেমে যায় ১২ বছরের শিশু বিপ্লবের জীবনের ধারা। আর সেই ঘটনার প্রায় দশ বছর পর বিচার পেল পরিবারটি।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম মামলার আসামি রুবেল (২২)-কে ১০ বছরের সাজা দেন।

২০১৬ সালের ১৭ জুলাই। গ্রামের মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ১২ বছরের রুবেল (তখন বয়স ১২, বর্তমানে ২২) বিপ্লবকে একাধিকবার পেটে লাথি মারে। ছোট্ট বিপ্লব ব্যথায় কুঁকড়ে গেলেও বিষয়টি তখনকার মতো শেষ হয়নি। পরদিন অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বাঁচানো যায়নি—ময়মনসিংহে নেওয়ার পথেই মৃত্যু হয় বিপ্লবের।

শিশুর প্রাণ ঝরে যাওয়া সেই দিনটি আজও ভুলতে পারেন না বিপ্লবের পরিবার। মামলাটি করেছিলেন তার নানি পিয়ারা বেগম, যিনি নাতিকে হারানোর পর থেকে ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন। নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত রায় দেন—ঘটনার ১০ বছর পর, কিন্তু বিচার পেল পরিবারটি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান—এটি ছিল একটি শিশুর ওপর অপ্রাপ্তবয়স্ক আরেক শিশুর সহিংসতা, যার পরিণতি ছিল মৃত্যুবরণ। আর আসামির পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মেহেদি হাসান।

এই রায়ের মাধ্যমে শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তি হয়নি—সামাজিকভাবে একটি বার্তাও গিয়েছে: খেলাধুলা, ঝগড়া বা ক্ষোভ—শিশুদের আচরণ কখনও কখনও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, যদি সমাজ ও পরিবার সময়মতো তাদের শেখাতে না পারে সহমর্মিতা, ধৈর্য ও মানবিক মূল্যবোধ।

বিপ্লব আজ নেই। কিন্তু তার মৃত্যু সমাজকে একটি প্রশ্ন রেখে গেল—আমরা কি আমাদের শিশুদের নিরাপদ, ধৈর্যশীল ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে পারছি?