১৭ দিনের নিখোঁজ, ফেরত এলো শুধু মরদেহ
নিখোঁজের গল্পে দুঃখের ফাঁদ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৮:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীর আলাতুলী হাটপাড়া ঘাট। শীতের দিনে নদীর জল আরও থমথমে, আরও ঠাণ্ডা। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে যখন স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হচ্ছিলেন, তখন কারও চোখে ভয়, কারও মুখে ফিসফাস—“কার লাশ হতে পারে?”
কিছুক্ষণ পর পুলিশ যখন নদী থেকে অর্ধগলিত একটি মরদেহ তুলে আনলো, তখন নিশ্চুপ হয়ে যায় পুরো ঘাট। পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করার চেষ্টা করছিলেন কঠিন চোখে—আর মুহূর্তেই কান্নায় ভেঙে পড়লো একটি পরিবার। ১৭ দিন ধরে যার কোনো খোঁজ ছিল না, সেই গোলকাজুল ওরফে কাজল (৩৫) এবার ফিরলো শুধু নিথর হয়ে।
রাতের অন্ধকারে নিখোঁজ
গত ৩ জানুয়ারি রাতে হঠাৎ নিখোঁজ হয় গোলকাজুল। পরিবারের অস্থিরতা বাড়ে দিন দিন—এমনকি আশপাশের গ্রামেও আলোচনার ঝড়। ৮ জানুয়ারি তাঁর স্ত্রী লিসা বেগম থানায় অপহরণের মামলা করেন—১৬ জনের বিরুদ্ধে, যার মধ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই নেতার নামও ছিল।
স্ত্রীর অভিযোগ ভারী— “নির্যাতন করে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়েছে।” কিন্তু দাবি শুধু এক দিকেই নয়।
দুটি গল্প—একটি মৃত্যু
স্থানীয়দের একাংশ বলছে ভিন্ন কথা—তাদের দাবি, গোলকাজুল দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় গরু চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাতের অন্ধকারে ভারত থেকে গরু আনতে গিয়ে হয়তো কোনো বিপদে পড়েছেন, অথবা সীমান্তে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন।
একদিকে স্ত্রীর অভিযোগ, “ওকে অপহরণ করেছে, মেরেছে।” অন্যদিকে এলাকার দাবি, “সীমান্তেই হারিয়ে গেছে।” কিন্তু সত্য যাই হোক—পরিণাম একটাই: এক সন্তান–স্ত্রীর পরিবার আশ্রয়হীন, বাবাহারা, স্বামীহারা।
১৭ দিন পর নদীর জল ভাসিয়ে দিলো উত্তর
২০ জানুয়ারি বিকেলে যখন মরদেহ উদ্ধার হলো, তখন নদীর পাড়ে শুধু একজনের মৃত্যু নয়—ছিলো একটা পরিবারের আশা ভেঙে পড়ার শব্দ।
চরবাগডাঙ্গার সেই ছোট বাড়িটায় লিসা বেগম এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না— ১৭ দিন পর ফিরলো শুধু লাশ, কোনো শব্দ নয়। পদ্মা নদীর সেই ঠাণ্ডা জল যেন প্রশ্ন করলো— এই মৃত্যু কার দায়? অপহরণকারীর? চোরাচালানের? নাকি সিস্টেমের?
তদন্তের অপেক্ষা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বললেন, “উদ্ধার হওয়া মরদেহ গোলকাজলের বলে পরিবার শনাক্ত করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী তদন্ত চলবে।”
এখন আদালত, তদন্ত আর রিপোর্ট—সবই বাকি। কিন্তু লিসার কাছে এসবের মানে একটাই—স্বামীকে আর কখনো ডাকতে পারবেন না।























