অপেক্ষায় ১২ কোটির ভোটার, নজর প্রতীকে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৪:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনি উত্তাপ দিনদিন আরও দৃশ্যমান হচ্ছে। মনোনয়ন যাচাই, আপিল ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ধাপ পেরিয়ে এখন নির্বাচনি মাঠ প্রায় পরিষ্কার—কে থাকছেন, কে নামছেন, তা জানা গেছে। এখন অপেক্ষা কেবল প্রতীক বরাদ্দের।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেবে। আর বৃহস্পতিবার থেকেই প্রার্থীরা মাঠে নামবেন পুরোপুরি অনুমোদিত প্রচার-প্রচারণায়—মিটিং-মাইকিং, পোস্টার-ফেস্টুন, গণসংযোগ ও ভোট চাওয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনায় জমে উঠবে সারাদেশ।
প্রতীকই চাবিকাঠি: কাদের হাতে উঠবে কোন প্রতীক
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতীক বরাদ্দ মানেই পুরো নির্বাচনি যন্ত্রণা সক্রিয় হয়ে যাওয়ার মুহূর্ত। প্রতীক পাওয়া মাত্রই প্রার্থী তার নির্বাচনি এলাকায় দল, সংগঠন ও সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের দুয়ারে পৌঁছাতে পারবেন। দলীয় ও স্বতন্ত্র উভয় ধরনের প্রার্থীদের জন্য এ ধাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এবারের নির্বাচনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। ফলে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন আছে, তেমনি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে দৌড় আরও বহুমাত্রিক হয়েছে। নির্বাচনি যুগপৎ প্রস্তুতিতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোও ভেতরে ভেতরে প্রচারণা ও সমন্বয়ের ছক তৈরি করে রেখেছে।
১২ ফেব্রুয়ারি ভোট: একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা হবে—যা দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
দেশজুড়ে ১২ কোটির বেশি ভোটার
ইসি চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও প্রকাশ করেছে। সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন।
এর মধ্যে—পুরুষ: ৬,৪৮,১৪,৯০৭ জন, নারী: ৬,২৮,৭৯,০৪২ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার: ১,২৩৪ জন। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপারে ভোট হবে—এ কথা নিশ্চিত করেছে ইসি।
প্রার্থিতা প্রত্যাহার: আইনি কাঠামো ও দলীয় সমন্বয়
নির্বাচনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ শেষ হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো বৈধ প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজে বা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে সইযুক্ত লিখিত নোটিশ দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পেরেছেন।
এছাড়া কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল একটি আসনে একাধিক মনোনয়ন দিলে দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম লিখিতভাবে জানালে বাকিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ পড়বেন—এই বিধান এবারও প্রযোজ্য হয়েছে। একবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের নোটিশ দিলে তা আর বদলানো যাবে না—পরিপত্রে বিষয়টি স্পষ্ট ছিল।
শেষ ধাপের দিকে কমিশন
নির্বাচন কমিশনের কাছে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো—নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ করে শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন আয়োজন করা। ইসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য—প্রতীক বরাদ্দ হয়ে গেলে নির্বাচনের গতি আরও দৃশ্যমান হবে, আর দেশজুড়ে নির্বাচনি বাতাবরণ তুঙ্গে পৌঁছাবে।





















