ঢাকা ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কিডনি সুস্থ রাখতে দিনে কতটা পানি প্রয়োজন? জানুন সঠিক হিসাব ‘শান্তি ফেরাতে আলোচনায় রাজি ইরান’, সঙ্গে দিলেন শর্ত একই শ্যাম্পু সবার জন্য নয়: চুলের ধরন বুঝে বানান ঘরোয়া শ্যাম্পু রোস্ট–কোর্মার বাইরে নতুন স্বাদ, বানান ফুলকপির কিমা আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব: রাজনৈতিক বার্তা নাকি আর্থিক নজরদারি? ঢাকা পলিটেকনিকে হামলার প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ বড় সাজ্জাদের দুই অনুসারী অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার এমপি নাসের রহমানের সঙ্গে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বৈঠক নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করে যাওয়া ইউনূসের গেজেট কোথায়? বাগেরহাটে ভয়াবহ আগুনে ৮ দোকান ভস্মীভূত, ক্ষতি ৩০ লাখ টাকার বেশি

জমির সীমা পেরিয়ে গেল বিরোধ—শেষ হলো দুই জীবন

শহিদুল ইসলাম দইচ, যশোর
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ৮২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যশোরের চৌগাছার সলুয়া বাজারে মঙ্গলবার বিকেলটা ছিল অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। দোকানদাররা হিসাব করছিল, ক্রেতারা দরাদরি, বাচ্চারা পাশের রাস্তা ধরে দৌড়াচ্ছিল। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই বাজারে কান্না, চিৎকার আর আতঙ্কের শব্দ মিলেমিশে তৈরি করলো এক ভিন্ন দৃশ্য—যেখানে একসাথে হারিয়ে গেলো দুই পরিবারের ভরসা।

জমি বিক্রি ছিল দুই বছর আগে—মৃত্যু হলো আজ

রফিকুল ইসলাম দু’ বছর আগে প্রতিবেশী পলাশের কাছ থেকে ৮ শতক জমি কিনেছিলেন। সময়ের সাথে জমির দাম বাড়তে থাকলে দ্বন্দ্বও বেড়ে যায়। পলাশ চাইছিল জমি ফেরত; রফিকুল বলছিল বর্তমান বাজারমূল্য দিতে হবে। এই ছোট্ট গ্রামীণ বিরোধ দিনের পর দিন তিক্ততা তৈরি করেছে দুই পরিবারে—যা আসলেই কি এত বড় হত্যাকাণ্ডের মতো পরিণতি পাওয়ার কথা ছিল?

বাজারে একা পেয়ে আক্রমণ

বিকেলটা ছিল সাধারণ দিনের মতোই। রফিকুল পাশের সলুয়া বাজারে গিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তেই পলাশ তাকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। রক্তাক্ত রফিকুল বাজারের মাঝখানে লুটিয়ে পড়লে দোকানদার, ব্যবসায়ী, পথচারীরা ছুটে আসে। আর সেই ক্ষোভে, উত্তেজনায় পলাশও গণপিটুনির শিকার হন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই দুইজনকেই হাসপাতালে নেয়া হয়—একজন ঢাকার পথে, আরেকজন যশোরের হাসপাতালের বেডে। কিন্তু দু’জনই আর ফেরেননি।

দুই পরিবার—দুটি আঙিনা—একই কান্না

একদিকে রফিকুলের পরিবার ঢাকার অ্যাম্বুলেন্সে বাবার নিথর দেহের পাশে ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে পলাশের পরিবার যশোর জেনারেল হাসপাতালের গেটেই স্তব্ধ হয়ে গেছে।

একই গ্রামের দুই পরিবার—যারা কখনো একই মাঠে ধান কেটেছে, একই ঈদে কোলাকুলি করেছে—সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলো ৮ শতক জমির টানাপোড়েনে।

পুলিশের ভাষ্য

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, “দুজনের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

জমির সীমা, জীবনের সীমা

বাংলাদেশে প্রতিদিন জমিজমা সংক্রান্ত অসংখ্য ঝগড়া হয়—কখনো আদালতে, কখনো ইউনিয়নে, কখনো মীমাংসায়। কিন্তু কিছু ঝগড়া একদম সরাসরি চলে যায় রক্তের দিকে—যেখানে কেউ জেতে না, সবাই হারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জমির সীমা পেরিয়ে গেল বিরোধ—শেষ হলো দুই জীবন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

যশোরের চৌগাছার সলুয়া বাজারে মঙ্গলবার বিকেলটা ছিল অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। দোকানদাররা হিসাব করছিল, ক্রেতারা দরাদরি, বাচ্চারা পাশের রাস্তা ধরে দৌড়াচ্ছিল। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই বাজারে কান্না, চিৎকার আর আতঙ্কের শব্দ মিলেমিশে তৈরি করলো এক ভিন্ন দৃশ্য—যেখানে একসাথে হারিয়ে গেলো দুই পরিবারের ভরসা।

জমি বিক্রি ছিল দুই বছর আগে—মৃত্যু হলো আজ

রফিকুল ইসলাম দু’ বছর আগে প্রতিবেশী পলাশের কাছ থেকে ৮ শতক জমি কিনেছিলেন। সময়ের সাথে জমির দাম বাড়তে থাকলে দ্বন্দ্বও বেড়ে যায়। পলাশ চাইছিল জমি ফেরত; রফিকুল বলছিল বর্তমান বাজারমূল্য দিতে হবে। এই ছোট্ট গ্রামীণ বিরোধ দিনের পর দিন তিক্ততা তৈরি করেছে দুই পরিবারে—যা আসলেই কি এত বড় হত্যাকাণ্ডের মতো পরিণতি পাওয়ার কথা ছিল?

বাজারে একা পেয়ে আক্রমণ

বিকেলটা ছিল সাধারণ দিনের মতোই। রফিকুল পাশের সলুয়া বাজারে গিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তেই পলাশ তাকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। রক্তাক্ত রফিকুল বাজারের মাঝখানে লুটিয়ে পড়লে দোকানদার, ব্যবসায়ী, পথচারীরা ছুটে আসে। আর সেই ক্ষোভে, উত্তেজনায় পলাশও গণপিটুনির শিকার হন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই দুইজনকেই হাসপাতালে নেয়া হয়—একজন ঢাকার পথে, আরেকজন যশোরের হাসপাতালের বেডে। কিন্তু দু’জনই আর ফেরেননি।

দুই পরিবার—দুটি আঙিনা—একই কান্না

একদিকে রফিকুলের পরিবার ঢাকার অ্যাম্বুলেন্সে বাবার নিথর দেহের পাশে ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে পলাশের পরিবার যশোর জেনারেল হাসপাতালের গেটেই স্তব্ধ হয়ে গেছে।

একই গ্রামের দুই পরিবার—যারা কখনো একই মাঠে ধান কেটেছে, একই ঈদে কোলাকুলি করেছে—সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলো ৮ শতক জমির টানাপোড়েনে।

পুলিশের ভাষ্য

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, “দুজনের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

জমির সীমা, জীবনের সীমা

বাংলাদেশে প্রতিদিন জমিজমা সংক্রান্ত অসংখ্য ঝগড়া হয়—কখনো আদালতে, কখনো ইউনিয়নে, কখনো মীমাংসায়। কিন্তু কিছু ঝগড়া একদম সরাসরি চলে যায় রক্তের দিকে—যেখানে কেউ জেতে না, সবাই হারে।