ঢাকা ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হাঁটু পানিতে কাগজের নৌকা ভাসিয়ে নদী খননের দাবী

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪ ১২৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বপানি দিবসে নদী খননের দাবীতে মরা নদীর হাঁটু পানিতে কাগজের তৈরি নৌকা ভাসিয়ে প্রতিবাদ জানান বাংলাদেশ রির্সোস সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) ও তানোর উপজেলার ১০টি কৃষক ও যুব সংগঠনের সদস্যরা।

শুক্রবার (২২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার গোল্লাপাড়ার গোডাউন সংলগ্ন শিবনদী সেতুর উপর কাগজের ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে ও নদীর নিচে হাঁটু পানিতে কাগজের নৌকা ভাসিয়ে শিব নদী খনন ও বিলকুমারী বিল রক্ষার দাবিতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, আমরা এক সময় দেখেছি শিব নদী দিয়ে অনেক লঞ্চ-স্টিমার ও বড় বড় বাণিজ্যিক নৌকা চলতো। অনেক কৃষিপণ্য এই নদী পথ দিয়ে পরিবহন করে নিয়ে যাওয়া হতো। আজ ভরাট ও দখলের কারণে এই নদী মৃত প্রায়। নদীতে বছরের অধিকাংশ সময় পানি থাকে না। সেচ সংকটে অনেক কৃষক ফসল চাষাবাদ করতে পারছে না। আজকে পানি দিবসে আমরা চাই শিব নদী দখল মুক্ত হয়ে খনন হবে। নদীটি ফিরে পাবে এর প্রাণ প্রবাহ। তানোর ও মোহনপুর উপজেলার ৩৫টি গ্রামের মানুষের জীবনের সাথে মিশে আছে বিলকুমারী বিল। এই বিল থেকে ৪টি জেলে গ্রামের জনগোষ্ঠী মাছ আহোরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু দিন দিন এই বিলের জমি দখল করে ধান চাষের নামে প্রতিনিয়ত বিলের পানির সাথে কীটনাশক ও রাসায়নিক মিশ্রিত করা হচ্ছে। যার ফলে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এই বিলের দেশীয় মাছের প্রজাতি। ফলে জেলে সম্প্রদায় হারাচ্ছে তাদের জীবিকা।

তানোর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ও অধ্যক্ষ অসীম কুমার সরকার বলেন, বিলকুমারী বিল তানোর উপজেলার বড় পানি আধার। এই বিল থেকে অনেক পানি ভূ-গর্ভে রিচার্জ হয়। কিন্তু দিন দিন এ বিলের পানি বিষাক্ত হয়ে উঠছে। আমরা চাই বিলকুমারী বিল দখল ও দূষণ মুক্ত হোক। এই বিলে মাছের ৪টি অভাশ্রমের মাধ্যমে দেশীয় মাছের প্রজনন হতো। প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে উপজেলার ডাকবাংলো মাঠে বসতো মাছের মেলা। আজ সেই মেলা হারিয়ে গেছে। প্রবহমান শিবনদী পরিনত হয়েছে মরা খালে।

প্রবীন কৃষক ও গোকুল-মোথুরা কৃষক সংগঠনের সভাপতি শ্রী জিতেন্দ্রনাথ সূত্রধর বলেন , বিল থেকে সিঙ্গার, লিখার, পদ্ম, শালুক, পানিফল আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। প্রান্তিক মানুষ এখন থেকে খাদ্য সংগ্রহ করত এবং তা ছিলো অনেক পুষ্টি কর। আমরা চাই বিলকুমারীর পানি যেন বিশাক্ত না হয়।

মানববন্ধনে তানোর উপজেলার ১৪টি গ্রামের শতাধিক কৃষক, যুবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

হাঁটু পানিতে কাগজের নৌকা ভাসিয়ে নদী খননের দাবী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪

বিশ্বপানি দিবসে নদী খননের দাবীতে মরা নদীর হাঁটু পানিতে কাগজের তৈরি নৌকা ভাসিয়ে প্রতিবাদ জানান বাংলাদেশ রির্সোস সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) ও তানোর উপজেলার ১০টি কৃষক ও যুব সংগঠনের সদস্যরা।

শুক্রবার (২২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার গোল্লাপাড়ার গোডাউন সংলগ্ন শিবনদী সেতুর উপর কাগজের ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে ও নদীর নিচে হাঁটু পানিতে কাগজের নৌকা ভাসিয়ে শিব নদী খনন ও বিলকুমারী বিল রক্ষার দাবিতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, আমরা এক সময় দেখেছি শিব নদী দিয়ে অনেক লঞ্চ-স্টিমার ও বড় বড় বাণিজ্যিক নৌকা চলতো। অনেক কৃষিপণ্য এই নদী পথ দিয়ে পরিবহন করে নিয়ে যাওয়া হতো। আজ ভরাট ও দখলের কারণে এই নদী মৃত প্রায়। নদীতে বছরের অধিকাংশ সময় পানি থাকে না। সেচ সংকটে অনেক কৃষক ফসল চাষাবাদ করতে পারছে না। আজকে পানি দিবসে আমরা চাই শিব নদী দখল মুক্ত হয়ে খনন হবে। নদীটি ফিরে পাবে এর প্রাণ প্রবাহ। তানোর ও মোহনপুর উপজেলার ৩৫টি গ্রামের মানুষের জীবনের সাথে মিশে আছে বিলকুমারী বিল। এই বিল থেকে ৪টি জেলে গ্রামের জনগোষ্ঠী মাছ আহোরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু দিন দিন এই বিলের জমি দখল করে ধান চাষের নামে প্রতিনিয়ত বিলের পানির সাথে কীটনাশক ও রাসায়নিক মিশ্রিত করা হচ্ছে। যার ফলে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এই বিলের দেশীয় মাছের প্রজাতি। ফলে জেলে সম্প্রদায় হারাচ্ছে তাদের জীবিকা।

তানোর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ও অধ্যক্ষ অসীম কুমার সরকার বলেন, বিলকুমারী বিল তানোর উপজেলার বড় পানি আধার। এই বিল থেকে অনেক পানি ভূ-গর্ভে রিচার্জ হয়। কিন্তু দিন দিন এ বিলের পানি বিষাক্ত হয়ে উঠছে। আমরা চাই বিলকুমারী বিল দখল ও দূষণ মুক্ত হোক। এই বিলে মাছের ৪টি অভাশ্রমের মাধ্যমে দেশীয় মাছের প্রজনন হতো। প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে উপজেলার ডাকবাংলো মাঠে বসতো মাছের মেলা। আজ সেই মেলা হারিয়ে গেছে। প্রবহমান শিবনদী পরিনত হয়েছে মরা খালে।

প্রবীন কৃষক ও গোকুল-মোথুরা কৃষক সংগঠনের সভাপতি শ্রী জিতেন্দ্রনাথ সূত্রধর বলেন , বিল থেকে সিঙ্গার, লিখার, পদ্ম, শালুক, পানিফল আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। প্রান্তিক মানুষ এখন থেকে খাদ্য সংগ্রহ করত এবং তা ছিলো অনেক পুষ্টি কর। আমরা চাই বিলকুমারীর পানি যেন বিশাক্ত না হয়।

মানববন্ধনে তানোর উপজেলার ১৪টি গ্রামের শতাধিক কৃষক, যুবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।