ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে হত্যার পর মায়ের কাছে ছেলে পাঁচ পৃষ্ঠার ‘চিরকুট’

গাজীপুর প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪ ৫০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর পালিয়েছে স্বামী। স্ত্রীকে হতয়ার পর মরদেহ ঘরে রেখে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত স্বামী। পালিয়ে গিয়ে অভিযুক্ত স্বামী তার এক বন্ধুকে ফোন করে হত্যার বিষয়টি জানায়। পরে পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। স্ত্রীকে হত্যার পূর্বে পাঁচ পৃষ্ঠার চিরকুট লিখে যায় অভিযুক্ত স্বামী। মরদেহের পাশেই ছিলো চিরকুট।

বুধবার (২৬ জুন) বিকালে উপজেলার মাওনা গ্রামের বহুতল ভবনের তিনতলার একটি রুম থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূ মিম আক্তার (১৮) সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার ছোট বেড়াখাড়ুয়া গ্রামের ইউসুফ খানের মেয়ে। তিনি স্বামীর সাথে শ্রীপুরে থাকতেন।

অভিযুক্ত স্বামী আল আমিন (২৫) টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার কালাই গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে। তিনি সাদ গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

চিরকুটে অভিযুক্ত স্বামী লিখেছেন, ‘মা আমারে মাফ কইরা দিও, অনেক স্বপ্ন ছিলো তুমাকে কোনদিন কষ্ট দিব না। কিন্তু এমন একজন মানুষ আমারে আইনা দিছ, যার অত্যাচার থেকে বাঁচতে এই সিদ্ধান্ত নিলাম। তিলে তিলে মরার চাইতে একেবারে মরে গেলাম। সবাই আমাকে মাফ কইরা দিও, সে আমাকে কয়েক মাসের মধ্যে মানসিক রোগী বানাইয়া ফালছে। নিজে একাই মইরা জাইতাম কিন্তু এরে যদি বাঁচাইয়া রাইখা যায় এ আরও অনেক মানুষের জীবন নষ্ট করবো। তাই মাইরা ফেললাম। অনেক স্বপ্ন ছিল রাসূলের সব,সুন্নতগুলি আমার জীবনে বাস্তবায়িত করবো। কিন্তু পারলাম না। পরিশেষে সবার জন্য দোয়া করে গেলাম। এমন বউ যেন কারো কপালে না জোটে। কাওসার ভাইদের দোকান থেকে ৫০০ টাকা নগদ দিয়া ৯০০ টাকা বাকি রাখিয়া চাউলের বস্তা আনছিলাম। রুম ভাড়া রুমের আসবাবপত্র বিক্রি করে দিয়া দিও।’

নিহতের বড় ভাই নাঈম বলেন, নয়মাস পূর্বে বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সংসারে তেমন বড় কোন ঝগড়াঝাঁটি হয়েছে বলে জানা নেই। ওরা স্বামী স্ত্রী একটি বাসাভাড়া নিয়ে থাকতো। বুধবার (২৬ জুন) দুপুরের দিকে বাড়ির ভাড়াটিয়া আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। এরপর এসে বোনের মরদেহ দেখতে পায়। বোনের বাসায় এসে অনন্য ভাড়াটিয়াদের মাধ্যমে জানতে পারি বোনকে তার স্বামী গলায় রশি বেঁধে শ্বাসরুদ্ধকরে হত্যা করে পালিয়েছে। এরপর বোনজামাইয়ের একবন্ধুকে ফোন করে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার কথা জানায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাড়াটিয়া বলেন,বুধবার (২৬ জুন) দুপুরের একটু আগে আল আমিনের এক বন্ধু এসে জানায় আল আমিন তাকে ফোন করে বলছে সে তার স্ত্রীকে খুন করেছে। এরপর ঘরের ভেতর রেখে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে গেছে। যাতে মরদেহ পঁচে যাওয়ার আগে তার আত্নীয় স্বজন এসে নিয়ে যায়। এরপর বিষয়টি তিনি বাড়ির মালিককে অবহিত করেন। পরবর্তীতে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে ঘরের দরজার তালা ভেঙে মরদেহ দেখতে পায়।

মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য মো. শামীম মৃধা বলেন, ঘরের ভেতর মরদেহ রয়েছে এমন খবর পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে ঘরের দরজার তালা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের পাশে পাঁচ পৃষ্ঠার সাদা কাগজে চিরকুট ও রশি পড়ে ছিলো।

মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মশিউর রহমান এর সত্যতা নিশ্চত করে বলেন, স্ত্রীকে হত্যার পর ঘরের ভেতর মরদেহ রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে স্বামী। এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজার লক ভেঙে ঘরের মেঝেতে নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহের পাশে চিরকুট ও রশি ছিলো। মরদেহ উদ্ধার করে মগেৃ পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্ত্রীকে হত্যার পর মায়ের কাছে ছেলে পাঁচ পৃষ্ঠার ‘চিরকুট’

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪

গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর পালিয়েছে স্বামী। স্ত্রীকে হতয়ার পর মরদেহ ঘরে রেখে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত স্বামী। পালিয়ে গিয়ে অভিযুক্ত স্বামী তার এক বন্ধুকে ফোন করে হত্যার বিষয়টি জানায়। পরে পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। স্ত্রীকে হত্যার পূর্বে পাঁচ পৃষ্ঠার চিরকুট লিখে যায় অভিযুক্ত স্বামী। মরদেহের পাশেই ছিলো চিরকুট।

বুধবার (২৬ জুন) বিকালে উপজেলার মাওনা গ্রামের বহুতল ভবনের তিনতলার একটি রুম থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূ মিম আক্তার (১৮) সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার ছোট বেড়াখাড়ুয়া গ্রামের ইউসুফ খানের মেয়ে। তিনি স্বামীর সাথে শ্রীপুরে থাকতেন।

অভিযুক্ত স্বামী আল আমিন (২৫) টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার কালাই গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে। তিনি সাদ গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

চিরকুটে অভিযুক্ত স্বামী লিখেছেন, ‘মা আমারে মাফ কইরা দিও, অনেক স্বপ্ন ছিলো তুমাকে কোনদিন কষ্ট দিব না। কিন্তু এমন একজন মানুষ আমারে আইনা দিছ, যার অত্যাচার থেকে বাঁচতে এই সিদ্ধান্ত নিলাম। তিলে তিলে মরার চাইতে একেবারে মরে গেলাম। সবাই আমাকে মাফ কইরা দিও, সে আমাকে কয়েক মাসের মধ্যে মানসিক রোগী বানাইয়া ফালছে। নিজে একাই মইরা জাইতাম কিন্তু এরে যদি বাঁচাইয়া রাইখা যায় এ আরও অনেক মানুষের জীবন নষ্ট করবো। তাই মাইরা ফেললাম। অনেক স্বপ্ন ছিল রাসূলের সব,সুন্নতগুলি আমার জীবনে বাস্তবায়িত করবো। কিন্তু পারলাম না। পরিশেষে সবার জন্য দোয়া করে গেলাম। এমন বউ যেন কারো কপালে না জোটে। কাওসার ভাইদের দোকান থেকে ৫০০ টাকা নগদ দিয়া ৯০০ টাকা বাকি রাখিয়া চাউলের বস্তা আনছিলাম। রুম ভাড়া রুমের আসবাবপত্র বিক্রি করে দিয়া দিও।’

নিহতের বড় ভাই নাঈম বলেন, নয়মাস পূর্বে বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সংসারে তেমন বড় কোন ঝগড়াঝাঁটি হয়েছে বলে জানা নেই। ওরা স্বামী স্ত্রী একটি বাসাভাড়া নিয়ে থাকতো। বুধবার (২৬ জুন) দুপুরের দিকে বাড়ির ভাড়াটিয়া আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। এরপর এসে বোনের মরদেহ দেখতে পায়। বোনের বাসায় এসে অনন্য ভাড়াটিয়াদের মাধ্যমে জানতে পারি বোনকে তার স্বামী গলায় রশি বেঁধে শ্বাসরুদ্ধকরে হত্যা করে পালিয়েছে। এরপর বোনজামাইয়ের একবন্ধুকে ফোন করে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার কথা জানায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাড়াটিয়া বলেন,বুধবার (২৬ জুন) দুপুরের একটু আগে আল আমিনের এক বন্ধু এসে জানায় আল আমিন তাকে ফোন করে বলছে সে তার স্ত্রীকে খুন করেছে। এরপর ঘরের ভেতর রেখে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে গেছে। যাতে মরদেহ পঁচে যাওয়ার আগে তার আত্নীয় স্বজন এসে নিয়ে যায়। এরপর বিষয়টি তিনি বাড়ির মালিককে অবহিত করেন। পরবর্তীতে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে ঘরের দরজার তালা ভেঙে মরদেহ দেখতে পায়।

মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য মো. শামীম মৃধা বলেন, ঘরের ভেতর মরদেহ রয়েছে এমন খবর পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে ঘরের দরজার তালা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের পাশে পাঁচ পৃষ্ঠার সাদা কাগজে চিরকুট ও রশি পড়ে ছিলো।

মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মশিউর রহমান এর সত্যতা নিশ্চত করে বলেন, স্ত্রীকে হত্যার পর ঘরের ভেতর মরদেহ রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে স্বামী। এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজার লক ভেঙে ঘরের মেঝেতে নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহের পাশে চিরকুট ও রশি ছিলো। মরদেহ উদ্ধার করে মগেৃ পাঠানো হয়েছে।