ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শালিসী অপমান সইতে না পেরে গ্রাম প্রধানের আত্মহত্যা

নওগাঁ প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নওগাঁর রানীনগরের শালিসী অপমান সইতে না পেরে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্নহত্যা করেছে গ্রাম প্রধান । তার নাম-মোঃ শখিন উদ্দীন সকু। তিনি পাকুরিয়া গ্রামে মৃত হেকমত আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে আবাদপুকুর বাজারের চারমাথা বসবাস করে আসছিলেন।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। বুধবার ভোরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে মারা যান তিনি।

জানা গেছে, ঈদের দিন বিকেলে কোরবানীর মাংশ নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে বিভিন্ন আত্নীয়ের বাড়ীতে বিতরণ করার সময় আবাদপুকুর চারমাথা মোড়ে আসলে এক ভ্যানের সাথে ধাক্কা লাগলে মোটরসাইকেল চালক সিরাজুল ডান হাতে ও পায়ে আঘাত পান। পরে ভ্যান চালকের সাথে বাকবিতন্ডায় সিরাজুল দু’একটা চর থাপ্পর মারে। ভ্যানে থাকা যাত্রী পাকুরিয়া গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে আঃ জলিল প্রতিবাদ করলে তার সাথেও বাকবিতন্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। খবর পেয়ে সিরাজুলের অন্যান্য ভাইয়েরা আসলে তাদের সাথেও বাকবিতন্ডা হলে এক পর্যায়ে লোকজন এসে উভয় পক্ষকে ওই স্থান থেকে বিদায় করে দিলে তারা বাড়ী চলে যান।

আঃ জলিল পরদিন থানায় অভিযোগ দায়ের করলে থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ওবায়েদ বিষয়টি একডালা পুলিশ ফাড়ীর ইনচার্জ এসআই ফরিদ উদ্দীনের নিকট বিষয়টি দেখার জন্য নির্দেশ দেন। এসআই ফরিদ উদ্দীন বিষয়টি নিয়ে মিমাংশার জন্য মঙ্গলবার উভয় পক্ষকে আবাদপুকুর কলেজ মাঠে সালিশ বৈঠক ডাকেন। তাতে সিরাজুলরা ৩ ভাই ও তার বাবা সখিমুদ্দীন এবং অপর পক্ষ ভ্যান চালক ও যাত্রী আঃ জলিলসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলামসহ পুলিশের এসআই ফরিদ ও আর একজন সদস্য উপস্থিত থাকবেন বলে জানান। এসআই ফরিদের কথামত তারা কাউকেও না নিয়ে চলে যায় শালিশে। গিয়ে দেখে প্রতিপক্ষের প্রায় শতাধিক লোক। বিষয়টি দেখে এসআই ফরিদকে জানালে তিনি বলে কোন অসুবিধা নাই বলে আশ্বস্ত করেন। শালিসে বিস্তারিত কোন কিছু না শুনে একতরফা ভাবে তাদের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে ৪ সদস্যের একটি জুড়ী বোর্ড গঠন করে দেয় এসআই ফরিদ ও চেয়ারম্যান শাজাহান আলী।

জুড়ি বোর্ডের সদস্যরা হলো- এসআই ফরিদ ও আর একজন ফাড়ির পুলিশ সদস্য, চেয়ারম্যান শাজাহান আলী ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম। জুড়ী বোর্ডে তাদের কোন লোক ছিল না। জুড়ি বোর্ডের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় এসআই ফরিদ। সিরাজুলসহ তার ৩ ভাই ও তার বাবা সখুমদ্দিনকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। জরিমানার টাকা ৫ হাজার আঃ জলিলকে এবং ৩ হাজার টাকা ভ্যান চালককে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আর হাত ধরে ক্ষমা চাইতে হবে পিতাসহ তাদের এই শালিশে। বাধ্য হয়ে নগদ টাকা দিয়ে সিরাজুলেরা দুই ভাই ও তার বাবা কোন অপরাধ না করেও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ায় ওই মাঠ থেকে চলে আসে। তবে তার ছোট ভাই কোন ক্ষমা চায় না। সখুমুদ্দিন দীর্ঘ দিন ধরে ওই এলাকার বিচার শালিস করে আসছিল। তাকে ছাড়া ওই ইউনিয়নে কোন বিচার শালিশ হয় নাই। জোর করে ক্ষমা চাওয়ায় সে সহ্য করতে না পারায় ওই মাঠ থেকে এসে বাজারে এক দোকান থেকে গ্যাসের ট্যাবলেট নিয়ে সবার অজান্তে খেয়ে ফেলে। কিছুক্ষন পর অবস্থা বেগতিক হলে তার ছেলের কাছে খবর দিলে তার ছেলেরা প্রথমে বাজারের একটি ক্লিনিকে এরপর রানীনগর হাসপাতালে এবং সেখান থেকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোররাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ওবায়েদ বলেন, লোকমুখে ঘটনা শুনেছেন । তবে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শালিসী অপমান সইতে না পেরে গ্রাম প্রধানের আত্মহত্যা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪

নওগাঁর রানীনগরের শালিসী অপমান সইতে না পেরে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্নহত্যা করেছে গ্রাম প্রধান । তার নাম-মোঃ শখিন উদ্দীন সকু। তিনি পাকুরিয়া গ্রামে মৃত হেকমত আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে আবাদপুকুর বাজারের চারমাথা বসবাস করে আসছিলেন।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। বুধবার ভোরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে মারা যান তিনি।

জানা গেছে, ঈদের দিন বিকেলে কোরবানীর মাংশ নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে বিভিন্ন আত্নীয়ের বাড়ীতে বিতরণ করার সময় আবাদপুকুর চারমাথা মোড়ে আসলে এক ভ্যানের সাথে ধাক্কা লাগলে মোটরসাইকেল চালক সিরাজুল ডান হাতে ও পায়ে আঘাত পান। পরে ভ্যান চালকের সাথে বাকবিতন্ডায় সিরাজুল দু’একটা চর থাপ্পর মারে। ভ্যানে থাকা যাত্রী পাকুরিয়া গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে আঃ জলিল প্রতিবাদ করলে তার সাথেও বাকবিতন্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। খবর পেয়ে সিরাজুলের অন্যান্য ভাইয়েরা আসলে তাদের সাথেও বাকবিতন্ডা হলে এক পর্যায়ে লোকজন এসে উভয় পক্ষকে ওই স্থান থেকে বিদায় করে দিলে তারা বাড়ী চলে যান।

আঃ জলিল পরদিন থানায় অভিযোগ দায়ের করলে থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ওবায়েদ বিষয়টি একডালা পুলিশ ফাড়ীর ইনচার্জ এসআই ফরিদ উদ্দীনের নিকট বিষয়টি দেখার জন্য নির্দেশ দেন। এসআই ফরিদ উদ্দীন বিষয়টি নিয়ে মিমাংশার জন্য মঙ্গলবার উভয় পক্ষকে আবাদপুকুর কলেজ মাঠে সালিশ বৈঠক ডাকেন। তাতে সিরাজুলরা ৩ ভাই ও তার বাবা সখিমুদ্দীন এবং অপর পক্ষ ভ্যান চালক ও যাত্রী আঃ জলিলসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলামসহ পুলিশের এসআই ফরিদ ও আর একজন সদস্য উপস্থিত থাকবেন বলে জানান। এসআই ফরিদের কথামত তারা কাউকেও না নিয়ে চলে যায় শালিশে। গিয়ে দেখে প্রতিপক্ষের প্রায় শতাধিক লোক। বিষয়টি দেখে এসআই ফরিদকে জানালে তিনি বলে কোন অসুবিধা নাই বলে আশ্বস্ত করেন। শালিসে বিস্তারিত কোন কিছু না শুনে একতরফা ভাবে তাদের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে ৪ সদস্যের একটি জুড়ী বোর্ড গঠন করে দেয় এসআই ফরিদ ও চেয়ারম্যান শাজাহান আলী।

জুড়ি বোর্ডের সদস্যরা হলো- এসআই ফরিদ ও আর একজন ফাড়ির পুলিশ সদস্য, চেয়ারম্যান শাজাহান আলী ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম। জুড়ী বোর্ডে তাদের কোন লোক ছিল না। জুড়ি বোর্ডের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় এসআই ফরিদ। সিরাজুলসহ তার ৩ ভাই ও তার বাবা সখুমদ্দিনকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। জরিমানার টাকা ৫ হাজার আঃ জলিলকে এবং ৩ হাজার টাকা ভ্যান চালককে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আর হাত ধরে ক্ষমা চাইতে হবে পিতাসহ তাদের এই শালিশে। বাধ্য হয়ে নগদ টাকা দিয়ে সিরাজুলেরা দুই ভাই ও তার বাবা কোন অপরাধ না করেও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ায় ওই মাঠ থেকে চলে আসে। তবে তার ছোট ভাই কোন ক্ষমা চায় না। সখুমুদ্দিন দীর্ঘ দিন ধরে ওই এলাকার বিচার শালিস করে আসছিল। তাকে ছাড়া ওই ইউনিয়নে কোন বিচার শালিশ হয় নাই। জোর করে ক্ষমা চাওয়ায় সে সহ্য করতে না পারায় ওই মাঠ থেকে এসে বাজারে এক দোকান থেকে গ্যাসের ট্যাবলেট নিয়ে সবার অজান্তে খেয়ে ফেলে। কিছুক্ষন পর অবস্থা বেগতিক হলে তার ছেলের কাছে খবর দিলে তার ছেলেরা প্রথমে বাজারের একটি ক্লিনিকে এরপর রানীনগর হাসপাতালে এবং সেখান থেকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোররাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ওবায়েদ বলেন, লোকমুখে ঘটনা শুনেছেন । তবে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেনি।