ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিছানার চাদর দিয়ে প্রাচীর টপকে পালান চার কয়েদি

বগুড়া প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪ ৪১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়ার কারাগারের কনডেম সেলের ছাঁদ ফুটো করে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত চার কয়েদির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা হয়েছে। জেলা কারাগারের জেলার ফরিদুর রহমান রুবেল বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, গ্রেফতারের পর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীর কাছ থেকে স্ক্রু ডাইভার ও স্টিলের পাত উদ্ধার করা হয়। চারজনই কারাগারের জাফলং সেলের ছাদ সু’কৌশলে ফুটো করে পালিয়েছিলো। মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাত ৩টা ৫ মিনিটে কারারক্ষী মো. স্বপন মিয়া কারাগারের উত্তরপাশের পেরিমিটার ওয়ালের বাইরে বিছানার চাদর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে অন্য রক্ষীদের খবর দেন। পরে জেল সুপার ও জেলার ঘটনাস্থলে আসেন। তারা দেখেন জাফলং সেলের ২নং ওয়ার্ডের ছাদ ভাঙা এবং চারজন নেই। রাত ১টা থেকে রাত ৩টা ৫ মিনিটের মধ্যে পালানোর ঘটনা ঘটে।

এদিকে, বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে প্রথম তিনি রাতেই এডিএমকে পাঠান। পরে তিনি পুলিশকেও বিষয়টি জানান। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি ও পুলিশ সুপার বুধবার (২৬ জুন) সকালে কারাগার পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল কায়েসকে প্রধান করে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির অন্যরা র‌্যাব, পুলিশ, কারাগার, ফায়ার সার্ভিস ও গণপুর্ত বিভাগের প্রতিনিধি।

কারাসূত্র জানায়, বগুড়া জেলা কারাগারে কয়েকটি কনডেম সেল রয়েছে। কারাগারে ফাঁসির কয়েদি রয়েছে ১৩ জন। প্রতিটি সেলে চারজন করে ছিলো। অপর একজন ছিলো অন্যস্থানে। যে চারজন পালিয়েছিলো তারা একই সেলে থাকতো। কারাগারের ১নং প্রাচীর সংলগ্ন ওই সেলের ছাদ তারা ফুটো করেছিলো।

সূত্র জানায়, সেলের দরজার কোনে আড়াল করে তারা ছাদ ফুটো করে। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় ফাঁসির কয়েদিরা পালানোর পরিকল্পনা করে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। অনেকটা সিনেমা স্টাইলে তারা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলো বলে পুলিশ ও কারাসূত্র মনে করছে। কারণ একদিনে তারা ছাদ ফুটো করতে পারেনি।

সূত্র জানায়, সেলের দরজা আড়াল করে ছাদ ফুটো করার জন্য তারা কোন বেছে নেয়। যাতে বাইরে থেকে কোন কিছু ধরা না পড়ে। বিছানার চাদর দিয়ে তারা কৌশলে ওপরের দিকে উঠে ছাদ ফুটো করে। এথেকে বোঝা যায় তারা নিখুঁত পরিকল্পনা করেছিলো।

এক কারা রক্ষী জানান, সেলের বাইরে গ্রীল দিয়ে ঘেরা রয়েছে। পলাতকরা সেটিও টপকে যায়। পরে তারা গ্রীলের সাথে চাদরের দড়ি ব্যবহার করে কারাগারের প্রাচীর টপকে বের হয়ে আসে। তবে ছাদ ফুটো ও পালিয়ে আসার পরিকল্পনা দু’টিতেই ছিলো অত্যন্ত পরিকল্পনার ছাপ। তাদের পালানোর পুরো প্রক্রিয়াই হিন্দি সিনেমাকে হার মানিয়েছে। আর কারা কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা কি ভাবে ছাদ ফুটো করলো তা নিয়ে শুধু বিষ্ময়ই সৃস্টি করেছে।

দ্বিতীয় গেটে প্রহরী ছিলো না: বগুড়া জেলা কারাগারের এলাকায় (কারা অভ্যন্তরে নয়) প্রবেশ করতে মোট ৩টি ফটক রয়েছে। দক্ষিণ দিকের ফটক সাধারণরা ব্যবহার করেন না। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশের গেটে দিয়ে প্রবেশ করার পর প্রাচীর লাগোয়া আরেকটি গেট রয়েছে। এই দ্বিতীয় গেট বন্ধ থোকলে কোনভাবেই কারাগারের মূল ফটকের দিকে যাওয়া সম্ভব না এবং প্রহরী থাকলে তার চোখে ধরা পড়বেই। একাধিক কারারক্ষীর সাথে কথা বলে জানা গেছে দ্বিতীয় গেটে প্রহরী ছিলো না। মাঝে মাঝে থাকেন।

আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নাইট কলারের চোখে বিষয়টি ধরা পড়েছিলো। এদিকে, সকাল থেকে জেল সুপারসহ কারা কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা গণমাধ্যমের সাথে কোনো কথা বলেননি। জেলা সুপার কথা বলতে বের হননি বা মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। জেলার ফরিদুর রহমানও কথা বলেননি। ডিআইজি প্রিজন(কারা উপ মহাপরিদর্শক) রাজশাহী মোঃ কামাল হোসেন সকালে বগুড়া জেলা কারাগারে আসলেও সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। পরে কারাগার পরিদর্শনে আসেন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান।

তিনি জানান, বগুড়া কারাগারটি প্রায় ১৪০ বছরের পুরানো। ইতোপূর্বে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোন অভিযোগ তাদের নিকট ছিলো না। পাশাপাশি ৫টি সেল রয়েছে। কনেডম সেল বিষয়ে কোন কিছু নেই জানিয়ে বলেন, একটি সেলে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ৪ কয়েদি জন্য তবে এর বেশি কয়েদিও রাখা যায়। তদন্ত কমিটির প্রধান হিসাবে তিনি কারা ফুটেজ ও পুরো ঘটনা তদন্ত করছেন। ৩ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি ৫ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিবেন।

তিনি জানান, কারাগারের ভিতরে সার্বক্ষনিক বিদ্যুত থাকে। তবে ঘটনার সময় সিসি টিভির ফুটেজ অনুযায়ি কারাগারের বাইরে কিছু সময়ের জন্য অন্ধকার ছিলো। এ ঘটনা বগুড়ায় টক অবদা টাউনে পরিনত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিছানার চাদর দিয়ে প্রাচীর টপকে পালান চার কয়েদি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪

বগুড়ার কারাগারের কনডেম সেলের ছাঁদ ফুটো করে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত চার কয়েদির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা হয়েছে। জেলা কারাগারের জেলার ফরিদুর রহমান রুবেল বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, গ্রেফতারের পর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীর কাছ থেকে স্ক্রু ডাইভার ও স্টিলের পাত উদ্ধার করা হয়। চারজনই কারাগারের জাফলং সেলের ছাদ সু’কৌশলে ফুটো করে পালিয়েছিলো। মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাত ৩টা ৫ মিনিটে কারারক্ষী মো. স্বপন মিয়া কারাগারের উত্তরপাশের পেরিমিটার ওয়ালের বাইরে বিছানার চাদর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে অন্য রক্ষীদের খবর দেন। পরে জেল সুপার ও জেলার ঘটনাস্থলে আসেন। তারা দেখেন জাফলং সেলের ২নং ওয়ার্ডের ছাদ ভাঙা এবং চারজন নেই। রাত ১টা থেকে রাত ৩টা ৫ মিনিটের মধ্যে পালানোর ঘটনা ঘটে।

এদিকে, বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে প্রথম তিনি রাতেই এডিএমকে পাঠান। পরে তিনি পুলিশকেও বিষয়টি জানান। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি ও পুলিশ সুপার বুধবার (২৬ জুন) সকালে কারাগার পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল কায়েসকে প্রধান করে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির অন্যরা র‌্যাব, পুলিশ, কারাগার, ফায়ার সার্ভিস ও গণপুর্ত বিভাগের প্রতিনিধি।

কারাসূত্র জানায়, বগুড়া জেলা কারাগারে কয়েকটি কনডেম সেল রয়েছে। কারাগারে ফাঁসির কয়েদি রয়েছে ১৩ জন। প্রতিটি সেলে চারজন করে ছিলো। অপর একজন ছিলো অন্যস্থানে। যে চারজন পালিয়েছিলো তারা একই সেলে থাকতো। কারাগারের ১নং প্রাচীর সংলগ্ন ওই সেলের ছাদ তারা ফুটো করেছিলো।

সূত্র জানায়, সেলের দরজার কোনে আড়াল করে তারা ছাদ ফুটো করে। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় ফাঁসির কয়েদিরা পালানোর পরিকল্পনা করে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। অনেকটা সিনেমা স্টাইলে তারা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলো বলে পুলিশ ও কারাসূত্র মনে করছে। কারণ একদিনে তারা ছাদ ফুটো করতে পারেনি।

সূত্র জানায়, সেলের দরজা আড়াল করে ছাদ ফুটো করার জন্য তারা কোন বেছে নেয়। যাতে বাইরে থেকে কোন কিছু ধরা না পড়ে। বিছানার চাদর দিয়ে তারা কৌশলে ওপরের দিকে উঠে ছাদ ফুটো করে। এথেকে বোঝা যায় তারা নিখুঁত পরিকল্পনা করেছিলো।

এক কারা রক্ষী জানান, সেলের বাইরে গ্রীল দিয়ে ঘেরা রয়েছে। পলাতকরা সেটিও টপকে যায়। পরে তারা গ্রীলের সাথে চাদরের দড়ি ব্যবহার করে কারাগারের প্রাচীর টপকে বের হয়ে আসে। তবে ছাদ ফুটো ও পালিয়ে আসার পরিকল্পনা দু’টিতেই ছিলো অত্যন্ত পরিকল্পনার ছাপ। তাদের পালানোর পুরো প্রক্রিয়াই হিন্দি সিনেমাকে হার মানিয়েছে। আর কারা কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা কি ভাবে ছাদ ফুটো করলো তা নিয়ে শুধু বিষ্ময়ই সৃস্টি করেছে।

দ্বিতীয় গেটে প্রহরী ছিলো না: বগুড়া জেলা কারাগারের এলাকায় (কারা অভ্যন্তরে নয়) প্রবেশ করতে মোট ৩টি ফটক রয়েছে। দক্ষিণ দিকের ফটক সাধারণরা ব্যবহার করেন না। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশের গেটে দিয়ে প্রবেশ করার পর প্রাচীর লাগোয়া আরেকটি গেট রয়েছে। এই দ্বিতীয় গেট বন্ধ থোকলে কোনভাবেই কারাগারের মূল ফটকের দিকে যাওয়া সম্ভব না এবং প্রহরী থাকলে তার চোখে ধরা পড়বেই। একাধিক কারারক্ষীর সাথে কথা বলে জানা গেছে দ্বিতীয় গেটে প্রহরী ছিলো না। মাঝে মাঝে থাকেন।

আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নাইট কলারের চোখে বিষয়টি ধরা পড়েছিলো। এদিকে, সকাল থেকে জেল সুপারসহ কারা কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা গণমাধ্যমের সাথে কোনো কথা বলেননি। জেলা সুপার কথা বলতে বের হননি বা মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। জেলার ফরিদুর রহমানও কথা বলেননি। ডিআইজি প্রিজন(কারা উপ মহাপরিদর্শক) রাজশাহী মোঃ কামাল হোসেন সকালে বগুড়া জেলা কারাগারে আসলেও সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। পরে কারাগার পরিদর্শনে আসেন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান।

তিনি জানান, বগুড়া কারাগারটি প্রায় ১৪০ বছরের পুরানো। ইতোপূর্বে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোন অভিযোগ তাদের নিকট ছিলো না। পাশাপাশি ৫টি সেল রয়েছে। কনেডম সেল বিষয়ে কোন কিছু নেই জানিয়ে বলেন, একটি সেলে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ৪ কয়েদি জন্য তবে এর বেশি কয়েদিও রাখা যায়। তদন্ত কমিটির প্রধান হিসাবে তিনি কারা ফুটেজ ও পুরো ঘটনা তদন্ত করছেন। ৩ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি ৫ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিবেন।

তিনি জানান, কারাগারের ভিতরে সার্বক্ষনিক বিদ্যুত থাকে। তবে ঘটনার সময় সিসি টিভির ফুটেজ অনুযায়ি কারাগারের বাইরে কিছু সময়ের জন্য অন্ধকার ছিলো। এ ঘটনা বগুড়ায় টক অবদা টাউনে পরিনত হয়েছে।