ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বানের পানিতে ভাসছে সিলেট! পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রী, দেখুন ছবিতে

সিলেট ব্যুরো
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪ ৪২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গােটা সিলেট ভাসছে বন্যায়। ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে সবক’টি উপজেলা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বন্যাকবলিত গোয়াইনঘাট,জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। এরমধ্যে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৭ লাখ মানুষ।

জেলার সব পয়েন্টে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া সুরমা নদীর পানি উপচেপড়ে প্রবেশ করেছে নগরীতে। ফলে দুই তৃতীয়ংশ এলাকায় হাঁটু থেকে কােমর পানি হওয়ায় তীব্র জনদুর্ভােগ দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় রিকশা এবং সাধারণ গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। অনেকের বাসাবাড়ি ও দােকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে রাত কাটাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

এরমধ্যে জেলার তিনটি হাসপাতালে বন্যায় পানি ঢুকে পড়ায় সেখানকার রােগিদের সেবা দিতে ১২৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় বুধবার (১৯ জুন) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী সিলেট সফরে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী গোটা বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় সূত্র জানায়, এ সময় সুরমা নদী কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে বইছে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে।

কুশিয়ারা নদী আমলশীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদী ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৯২ ও শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। এছাড়া সারি-গোয়াইন নদী সারিঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার দশমিক ৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।

জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান জানান, সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে, বন্যায় সিলেটের ১৩ উপজেলার ৮৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন এবং কানাইঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলাগুলোর ৮৪৯টি গ্রাম বন্যাক্রান্ত হয়ে তিন লাখ ৬১ হাজার ৫০৭ জন মানুষ বন্যাকবলিত। এসব উপজেলায় ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত তিন হাজার ৯২৪ জন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর এবারো সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বরইকান্দিতে বিদ্যুতের সাবস্টেশন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তবে স্টেশনটিতে যাতে নদীর পানি ঢুকতে না পারে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায় সে জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের পাশাপাশি প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনী ও সিলেট সিটি করপোরেশন।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো ওঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সাহায্য করবে।’

সিলেটের নদ-নদীর পানি বেড়ে নগর এলাকার পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করে সিলেট সিটি করপোরেশন। বন্যাদুর্গতদের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মেয়র মাে. আনােয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

বন্যার কারণে তিনটি উপজেলায় হাসপাতাল চত্বরে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মেজয় দত্ত জানান, বন্যাকবলিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সিলেট জেলায় ১২৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এসব দলে চিকিৎসক ছাড়াও নার্সসহ স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট অনেকেই আছেন।

বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোর মধ্যে বিয়ানীবাজারে ১৬টি, কানাইঘাটে ১২, গোলাপগঞ্জে ১২, জকিগঞ্জে ১০, গোয়াইনঘাটে ১০, কোম্পানীগঞ্জে ১০, বিশ্বনাথে ৯, সিলেট সদরে ৯, দক্ষিণ সুরমায় ৯, ওসমানীনগরে ৯, বালাগঞ্জে ৬, ফেঞ্চুগঞ্জে ৬ ও জৈন্তাপুরে ৬টি মেডিকেল টিম গঠিত হয়েছে। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে আরও দুটি মেডিকেল টিম করা হয়েছে।

এদিকে, সিলেট জেলার বন্যার্তদের মাঝে ৬৩১ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ১৪৯৫ বস্তা শুকনো খাবার, শিশুখাদ্যের জন্য নগদ ১০ লাখ ও গো-খাদ্যের জন্য নগদ ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

অপরদিকে, সিলেট মহানগরে ৬৫ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলায় বন্যা পরিস্থিতিতে বর্তমানে ৮১৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা, শিশুখাদ্যের জন্য নগদ ৩৪ লাখ ও গো-খাদ্যের জন্য নগদ ৪০ লাখ টাকার চাহিদা রয়েছে। তবে শুকনো খাবার চাহিদার চাইতে অনেক বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান এমপি বুধবার (১৯ জুন) মহানগরের বিভিন্ন বন্যা কবলিত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন । এরপর মিরাবাজার কিশোরী মোহন বালক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি।

এসময় নগদ ১০ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল ও দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মহিববুর রহমান এমপি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বানের পানিতে ভাসছে সিলেট! পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রী, দেখুন ছবিতে

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

গােটা সিলেট ভাসছে বন্যায়। ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে সবক’টি উপজেলা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বন্যাকবলিত গোয়াইনঘাট,জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। এরমধ্যে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৭ লাখ মানুষ।

জেলার সব পয়েন্টে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া সুরমা নদীর পানি উপচেপড়ে প্রবেশ করেছে নগরীতে। ফলে দুই তৃতীয়ংশ এলাকায় হাঁটু থেকে কােমর পানি হওয়ায় তীব্র জনদুর্ভােগ দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় রিকশা এবং সাধারণ গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। অনেকের বাসাবাড়ি ও দােকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে রাত কাটাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

এরমধ্যে জেলার তিনটি হাসপাতালে বন্যায় পানি ঢুকে পড়ায় সেখানকার রােগিদের সেবা দিতে ১২৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় বুধবার (১৯ জুন) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী সিলেট সফরে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী গোটা বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় সূত্র জানায়, এ সময় সুরমা নদী কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে বইছে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে।

কুশিয়ারা নদী আমলশীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদী ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৯২ ও শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। এছাড়া সারি-গোয়াইন নদী সারিঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার দশমিক ৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।

জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান জানান, সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে, বন্যায় সিলেটের ১৩ উপজেলার ৮৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন এবং কানাইঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলাগুলোর ৮৪৯টি গ্রাম বন্যাক্রান্ত হয়ে তিন লাখ ৬১ হাজার ৫০৭ জন মানুষ বন্যাকবলিত। এসব উপজেলায় ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত তিন হাজার ৯২৪ জন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর এবারো সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বরইকান্দিতে বিদ্যুতের সাবস্টেশন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তবে স্টেশনটিতে যাতে নদীর পানি ঢুকতে না পারে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায় সে জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের পাশাপাশি প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনী ও সিলেট সিটি করপোরেশন।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো ওঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সাহায্য করবে।’

সিলেটের নদ-নদীর পানি বেড়ে নগর এলাকার পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করে সিলেট সিটি করপোরেশন। বন্যাদুর্গতদের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মেয়র মাে. আনােয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

বন্যার কারণে তিনটি উপজেলায় হাসপাতাল চত্বরে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মেজয় দত্ত জানান, বন্যাকবলিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সিলেট জেলায় ১২৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এসব দলে চিকিৎসক ছাড়াও নার্সসহ স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট অনেকেই আছেন।

বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোর মধ্যে বিয়ানীবাজারে ১৬টি, কানাইঘাটে ১২, গোলাপগঞ্জে ১২, জকিগঞ্জে ১০, গোয়াইনঘাটে ১০, কোম্পানীগঞ্জে ১০, বিশ্বনাথে ৯, সিলেট সদরে ৯, দক্ষিণ সুরমায় ৯, ওসমানীনগরে ৯, বালাগঞ্জে ৬, ফেঞ্চুগঞ্জে ৬ ও জৈন্তাপুরে ৬টি মেডিকেল টিম গঠিত হয়েছে। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে আরও দুটি মেডিকেল টিম করা হয়েছে।

এদিকে, সিলেট জেলার বন্যার্তদের মাঝে ৬৩১ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ১৪৯৫ বস্তা শুকনো খাবার, শিশুখাদ্যের জন্য নগদ ১০ লাখ ও গো-খাদ্যের জন্য নগদ ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

অপরদিকে, সিলেট মহানগরে ৬৫ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলায় বন্যা পরিস্থিতিতে বর্তমানে ৮১৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা, শিশুখাদ্যের জন্য নগদ ৩৪ লাখ ও গো-খাদ্যের জন্য নগদ ৪০ লাখ টাকার চাহিদা রয়েছে। তবে শুকনো খাবার চাহিদার চাইতে অনেক বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান এমপি বুধবার (১৯ জুন) মহানগরের বিভিন্ন বন্যা কবলিত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন । এরপর মিরাবাজার কিশোরী মোহন বালক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি।

এসময় নগদ ১০ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল ও দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মহিববুর রহমান এমপি।