ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৪১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪ ২৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামে ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। দুধকুমার নদের করাল গ্রাসে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ও সড়ক উপচে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তির্ন জনপদ। দীর্ঘ হচ্ছে বানভাসীদের তালিকা।

রবিবার (৭ জুলাই) সকালে কেদার ইউনিয়নের বাহের কেদার আকরাম মাষ্টারের বাড়ির সামনে ভেঙ্গে গেছে এলজিইডি ক্ষুদ্র ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের নির্মিত একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ১৫মিটার। একই দিন বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ভোরে মুড়িয়া গ্রামে এক জায়গায় বাঁধ ভাঙ্গার উপক্রম হলে এলাকাবাসী তা নিজ উদ্যোগে সংস্কার করেন। এছাড়া একই ইউনিয়নের তেলিয়ানীতে এর আগে শনিবার একটি বেরি বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। কচাকাটা থেকে আয়নালের ঘাটগামী পাকা সড়ক উপছে পানি প্রবেশ করছে বিস্তির্ণ এলাকায়।

ইউপি সদস্য আবেদ আলী বলেন, পানি যেভাবে প্রবেশ করছে তাতে তেলিয়ানীর অধিকাংশ ঘর-বাড়ীতে পানি উঠে যাবে। একই অবস্থা যেসব এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গেছে তার আশেপাশের গ্রামগুলোর।

অপরদিকে, কেদার ইউনিয়নের বাহের কেদার গ্রামের আকরাম মাষ্টারের বাড়ি সংলগ্ন স্থানীয় সরকার বিভাগের ক্ষুদ্র পানি ব্যাবস্থাপনা প্রকল্পের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধের ১৫ মিটার জায়গা ভেগে হু হু করে পানি ঢুকতে থাকে তিনটি গ্রামে।

টানা ৭দিন ব্যাপী স্থায়ী বন্যায় দুধকুমার, ধরলা ও ব্রহ্মপূত্র নদী তীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার বন্যা প্লাবিত মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। জেলার ৯ উপজেলার দুটি পৌরসভাসহ প্রায় ৬০টি ইউনিয়নের দু’লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে মানুষ যেসব উঁচু স্থানে গবাদিপশু রেখেছে, গত দু’দিনে হুহু করে সেসব স্থানে পানি ওঠায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পরেছে জলবন্দি মানুষ। জীবন বাঁচাতে অনেকে নিজস্ব নৌকায়, উঁচু রাস্তায়, ফ্লাড শেল্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উঁচু ভূমিতে কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ ইকাবাল রাজিব বাঁধ ভাঙ্গার বিষয়ে জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আমাদের কেউ জানায়নি। খোঁজ খবর নিয়ে জানাতে পারবো।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান এ বিষয়ে জানান, দুধকুমার নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ চলমান রয়েছে। সেগুলো বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙ্গার কোন খবর তাদের কাছে নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

আপডেট সময় : ০৮:৪১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪

কুড়িগ্রামে ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। দুধকুমার নদের করাল গ্রাসে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ও সড়ক উপচে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তির্ন জনপদ। দীর্ঘ হচ্ছে বানভাসীদের তালিকা।

রবিবার (৭ জুলাই) সকালে কেদার ইউনিয়নের বাহের কেদার আকরাম মাষ্টারের বাড়ির সামনে ভেঙ্গে গেছে এলজিইডি ক্ষুদ্র ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের নির্মিত একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ১৫মিটার। একই দিন বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ভোরে মুড়িয়া গ্রামে এক জায়গায় বাঁধ ভাঙ্গার উপক্রম হলে এলাকাবাসী তা নিজ উদ্যোগে সংস্কার করেন। এছাড়া একই ইউনিয়নের তেলিয়ানীতে এর আগে শনিবার একটি বেরি বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। কচাকাটা থেকে আয়নালের ঘাটগামী পাকা সড়ক উপছে পানি প্রবেশ করছে বিস্তির্ণ এলাকায়।

ইউপি সদস্য আবেদ আলী বলেন, পানি যেভাবে প্রবেশ করছে তাতে তেলিয়ানীর অধিকাংশ ঘর-বাড়ীতে পানি উঠে যাবে। একই অবস্থা যেসব এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গেছে তার আশেপাশের গ্রামগুলোর।

অপরদিকে, কেদার ইউনিয়নের বাহের কেদার গ্রামের আকরাম মাষ্টারের বাড়ি সংলগ্ন স্থানীয় সরকার বিভাগের ক্ষুদ্র পানি ব্যাবস্থাপনা প্রকল্পের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধের ১৫ মিটার জায়গা ভেগে হু হু করে পানি ঢুকতে থাকে তিনটি গ্রামে।

টানা ৭দিন ব্যাপী স্থায়ী বন্যায় দুধকুমার, ধরলা ও ব্রহ্মপূত্র নদী তীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার বন্যা প্লাবিত মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। জেলার ৯ উপজেলার দুটি পৌরসভাসহ প্রায় ৬০টি ইউনিয়নের দু’লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে মানুষ যেসব উঁচু স্থানে গবাদিপশু রেখেছে, গত দু’দিনে হুহু করে সেসব স্থানে পানি ওঠায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পরেছে জলবন্দি মানুষ। জীবন বাঁচাতে অনেকে নিজস্ব নৌকায়, উঁচু রাস্তায়, ফ্লাড শেল্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উঁচু ভূমিতে কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ ইকাবাল রাজিব বাঁধ ভাঙ্গার বিষয়ে জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আমাদের কেউ জানায়নি। খোঁজ খবর নিয়ে জানাতে পারবো।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান এ বিষয়ে জানান, দুধকুমার নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ চলমান রয়েছে। সেগুলো বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙ্গার কোন খবর তাদের কাছে নেই।