ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বরের বাড়ীতে সুনসান নিরবতা, কনের বাড়ীতে কান্নার রোল

বরগুনা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সেতু ভেঙে বিয়ের কনের পক্ষের ৯ জন মারা যাওয়ায় বর ডা. সোহাগ ও কনে হুমায়রার বাড়ীতে চলছে শোকের মাতম। বরের বাড়ীতে সুনসান নিরবতা। কনের বাড়ীতে কান্নার রোল বইছে।

জানা গেছে, আমতলী উপজেলা কাউনিয়া ই্ব্রাহিম একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের মাসুম বিল্লাহ মনিরের মেয়ে হুমায়রা আক্তারের সাথে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমতলী পৌর শহরের খোন্তাকাটা এলাকার বাসিন্দা সেলিম মাহমুদের ছেলে ডা. সোহাগের বিয়ে হয়। শুক্রবার (২১ জুন) কনেকে বরের বাড়ী তুলে আনেন।

শনিবার (২২ জুন) মেয়ের পক্ষের লোকজন বরের বাড়ীতে মাইক্রো এবং অটোতে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে হলদিয়া সেতু পাড় হওয়ার সময় সেতুর মাঝের অংশ ভেঙে যায়। এতে মাইক্রোবাস ও অটো গাড়ী নদীতে পড়ে যায়। অটোতে থাকা যাত্রীরা সবাই সাঁতরে কিনারে উঠতে পারলেও মাইক্রোবাসের যাত্রীরা নদীতে তলিয়ে যায়।

তাৎক্ষনিক স্থানীয়রা ওই মাইক্রোতে থাকা লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী নাশির উদ্দিন। ততক্ষণে মাইক্রোবাসে থাকা কনে পক্ষের ৯ যাত্রী মারা যান।

নিহতরা হলো- রুবিয়া (৪৫), রাইতি (২২), ফাতেমা (৫৫), জাকিয়া (৩৫), রুকাইয়াত ইসলাম (৪), তাহিয়া মেহজাবিন আজাদ (৭), তাসফিয়া (১৪), ঋধি (৪) ও শাহনাজ আক্তার রুবি বেগম (৩৫)। এরমধ্যে রুকাইয়াত ইসলাম ও জাকিয়ার বাড়ী উপজেলার দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামে।

অপর নিহত ৭ জনের বাড়ী মাদারিপুর জেলার শিবচর উপজেলার কোকরার চর গ্রামের বাসিন্দা। এরা কনে হুমায়রার মামা বাড়ীর আত্মীয়স্বজন।

এ ঘটনায় বর ডাঃ সোহাগ ও কনের হুমায়রার বাড়ীতে শোকের মাতম বইছে। শনিবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বর ডা. সোহাগের বাড়ীতে সুনসান নিরবতা। ডেক্সিভরা খাবার রয়েছে। মানুষজন নেই। কনের বাড়ীতে বইছে কান্নার মাতম।

বরের বাবা কাউনিয়া ইব্রাহিম একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিম মাহমুদ বলেন, এমন ঘটনার আমি হতভম্ব। কনে পক্ষের লোকজনের জন্য সকল আয়োজন ছিল কিন্তু একটি ফোনে সকল কিছু ভেস্তে চলে গেল।

কনের বাবা মাসুম বিল্লাহ মনির বলেন, আমার কিছুই বলার নেই। আমি শ্বশুর বাড়ীর মানুষকে কি জবাব দেব? আল্লায় কেন আমার উপরে এতো বড় বিপদ দিল?

এদিকে, সেতু ভেঙে মাইক্রোবাস খালে পড়ার পর ৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহত সবাই নারী এবং শিশু।

উদ্ধার হওয়া মাহবুব খান বলেন, শুক্রবার (২১ জুন) আমরা ভাগ্নি হুমায়রা বেগমের বাড়ি হলদিয়া ইউনিয়নের গুরুদল গ্রামে যাই। সেখান থেকে একটি হাইএস মাইক্রোবাসে শনিবার (২২ জুন) দুপুর ১টার সময় ভাগ্নি জামাইর আমতলীর বাড়ির অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য রওয়ানা করি। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে হলদিয়া বাজার সংলগ্ন একটি লোহার সেতু পার হওয়ার সময় মাইক্রোবাসটি মাঝ বরাবর আসার পর আকস্মিক সেতুর ২০ ফুট ধসে মাইক্রোবাস কচুরিপানায় ভর্তি খালে পরে যায়। এরপর আর কিছুই বলতে পারি না। জ্ঞান ফিরে দেখি হাসপাতালে। আল্লায় মোগো বাচাইলেও সব শ্যাষ অইয়া গ্যাছে।

দুঘৃটনার খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডেভোকেট এম কাদের, আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আমির হোসেন সেরনিয়াবাদ ওসি শাখওয়াত হোসেন তপু ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধার কাজ তদারকি করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বরের বাড়ীতে সুনসান নিরবতা, কনের বাড়ীতে কান্নার রোল

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪

সেতু ভেঙে বিয়ের কনের পক্ষের ৯ জন মারা যাওয়ায় বর ডা. সোহাগ ও কনে হুমায়রার বাড়ীতে চলছে শোকের মাতম। বরের বাড়ীতে সুনসান নিরবতা। কনের বাড়ীতে কান্নার রোল বইছে।

জানা গেছে, আমতলী উপজেলা কাউনিয়া ই্ব্রাহিম একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের মাসুম বিল্লাহ মনিরের মেয়ে হুমায়রা আক্তারের সাথে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমতলী পৌর শহরের খোন্তাকাটা এলাকার বাসিন্দা সেলিম মাহমুদের ছেলে ডা. সোহাগের বিয়ে হয়। শুক্রবার (২১ জুন) কনেকে বরের বাড়ী তুলে আনেন।

শনিবার (২২ জুন) মেয়ের পক্ষের লোকজন বরের বাড়ীতে মাইক্রো এবং অটোতে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে হলদিয়া সেতু পাড় হওয়ার সময় সেতুর মাঝের অংশ ভেঙে যায়। এতে মাইক্রোবাস ও অটো গাড়ী নদীতে পড়ে যায়। অটোতে থাকা যাত্রীরা সবাই সাঁতরে কিনারে উঠতে পারলেও মাইক্রোবাসের যাত্রীরা নদীতে তলিয়ে যায়।

তাৎক্ষনিক স্থানীয়রা ওই মাইক্রোতে থাকা লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী নাশির উদ্দিন। ততক্ষণে মাইক্রোবাসে থাকা কনে পক্ষের ৯ যাত্রী মারা যান।

নিহতরা হলো- রুবিয়া (৪৫), রাইতি (২২), ফাতেমা (৫৫), জাকিয়া (৩৫), রুকাইয়াত ইসলাম (৪), তাহিয়া মেহজাবিন আজাদ (৭), তাসফিয়া (১৪), ঋধি (৪) ও শাহনাজ আক্তার রুবি বেগম (৩৫)। এরমধ্যে রুকাইয়াত ইসলাম ও জাকিয়ার বাড়ী উপজেলার দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামে।

অপর নিহত ৭ জনের বাড়ী মাদারিপুর জেলার শিবচর উপজেলার কোকরার চর গ্রামের বাসিন্দা। এরা কনে হুমায়রার মামা বাড়ীর আত্মীয়স্বজন।

এ ঘটনায় বর ডাঃ সোহাগ ও কনের হুমায়রার বাড়ীতে শোকের মাতম বইছে। শনিবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বর ডা. সোহাগের বাড়ীতে সুনসান নিরবতা। ডেক্সিভরা খাবার রয়েছে। মানুষজন নেই। কনের বাড়ীতে বইছে কান্নার মাতম।

বরের বাবা কাউনিয়া ইব্রাহিম একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিম মাহমুদ বলেন, এমন ঘটনার আমি হতভম্ব। কনে পক্ষের লোকজনের জন্য সকল আয়োজন ছিল কিন্তু একটি ফোনে সকল কিছু ভেস্তে চলে গেল।

কনের বাবা মাসুম বিল্লাহ মনির বলেন, আমার কিছুই বলার নেই। আমি শ্বশুর বাড়ীর মানুষকে কি জবাব দেব? আল্লায় কেন আমার উপরে এতো বড় বিপদ দিল?

এদিকে, সেতু ভেঙে মাইক্রোবাস খালে পড়ার পর ৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহত সবাই নারী এবং শিশু।

উদ্ধার হওয়া মাহবুব খান বলেন, শুক্রবার (২১ জুন) আমরা ভাগ্নি হুমায়রা বেগমের বাড়ি হলদিয়া ইউনিয়নের গুরুদল গ্রামে যাই। সেখান থেকে একটি হাইএস মাইক্রোবাসে শনিবার (২২ জুন) দুপুর ১টার সময় ভাগ্নি জামাইর আমতলীর বাড়ির অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য রওয়ানা করি। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে হলদিয়া বাজার সংলগ্ন একটি লোহার সেতু পার হওয়ার সময় মাইক্রোবাসটি মাঝ বরাবর আসার পর আকস্মিক সেতুর ২০ ফুট ধসে মাইক্রোবাস কচুরিপানায় ভর্তি খালে পরে যায়। এরপর আর কিছুই বলতে পারি না। জ্ঞান ফিরে দেখি হাসপাতালে। আল্লায় মোগো বাচাইলেও সব শ্যাষ অইয়া গ্যাছে।

দুঘৃটনার খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডেভোকেট এম কাদের, আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আমির হোসেন সেরনিয়াবাদ ওসি শাখওয়াত হোসেন তপু ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধার কাজ তদারকি করেন।