ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি, বাদ যাচ্ছে না নদীও

মোঃ বিপ্লব, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)
  • আপডেট সময় : ০৫:২১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪ ২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনুমোদন ছাড়াই ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। দিনে এবং রাতে সমানতালে ভেকু দিয়ে জমি খনন করে সেই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। এছাড়াও কেটে নেয়া হচ্ছে নদীর মাটিও। ট্রাক ও ট্রলিতে মাটি পরিবহন করায় ভেঙে যাচ্ছে রাস্তা।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে রাণীশংকৈল উপজেলার ২নং নেকমরদ ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর জোটপাড়া/মহেশপুর সড়কের পশ্চিম ও পূর্ব পাশে সোনালী ব্রিকস গিয়ে মাটি কাটার চিত্র চোখে পড়ে। এ স্থানে অনুমোদন ছাড়াই ভেকু দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলছে কয়েকদিন ধেকে। পরে এসব মাটি মিনি ট্রাকে করে নেয়া হয় পাশেরই একটি ইটের ভাটায়।

জানা যায়, সবুজ আলী নামের এক ব্যবসায়ী অনুমোদন ছাড়াই ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছেন। জানতে চাইলে অভিযুক্ত সবুজ আলী জানান, মাটি কাটার অনুমোদন নেই। অনুমোদন ছাড়া কিভাবে মাটি কাটছেন জানতে চাইলে কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

একই উপজেলার ধর্মগড়, কাশিপুর, রাতোর, বাচোর, নন্দুয়ার, লেহেম্বা, হোসেনগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ থেকে মাটি ব্যবসায়ীরা মাটি কেটে বিক্রি করছেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর, এবং পীরগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে প্রশাসনের নাকের ডগায় ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব চলছে।

জানা গেছে, বিক্রেতারা প্রতি মহেন্দ্র ট্রাকটর মাটি বিক্রি করছেন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে। মাটি বহন করার সময় এসব গাড়ির কারণে আশপাশের জমির ফসলও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এসব বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা উপজেলা প্রশাসন কর্মকর্তাদের জানালে তারা কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার শুরু হয় মাটি খননের কাজ।

রাণীশংকৈল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আর্নিকা আক্তার বলেন, ফসলি জমির মাটি খনন বন্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাণীশংকৈল ইউএনও রকিবুল হাসান বলেন, অনুমোদন ছাড়া ফসলি জমির মাটি খনন ও বিক্রির কোন সুযোগ নেই।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, যেখান থেকে অভিযোগ আসছে সেখানেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি, বাদ যাচ্ছে না নদীও

আপডেট সময় : ০৫:২১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪

অনুমোদন ছাড়াই ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। দিনে এবং রাতে সমানতালে ভেকু দিয়ে জমি খনন করে সেই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। এছাড়াও কেটে নেয়া হচ্ছে নদীর মাটিও। ট্রাক ও ট্রলিতে মাটি পরিবহন করায় ভেঙে যাচ্ছে রাস্তা।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে রাণীশংকৈল উপজেলার ২নং নেকমরদ ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর জোটপাড়া/মহেশপুর সড়কের পশ্চিম ও পূর্ব পাশে সোনালী ব্রিকস গিয়ে মাটি কাটার চিত্র চোখে পড়ে। এ স্থানে অনুমোদন ছাড়াই ভেকু দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলছে কয়েকদিন ধেকে। পরে এসব মাটি মিনি ট্রাকে করে নেয়া হয় পাশেরই একটি ইটের ভাটায়।

জানা যায়, সবুজ আলী নামের এক ব্যবসায়ী অনুমোদন ছাড়াই ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছেন। জানতে চাইলে অভিযুক্ত সবুজ আলী জানান, মাটি কাটার অনুমোদন নেই। অনুমোদন ছাড়া কিভাবে মাটি কাটছেন জানতে চাইলে কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

একই উপজেলার ধর্মগড়, কাশিপুর, রাতোর, বাচোর, নন্দুয়ার, লেহেম্বা, হোসেনগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ থেকে মাটি ব্যবসায়ীরা মাটি কেটে বিক্রি করছেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর, এবং পীরগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে প্রশাসনের নাকের ডগায় ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব চলছে।

জানা গেছে, বিক্রেতারা প্রতি মহেন্দ্র ট্রাকটর মাটি বিক্রি করছেন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে। মাটি বহন করার সময় এসব গাড়ির কারণে আশপাশের জমির ফসলও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এসব বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা উপজেলা প্রশাসন কর্মকর্তাদের জানালে তারা কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার শুরু হয় মাটি খননের কাজ।

রাণীশংকৈল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আর্নিকা আক্তার বলেন, ফসলি জমির মাটি খনন বন্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাণীশংকৈল ইউএনও রকিবুল হাসান বলেন, অনুমোদন ছাড়া ফসলি জমির মাটি খনন ও বিক্রির কোন সুযোগ নেই।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, যেখান থেকে অভিযোগ আসছে সেখানেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।