ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দেশি খাবারে গড়ে উঠেছে আমিন এগ্রো ফার্ম, কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৪৫ গরু

আজিজুল হক সরকার, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪ ১২৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমিন এগ্রো ফার্মে কোরবানি ঈদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৪৫ গরু। নতুন উদ্যোমে করা এই ফার্মে রয়েছে দুই শতাধিক গরু। রয়েছে মহিষ, ভেড়া, হাঁস।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরসভার স্বজনপুকুরস্থ আব্দুল মান্নানের ছোট ছেলে রুহুল আমিন ।ফুলবাড়ী-রংপুর মহসড়কের পাশে আমিন অটোরাইস মিলের পাশাপাশি কয়েক একর জায়গাজুড়ে এই আমিন এগ্রো ফার্মটি। উপজেলার সর্ববৃহৎ এই ফার্মটি গত আড়াই বছর আগে চালু করেছেন শিল্পপতি রুহুল আমিন। শখের বশে করা খামারটি আরও কয়েকটি সেড বাড়িয়ে সম্প্রসারণ করবেন বলেও তিনি জানান।

ফার্মে বড় আকারের ১৫/১৭ টি এঁড়ে গরু রয়েছে। যার ওজন ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি। মূল্য সাড়ে তিন থেকে ৫ লাখ টাকার উপরে। ২৭ থেকে ৩০টি এঁড়ে গরু রয়েছে। যার ওজন ১৫০ থেকে ২৫০ কেজির মধ্যে। এর দাম দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা। বকনা গরুও আছে বিক্রির জন্য। গাভী আছে ৩৫/৪০টি। বাছুর আছে, কোনোটা আবার দুধ দেয়।

ফার্মের ম্যানেজার মো. ওমর ফারুক বলেন, দুই শতাধিক গরুর নিয়মিত দেখভালের জন্য ৫/৬ জন কর্মচারী রয়েছে। দেশি গরুসহ ফ্রিজিয়ান,শাহীওয়াল,হরিয়ানা বলদ ইত্যাদি জাতের গরু আছে। খাবার নিজস্ব মিলের খুদ-গুড়ো ,ঘাস, খড় ও ভুসি,খৈল খাওয়ানো হয়। কোরবানির জন্য ৪৫ গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। অনলাইনেও কেনাবেচা হয়। একেকটি গরুর দাম প্রায় এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকার ওপরে। গত দু সপ্তাহে ১৫/২০ গরু বিক্রি করা হয়েছে।

প্রাকৃতিক খাবারেই গড়ে উঠেছে তার খামার। গরুর খাবারের জন্য জমিতে উন্নত মানের ঘাসের চাষ করেছেন ওমর ফারুক। এ ছাড়াও নিজেদের জমিতে ভুট্টা চাষাবাদ করে সেই ভুট্টা স্পালিং করে খামারেই ফিট প্রস্তুত করে গরুকে খাওয়ানো হয়। স্পালিং বাজারের ফিটের চেয়ে শতগুণ পুষ্টিকর ও নিরাপদ। এ কারণে তার খামারে রোগ বালাই অনেক কম। এছাড়াও প্রাণিসম্পদ অফিসের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত টিকা ও ভ্যাকসিন দেয়া হয় গরুদের।

ফার্মের উদ্যোগতা শিল্পপতি রুহুল আমিন বাংলা টাইমসকে বলেন, খামার একটি লাভজনক শিল্প। খামারে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারেই বড় হচ্ছে এসব গর, মহিষ, ভেড়া ও হাঁসও । কোরবানির জন্য ৪৫টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। কোরবানির পশু ক্রয় বিক্রয়ের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগে অনলাইন প্লাটফরমে যুক্ত হয়েছি। সেখানেও বেশ সাড়া পাচ্ছি। বাহিরের কিছু ব্যাপারী অনলাইনে যোগাযোগ করছে।

মেসার্স আমিন এগ্রো ফার্মের ব্যক্তিগত চিকিৎসক মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, খামারের গরুগুলোকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকি। উপজেলার মধ্যে বড় একটি খামার।এখানে নানা ধরনের গরু, মহিষ,ভেড়া, হাঁস রয়েছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা.মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সম্পূর্ণ দেশি খাবারে গড়ে উঠেছে এই খামার। এখানে খামারি নিজের মিলে তৈরি করা খাবার গরুকে খাওয়ান। এটা খুবই পুষ্টিকর ও নিরাপদ। এ খামারের মাংস শতভাগ স্বাস্থ্য সম্মত। আমরা ভিএস মো. নেয়ামত আলীসহ (ভেটেরিনারি সার্জন) প্রাণিসম্পদ বিভাগ এ খামারিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছি।

পৌর মেয়র মো. মাহমুদ আলম লিটন বলেন, আমিন এগ্রো ফার্মে অনেক গরুসহ অন্যান্য প্রাণীও আছে দেখেছি। খামারের মাংস শতভাগ স্বাস্থ্য সম্মত । মানুষের কল্যাণে আসছে কোনো না কোনো ভাবেই খামারটি।অনেকে এ ধরনের খামার করতে উৎসাহ পাচ্ছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান মিল্টন বাংলা টাইমসকে বলেন, আমার বন্ধু শিল্পপতি রুহুল আমিন যে ফার্ম দিয়েছে, তাতে করে মানুষ উপকৃত হচ্ছে নানাভাবে। যেমন এখান থেকে অনেকে খামার করার উৎসাহ পাচ্ছে এবং বাজারে দুধ, মাংস সর্বোপরি প্রাণিসম্পদের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দেশি খাবারে গড়ে উঠেছে আমিন এগ্রো ফার্ম, কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৪৫ গরু

আপডেট সময় : ০৩:৪৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪

আমিন এগ্রো ফার্মে কোরবানি ঈদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৪৫ গরু। নতুন উদ্যোমে করা এই ফার্মে রয়েছে দুই শতাধিক গরু। রয়েছে মহিষ, ভেড়া, হাঁস।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরসভার স্বজনপুকুরস্থ আব্দুল মান্নানের ছোট ছেলে রুহুল আমিন ।ফুলবাড়ী-রংপুর মহসড়কের পাশে আমিন অটোরাইস মিলের পাশাপাশি কয়েক একর জায়গাজুড়ে এই আমিন এগ্রো ফার্মটি। উপজেলার সর্ববৃহৎ এই ফার্মটি গত আড়াই বছর আগে চালু করেছেন শিল্পপতি রুহুল আমিন। শখের বশে করা খামারটি আরও কয়েকটি সেড বাড়িয়ে সম্প্রসারণ করবেন বলেও তিনি জানান।

ফার্মে বড় আকারের ১৫/১৭ টি এঁড়ে গরু রয়েছে। যার ওজন ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি। মূল্য সাড়ে তিন থেকে ৫ লাখ টাকার উপরে। ২৭ থেকে ৩০টি এঁড়ে গরু রয়েছে। যার ওজন ১৫০ থেকে ২৫০ কেজির মধ্যে। এর দাম দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা। বকনা গরুও আছে বিক্রির জন্য। গাভী আছে ৩৫/৪০টি। বাছুর আছে, কোনোটা আবার দুধ দেয়।

ফার্মের ম্যানেজার মো. ওমর ফারুক বলেন, দুই শতাধিক গরুর নিয়মিত দেখভালের জন্য ৫/৬ জন কর্মচারী রয়েছে। দেশি গরুসহ ফ্রিজিয়ান,শাহীওয়াল,হরিয়ানা বলদ ইত্যাদি জাতের গরু আছে। খাবার নিজস্ব মিলের খুদ-গুড়ো ,ঘাস, খড় ও ভুসি,খৈল খাওয়ানো হয়। কোরবানির জন্য ৪৫ গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। অনলাইনেও কেনাবেচা হয়। একেকটি গরুর দাম প্রায় এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকার ওপরে। গত দু সপ্তাহে ১৫/২০ গরু বিক্রি করা হয়েছে।

প্রাকৃতিক খাবারেই গড়ে উঠেছে তার খামার। গরুর খাবারের জন্য জমিতে উন্নত মানের ঘাসের চাষ করেছেন ওমর ফারুক। এ ছাড়াও নিজেদের জমিতে ভুট্টা চাষাবাদ করে সেই ভুট্টা স্পালিং করে খামারেই ফিট প্রস্তুত করে গরুকে খাওয়ানো হয়। স্পালিং বাজারের ফিটের চেয়ে শতগুণ পুষ্টিকর ও নিরাপদ। এ কারণে তার খামারে রোগ বালাই অনেক কম। এছাড়াও প্রাণিসম্পদ অফিসের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত টিকা ও ভ্যাকসিন দেয়া হয় গরুদের।

ফার্মের উদ্যোগতা শিল্পপতি রুহুল আমিন বাংলা টাইমসকে বলেন, খামার একটি লাভজনক শিল্প। খামারে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারেই বড় হচ্ছে এসব গর, মহিষ, ভেড়া ও হাঁসও । কোরবানির জন্য ৪৫টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। কোরবানির পশু ক্রয় বিক্রয়ের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগে অনলাইন প্লাটফরমে যুক্ত হয়েছি। সেখানেও বেশ সাড়া পাচ্ছি। বাহিরের কিছু ব্যাপারী অনলাইনে যোগাযোগ করছে।

মেসার্স আমিন এগ্রো ফার্মের ব্যক্তিগত চিকিৎসক মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, খামারের গরুগুলোকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকি। উপজেলার মধ্যে বড় একটি খামার।এখানে নানা ধরনের গরু, মহিষ,ভেড়া, হাঁস রয়েছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা.মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সম্পূর্ণ দেশি খাবারে গড়ে উঠেছে এই খামার। এখানে খামারি নিজের মিলে তৈরি করা খাবার গরুকে খাওয়ান। এটা খুবই পুষ্টিকর ও নিরাপদ। এ খামারের মাংস শতভাগ স্বাস্থ্য সম্মত। আমরা ভিএস মো. নেয়ামত আলীসহ (ভেটেরিনারি সার্জন) প্রাণিসম্পদ বিভাগ এ খামারিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছি।

পৌর মেয়র মো. মাহমুদ আলম লিটন বলেন, আমিন এগ্রো ফার্মে অনেক গরুসহ অন্যান্য প্রাণীও আছে দেখেছি। খামারের মাংস শতভাগ স্বাস্থ্য সম্মত । মানুষের কল্যাণে আসছে কোনো না কোনো ভাবেই খামারটি।অনেকে এ ধরনের খামার করতে উৎসাহ পাচ্ছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান মিল্টন বাংলা টাইমসকে বলেন, আমার বন্ধু শিল্পপতি রুহুল আমিন যে ফার্ম দিয়েছে, তাতে করে মানুষ উপকৃত হচ্ছে নানাভাবে। যেমন এখান থেকে অনেকে খামার করার উৎসাহ পাচ্ছে এবং বাজারে দুধ, মাংস সর্বোপরি প্রাণিসম্পদের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে।