ঢাকা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিক্ষক মিলনায়তনে অধ্যক্ষ-সহাকরী অধ্যাপকের মারামারি, ভিডিও ভাইরাল বিদ্যুতের ভর্তুকি কমানোর চেষ্টা করে বাজেট: জ্বালানিমন্ত্রী সাদুল্লাপুরে ঘোড়া জবাই করে মাংস পাচারের অভিযোগে ৭ জন আটক ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন অধ্যায়, দায়িত্ব নিলেন দীনেশ ত্রিবেদী সামষ্টিক অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনই সরকারের বড় পরীক্ষা: সিপিডি সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের নির্দেশে অসন্তুষ্ট মা নীলা চৌধুরী ক্ষমতার পালাবদলে স্থাপনার নাম পরিবর্তন, চন্ডীপুল গোলচত্বরেও নতুন নাম স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমল ৪,৪৩২ টাকা ‘চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত’, দাবি ট্রাম্পের; মানছে না ইরান ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল, বেতন কার কত

তাপপ্রবাহে ফেটে নষ্ট হচ্ছে লিচু, শঙ্কায় কৃষক

মাসুদ রানা, পাবনা
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০২৪ ৩২৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনাবৃষ্টি ও প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে পাবনার ঈশ্বরদীতে মোজ্জাফ্ফর জাতের (দেশি) লিচু কালচে হয়ে ফেটে যাচ্ছে। আর মাত্র ৭-১০ দিনের মধ্যে ঈশ্বরদীর বাজারে উঠবে দেশি লিচু। যা আঁটি লিচু হিসেবে পরিচিত। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে লিচু পাকার হলুদ ও লালচে রং ধারণের সাথে সাথেই লিচুর উপরের আবরণ কালচে হয়ে ফেটে যাচ্ছে।

তাপপ্রবাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে গাছের ৪০-৫০ ভাগ গুঁটি ঝরে গেছে। লিচু পাকার আগে কালচে হয়ে ফেটে যাওয়ায় চাষিরা ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

কৃষিবিদরা জানান, ঈশ্বরদী সুমিষ্ট ও রসালো লিচুর জন্য বিখ্যাত। এখানে বোম্বে, চায়না, মোফাজ্জরসহ দেশি জাতের বিভিন্ন লিচুর বাণিজ্যিকভাবে আবাদ হয়। লিচু ২৮-৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা চাষাবাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। তাপমাত্রা এর বেশি হলে লিচু ফলনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। প্রায় এক মাস ধরে ঈশ্বরদীতে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৩৯-৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। ফলে লিচুর আকার ছোট হয়ে এবং সুমিষ্ট এ ফলের প্রাকৃতিক স্বাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঈশ্বরদীর মিরকামারীর জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত লিচু চাষি আব্দুল জলিল বলেন, লিচু যখন পাকার উপযোগী তখন কোনো অবস্থাতে ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রার বেশি ধারণ করতে পারে না। এখানে এখনতো তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। তাপপ্রবাহ এভাবে আর সাতদিন থাকলেই দেশি লিচু অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।

কৃষক বাদশা আলী কারিগর বলেন, খরার কারণে দেশি লিচু পুড়ে কালচে হয়ে যাচ্ছে। এ অঞ্চলের সাধারণ চাষিরা লিচুর ওপর নির্ভরশীল। লিচুর ফলন খারাপ হলে সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যাবে।

সাহাপুর গ্রামের লিচু বাগান মালিক ও স্কুল শিক্ষক জিয়াউল ইসলাম জিয়া বলেন, তীব্র তাপদাহের কারণে দেশি জাতের লিচু পাকার ঠিক আগ মুহূর্তে লিচু-চামড়া পুড়ে কালচে হয়ে যাচ্ছে। দেশি লিচু পুড়ে যাওয়ায় চাষিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন বলেন, একমাস ধরে মাঝারি, তীব্র ও অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বিরাজমান রয়েছে। তাপমাত্রা ৩৯-৪৩ ডিগ্রির মধ্যে উঠানামা করছে। এতে সূর্যের তীব্র প্রখরতায় মানুষের পাশাপাশি প্রকৃতিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সলিমপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া বলেন, মোজাফ্ফর জাতের দেশি লিচু অতিরিক্ত তাপমাত্রায় এটি পুড়ে কালচে হয়ে যায়। শুধুমাত্র গাছের গোড়ায় পর্যাপ্ত সেচ ও গাছের ওপরে পানি ছিটানোর মাধ্যমে এটি কিছুটা রোধ করা যেতে পারে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার বলেন, বৃষ্টি না হলে লিচুর গুঁটির চামড়া পুড়ে যাবে। এজন্য গাছের গোড়ায় নিয়মিত সেচ চালু রাখতে হবে। সম্ভব হলে গাছের ওপর পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

তাপপ্রবাহে ফেটে নষ্ট হচ্ছে লিচু, শঙ্কায় কৃষক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০২৪

অনাবৃষ্টি ও প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে পাবনার ঈশ্বরদীতে মোজ্জাফ্ফর জাতের (দেশি) লিচু কালচে হয়ে ফেটে যাচ্ছে। আর মাত্র ৭-১০ দিনের মধ্যে ঈশ্বরদীর বাজারে উঠবে দেশি লিচু। যা আঁটি লিচু হিসেবে পরিচিত। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে লিচু পাকার হলুদ ও লালচে রং ধারণের সাথে সাথেই লিচুর উপরের আবরণ কালচে হয়ে ফেটে যাচ্ছে।

তাপপ্রবাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে গাছের ৪০-৫০ ভাগ গুঁটি ঝরে গেছে। লিচু পাকার আগে কালচে হয়ে ফেটে যাওয়ায় চাষিরা ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

কৃষিবিদরা জানান, ঈশ্বরদী সুমিষ্ট ও রসালো লিচুর জন্য বিখ্যাত। এখানে বোম্বে, চায়না, মোফাজ্জরসহ দেশি জাতের বিভিন্ন লিচুর বাণিজ্যিকভাবে আবাদ হয়। লিচু ২৮-৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা চাষাবাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। তাপমাত্রা এর বেশি হলে লিচু ফলনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। প্রায় এক মাস ধরে ঈশ্বরদীতে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৩৯-৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। ফলে লিচুর আকার ছোট হয়ে এবং সুমিষ্ট এ ফলের প্রাকৃতিক স্বাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঈশ্বরদীর মিরকামারীর জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত লিচু চাষি আব্দুল জলিল বলেন, লিচু যখন পাকার উপযোগী তখন কোনো অবস্থাতে ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রার বেশি ধারণ করতে পারে না। এখানে এখনতো তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। তাপপ্রবাহ এভাবে আর সাতদিন থাকলেই দেশি লিচু অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।

কৃষক বাদশা আলী কারিগর বলেন, খরার কারণে দেশি লিচু পুড়ে কালচে হয়ে যাচ্ছে। এ অঞ্চলের সাধারণ চাষিরা লিচুর ওপর নির্ভরশীল। লিচুর ফলন খারাপ হলে সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যাবে।

সাহাপুর গ্রামের লিচু বাগান মালিক ও স্কুল শিক্ষক জিয়াউল ইসলাম জিয়া বলেন, তীব্র তাপদাহের কারণে দেশি জাতের লিচু পাকার ঠিক আগ মুহূর্তে লিচু-চামড়া পুড়ে কালচে হয়ে যাচ্ছে। দেশি লিচু পুড়ে যাওয়ায় চাষিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন বলেন, একমাস ধরে মাঝারি, তীব্র ও অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বিরাজমান রয়েছে। তাপমাত্রা ৩৯-৪৩ ডিগ্রির মধ্যে উঠানামা করছে। এতে সূর্যের তীব্র প্রখরতায় মানুষের পাশাপাশি প্রকৃতিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সলিমপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া বলেন, মোজাফ্ফর জাতের দেশি লিচু অতিরিক্ত তাপমাত্রায় এটি পুড়ে কালচে হয়ে যায়। শুধুমাত্র গাছের গোড়ায় পর্যাপ্ত সেচ ও গাছের ওপরে পানি ছিটানোর মাধ্যমে এটি কিছুটা রোধ করা যেতে পারে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার বলেন, বৃষ্টি না হলে লিচুর গুঁটির চামড়া পুড়ে যাবে। এজন্য গাছের গোড়ায় নিয়মিত সেচ চালু রাখতে হবে। সম্ভব হলে গাছের ওপর পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।