ঢাকা ০১:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিয়োগপত্র হাতে, তবু প্রাথমিকে যোগ দেননি ৯১৮ জন

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র। সরকারি চাকরি পেতে যেখানে হাজারো প্রার্থী বছরের পর বছর চেষ্টা করেন, সেখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পেয়েও চাকরিতে যোগ দেননি ৯১৮ জন।

বিষয়টি বিস্ময় তৈরি করেছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। কারণ, সরকারি চাকরির নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার কারণে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদটিকেও দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত চাকরি হিসেবে দেখা হয়। তার ওপর ২০২৬ সালের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী ১৩তম গ্রেডের এ পদে ভাতাসহ শুরুর মোট বেতন প্রায় ৩৬ হাজার টাকা।

তাহলে নিয়োগপত্র পেয়েও কেন এতজন যোগ দিলেন না?

চট্টগ্রামেই যোগ দেননি ৬৪ জন

চট্টগ্রাম জেলায় সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ও সুপারিশ পেয়েছিলেন ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২৪ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি।

কাগজপত্র জমা দেওয়া ৫২৭ জনের মধ্যে ৫২৫ জন নিয়োগপত্র পান। কিন্তু নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পরও তাঁদের ৬৪ জন নির্ধারিত সময়ে চাকরিতে যোগ দেননি।

একই চিত্র দেশের আরও বহু জেলায়।

৬১ জেলায় হিসাব ৯১৮

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৬১ জেলায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৯১৮ জন ১ অক্টোবর নির্ধারিত যোগদানের দিনে কাজে যোগ দেননি।

নিয়োগ পাওয়া নতুন শিক্ষকদের উপজেলা পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম চলছে। আগামী ১১ অক্টোবর তাঁদের বিদ্যালয়ে পদায়ন করার কথা রয়েছে।

তবে নির্ধারিত সময়ে যোগ না দিলে সাধারণত ওই চাকরিতে পরে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

১৪ হাজার ৩৮৪ জনের চূড়ান্ত নির্বাচন

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগমুহূর্তে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এরপর প্রার্থীদের কাগজপত্র যাচাই করে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

তবে নিয়োগপ্রক্রিয়ার শুরুতেই তৈরি হয় নতুন জটিলতা।

প্রথম তালিকায় বাদ পড়েছিলেন অনেকে

গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়গুলো নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে। তখন দেখা যায়, আগে সুপারিশ পাওয়া অনেক প্রার্থীর নাম সেই তালিকায় নেই।

সুপারিশপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারের বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, তাঁদের একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক মন্তব্যের বিষয়টি সামনে আসে। নিয়োগ থেকে বাদ পড়া প্রার্থীরা পরে শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পরবর্তী সময়ে বাদ পড়া প্রার্থীদের অনেককেই ধাপে ধাপে নিয়োগের তালিকায় যুক্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত অধিকাংশই নিয়োগপত্র পান। তবে ৮০ জনের বেশি প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্র জানিয়েছে। তাঁদের কারও কারও বিরুদ্ধে মামলা বা অন্য জটিলতা রয়েছে।

কাগজপত্রই জমা দেননি ৫৫৩ জন

নিয়োগপ্রক্রিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে।

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৩১ জন সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। আর ৫৫৩ জন কাগজপত্রই জমা দেননি।

অর্থাৎ, তাঁরা নিয়োগপ্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগেই সরে দাঁড়ান।

কাগজপত্র জমা দেওয়া ১৩ হাজার ৮৩১ জনের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন চাকরিতে যোগ দিয়েছেন।

হিসাব অনুযায়ী, নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও ৯১৮ জন যোগ দেননি।

কেন যোগ দিলেন না?

এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, যোগ না দেওয়া প্রার্থীদের কেউ হয়তো ইতিমধ্যে অন্য চাকরিতে আছেন। কেউ হয়তো একই সময়ে একাধিক চাকরির চেষ্টা করেছেন। আবার কারও কাছে অন্য কোনো চাকরি বা পেশা তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়ে থাকতে পারে।

তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম বলেন, নয় শতাধিক প্রার্থী যোগ না দেওয়ায় অধিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে চাকরিতে যোগ দেওয়া না-দেওয়া ব্যক্তির স্বাধীনতার বিষয়। ধারণা করা যায়, তাঁদের কেউ হয়তো এর চেয়ে ভালো চাকরি পেয়েছেন বা একই সময়ে একাধিক চাকরির চেষ্টা করেছিলেন।

শিক্ষকসংকটের মধ্যে নতুন চাপ

প্রার্থীদের জন্য এটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী এক কোটির বেশি। শিক্ষক রয়েছেন প্রায় পৌনে চার লাখ।

এর মধ্যেই প্রধান শিক্ষক পদে ৩৬ হাজারের বেশি শূন্যপদ রয়েছে। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকেরও কয়েক হাজার পদ শূন্য রয়েছে।

ফলে অনেক বিদ্যালয়েই প্রয়োজনীয় শিক্ষকসংকটের কারণে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগেও আসছে পরিবর্তন

গত জুলাইয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর ৩৬ হাজারের বেশি শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ হয়। বাকি ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

ফলে ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হলে সহকারী শিক্ষকের আরও বিপুলসংখ্যক পদ খালি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একদিকে চাকরির হাহাকার, অন্যদিকে নিয়োগ পেয়েও অনুপস্থিতি

চাকরির বাজারে যখন একটি সরকারি চাকরির জন্য বিপুলসংখ্যক প্রার্থী প্রতিযোগিতা করছেন, তখন নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও ৯১৮ জনের যোগ না দেওয়ার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে।

বিশেষ করে শিক্ষকসংকটে থাকা প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এই শূন্যতা পূরণ করতে আবার নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যেতে হলে সময় লাগবে।

তবে শেষ পর্যন্ত কেন এত প্রার্থী সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকতার সুযোগ ছেড়ে দিলেন—অন্য চাকরি, বেশি বেতন, ব্যক্তিগত পছন্দ নাকি অন্য কোনো কারণ—সেই উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নিয়োগপত্র হাতে, তবু প্রাথমিকে যোগ দেননি ৯১৮ জন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র। সরকারি চাকরি পেতে যেখানে হাজারো প্রার্থী বছরের পর বছর চেষ্টা করেন, সেখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পেয়েও চাকরিতে যোগ দেননি ৯১৮ জন।

বিষয়টি বিস্ময় তৈরি করেছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। কারণ, সরকারি চাকরির নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার কারণে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদটিকেও দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত চাকরি হিসেবে দেখা হয়। তার ওপর ২০২৬ সালের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী ১৩তম গ্রেডের এ পদে ভাতাসহ শুরুর মোট বেতন প্রায় ৩৬ হাজার টাকা।

তাহলে নিয়োগপত্র পেয়েও কেন এতজন যোগ দিলেন না?

চট্টগ্রামেই যোগ দেননি ৬৪ জন

চট্টগ্রাম জেলায় সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ও সুপারিশ পেয়েছিলেন ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২৪ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি।

কাগজপত্র জমা দেওয়া ৫২৭ জনের মধ্যে ৫২৫ জন নিয়োগপত্র পান। কিন্তু নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পরও তাঁদের ৬৪ জন নির্ধারিত সময়ে চাকরিতে যোগ দেননি।

একই চিত্র দেশের আরও বহু জেলায়।

৬১ জেলায় হিসাব ৯১৮

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৬১ জেলায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৯১৮ জন ১ অক্টোবর নির্ধারিত যোগদানের দিনে কাজে যোগ দেননি।

নিয়োগ পাওয়া নতুন শিক্ষকদের উপজেলা পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম চলছে। আগামী ১১ অক্টোবর তাঁদের বিদ্যালয়ে পদায়ন করার কথা রয়েছে।

তবে নির্ধারিত সময়ে যোগ না দিলে সাধারণত ওই চাকরিতে পরে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

১৪ হাজার ৩৮৪ জনের চূড়ান্ত নির্বাচন

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগমুহূর্তে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এরপর প্রার্থীদের কাগজপত্র যাচাই করে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

তবে নিয়োগপ্রক্রিয়ার শুরুতেই তৈরি হয় নতুন জটিলতা।

প্রথম তালিকায় বাদ পড়েছিলেন অনেকে

গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়গুলো নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে। তখন দেখা যায়, আগে সুপারিশ পাওয়া অনেক প্রার্থীর নাম সেই তালিকায় নেই।

সুপারিশপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারের বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, তাঁদের একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক মন্তব্যের বিষয়টি সামনে আসে। নিয়োগ থেকে বাদ পড়া প্রার্থীরা পরে শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পরবর্তী সময়ে বাদ পড়া প্রার্থীদের অনেককেই ধাপে ধাপে নিয়োগের তালিকায় যুক্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত অধিকাংশই নিয়োগপত্র পান। তবে ৮০ জনের বেশি প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্র জানিয়েছে। তাঁদের কারও কারও বিরুদ্ধে মামলা বা অন্য জটিলতা রয়েছে।

কাগজপত্রই জমা দেননি ৫৫৩ জন

নিয়োগপ্রক্রিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে।

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৩১ জন সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। আর ৫৫৩ জন কাগজপত্রই জমা দেননি।

অর্থাৎ, তাঁরা নিয়োগপ্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগেই সরে দাঁড়ান।

কাগজপত্র জমা দেওয়া ১৩ হাজার ৮৩১ জনের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন চাকরিতে যোগ দিয়েছেন।

হিসাব অনুযায়ী, নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও ৯১৮ জন যোগ দেননি।

কেন যোগ দিলেন না?

এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, যোগ না দেওয়া প্রার্থীদের কেউ হয়তো ইতিমধ্যে অন্য চাকরিতে আছেন। কেউ হয়তো একই সময়ে একাধিক চাকরির চেষ্টা করেছেন। আবার কারও কাছে অন্য কোনো চাকরি বা পেশা তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়ে থাকতে পারে।

তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম বলেন, নয় শতাধিক প্রার্থী যোগ না দেওয়ায় অধিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে চাকরিতে যোগ দেওয়া না-দেওয়া ব্যক্তির স্বাধীনতার বিষয়। ধারণা করা যায়, তাঁদের কেউ হয়তো এর চেয়ে ভালো চাকরি পেয়েছেন বা একই সময়ে একাধিক চাকরির চেষ্টা করেছিলেন।

শিক্ষকসংকটের মধ্যে নতুন চাপ

প্রার্থীদের জন্য এটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী এক কোটির বেশি। শিক্ষক রয়েছেন প্রায় পৌনে চার লাখ।

এর মধ্যেই প্রধান শিক্ষক পদে ৩৬ হাজারের বেশি শূন্যপদ রয়েছে। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকেরও কয়েক হাজার পদ শূন্য রয়েছে।

ফলে অনেক বিদ্যালয়েই প্রয়োজনীয় শিক্ষকসংকটের কারণে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগেও আসছে পরিবর্তন

গত জুলাইয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর ৩৬ হাজারের বেশি শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ হয়। বাকি ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

ফলে ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হলে সহকারী শিক্ষকের আরও বিপুলসংখ্যক পদ খালি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একদিকে চাকরির হাহাকার, অন্যদিকে নিয়োগ পেয়েও অনুপস্থিতি

চাকরির বাজারে যখন একটি সরকারি চাকরির জন্য বিপুলসংখ্যক প্রার্থী প্রতিযোগিতা করছেন, তখন নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও ৯১৮ জনের যোগ না দেওয়ার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে।

বিশেষ করে শিক্ষকসংকটে থাকা প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এই শূন্যতা পূরণ করতে আবার নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যেতে হলে সময় লাগবে।

তবে শেষ পর্যন্ত কেন এত প্রার্থী সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকতার সুযোগ ছেড়ে দিলেন—অন্য চাকরি, বেশি বেতন, ব্যক্তিগত পছন্দ নাকি অন্য কোনো কারণ—সেই উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।