রিমান্ড শেষে কারাগারে
এমপি নজরুলের প্রথম স্ত্রীকে ঘিরে মামলার তদন্তে নতুন তথ্য

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামকে। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে দাবি করে তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মাকছুদাকে ঢাকার আদালতে হাজির করে এ আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মামলাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তের পরবর্তী কার্যক্রমে সহায়ক হবে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর গ্রেপ্তার
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এজাহারে যা বলা হয়েছে
মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, গত জুনে তাঁর শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর ১৯ বছর বয়সী মেয়ে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়ম সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ইসলাম ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন।
এজাহারে দাবি করা হয়, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। বিষয়টি তিনি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁর বাবা।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন করে তাঁকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মরিয়মকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।
মরদেহ উদ্ধারের সময় মরিয়মের বিছানার ওপর তাঁর লেখা একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া যায় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।






















