দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ফের তৎপর দিল্লি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৯:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে নয়াদিল্লি। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে চলতি বছরেই এ সফর আয়োজনের বিষয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে তারেক রহমানের ভারত সফর আয়োজন করা যায় কি না, তা নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন।
এর আগে শুক্রবার কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুও জানিয়েছিল, নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর আয়োজনের চেষ্টা চলছে।
ব্রিকস সম্মেলনে অনুপস্থিতির পর নতুন উদ্যোগ
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের কয়েক দিন পরই তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন উদ্যোগের বিষয়টি সামনে আসে।
ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজক দেশ ভারত একই সঙ্গে আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই আমন্ত্রণে সাড়া দেননি।
এর আগে আগস্টেও তারেক রহমানকে দিল্লিতে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সফর অনুষ্ঠিত হয়নি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তারেক রহমানকে একক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি।
মোদির সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এবং নয়াদিল্লির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। দুই পক্ষ এমন একটি তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করছে, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়সূচির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়।
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু উদ্যোগ দেখা গেলেও ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে জটিলতা
তারেক রহমানের ভারত সফরের সময়সূচি নির্ধারণে ঢাকার অন্যতম বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি করা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, এর সঙ্গে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্যের বিষয়টি সরাসরি যুক্ত।
বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠাতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়ে নয়াদিল্লি কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জবাব চাওয়া হচ্ছে। তবে ভারত এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো জবাব দেয়নি।
ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু একদিকে যেমন ঢাকা-দিল্লির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে, অন্যদিকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের ক্ষেত্রেও এটি একটি জটিলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখনো চূড়ান্ত হয়নি সফরের সময়সূচি
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফর আয়োজনের পথ তৈরি করতে দুই পক্ষই একটি ‘মাঝামাঝি পথ’ খুঁজছে। তবে নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সম্ভাব্য সফরের যে সময়সীমা নিয়ে আলোচনা চলছে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সফরটি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সফরের তারিখ ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।





















