অপ্রতীম হত্যা: গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়ার দাবি পুলিশের

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম (১৩) হত্যার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্লু পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যার কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘তদন্তে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে এবং একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
তবে তদন্তের স্বার্থে হেফাজতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ
অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাতে অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রাও বিভিন্ন এলাকায় তার সন্ধান করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অপ্রতীমকে অন্য এক তরুণের সঙ্গে দেখা যায়। ওই তরুণ অপ্রতীমের চেয়ে বয়সে বড় এবং তাঁর চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, পরে প্রক্টরিয়াল টিম ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে।
জঙ্গল থেকে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় এক ব্যক্তি প্রথম মরদেহটি দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপ্রতীমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এদিকে, অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি এখনও উদ্ধার করা যায়নি। এ কারণে ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
‘আইফোনের সঙ্গে আরও কিছু যুক্ত ছিল কি না, খতিয়ে দেখা হবে’
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘এটা কী শুধুই একটা আইফোন ছিল, নাকি এর সঙ্গে আরও অন্য কিছু যুক্ত ছিল—এই বিষয়টি আমরা সঠিকভাবে খতিয়ে দেখব।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে এবং তারা কিছু ক্লু পেয়েছে। একজনকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
অপ্রতীম হত্যার কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।






















