ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আসিফ-নাসীরুদ্দীনের ভোটার এলাকা বদল

ঢাকার দুই সিটে কৌশল পাল্টাচ্ছে এনসিপি?

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁদের এই ভোটার এলাকা পরিবর্তন ঘিরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভোটার ছিলেন। এখন তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আফতাবনগর এলাকার ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ডিএনসিসির উত্তরা এলাকার ভোটার থেকে ডিএসসিসির শাহবাগ এলাকার ভোটার হয়েছেন।

আসিফকে উত্তরে প্রার্থী করার পরিকল্পনা

এর আগে আসিফ মাহমুদকে ডিএসসিসির মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল এনসিপি। ফলে হঠাৎ করে তাঁর ভোটার এলাকা দক্ষিণ থেকে উত্তরে পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এনসিপির আহ্বায়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ এক নেতার ভাষ্য, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে ঢাকার দুই সিটে কৌশল পরিবর্তন করেছে দলটি। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কারণেই তাঁর ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা হয়েছে।

এর আগে ডিএনসিসিতে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবকে প্রার্থী করার কথা জানিয়েছিল দলটি।

দ্বিতীয়বার ভোটার এলাকা বদল আসিফের

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোটার এলাকা পরিবর্তন করলেন আসিফ মাহমুদ।

এর আগে তিনি তাঁর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ভোটার ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে সেখান থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হন তিনি।

সে সময় গণমাধ্যমকে আসিফ জানিয়েছিলেন, ঢাকা থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা থেকেই ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি। পরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানায় এনসিপি।

দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন, প্রতিদ্বন্দ্বী সাদিক কায়েম?

এনসিপির ওই জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এখন পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তও এমনই।

নাসীরুদ্দীন বর্তমানে যে এলাকার ভোটার হয়েছেন, সেটি ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত। গত জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হন।

এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ঢাকা-১৮ আসন থেকে নির্বাচন করার গুঞ্জনও ছিল। শেষ পর্যন্ত ওই আসনে শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আরিফুল ইসলাম আদিব।

সাদিক-আসিফ লড়াইয়ের সমীকরণ বদলাবে?

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে সাবেক ছাত্রশিবির নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী।

এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সাদিক কায়েম ও আসিফ মাহমুদের সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দুই আলোচিত প্রার্থীর লড়াই হলে কে এগিয়ে থাকবেন, তা নিয়েও তৈরি হয় নানা হিসাব-নিকাশ।

তবে এনসিপির ওই নেতার দাবি, এই সমীকরণে এগিয়ে থাকতেই দক্ষিণ সিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে সাদিক কায়েম শেষ পর্যন্ত নাসীরুদ্দীনের বিরুদ্ধে প্রার্থী হবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকার দুই সিটেই প্রার্থী দিতে চায় এনসিপি

দলীয় সূত্র বলছে, আপাতত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। শেষ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক ঐক্য হলেও ঢাকায় প্রার্থী ছাড়তে রাজি নয় দলটি।

রাজধানীতে নিজেদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সিটি করপোরেশনেই নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দলটি।

ফলে আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা পরিবর্তনকে শুধু প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে না দেখে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখছেন দলটির সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আসিফ-নাসীরুদ্দীনের ভোটার এলাকা বদল

ঢাকার দুই সিটে কৌশল পাল্টাচ্ছে এনসিপি?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁদের এই ভোটার এলাকা পরিবর্তন ঘিরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভোটার ছিলেন। এখন তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আফতাবনগর এলাকার ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ডিএনসিসির উত্তরা এলাকার ভোটার থেকে ডিএসসিসির শাহবাগ এলাকার ভোটার হয়েছেন।

আসিফকে উত্তরে প্রার্থী করার পরিকল্পনা

এর আগে আসিফ মাহমুদকে ডিএসসিসির মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল এনসিপি। ফলে হঠাৎ করে তাঁর ভোটার এলাকা দক্ষিণ থেকে উত্তরে পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এনসিপির আহ্বায়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ এক নেতার ভাষ্য, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে ঢাকার দুই সিটে কৌশল পরিবর্তন করেছে দলটি। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কারণেই তাঁর ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা হয়েছে।

এর আগে ডিএনসিসিতে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবকে প্রার্থী করার কথা জানিয়েছিল দলটি।

দ্বিতীয়বার ভোটার এলাকা বদল আসিফের

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোটার এলাকা পরিবর্তন করলেন আসিফ মাহমুদ।

এর আগে তিনি তাঁর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ভোটার ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে সেখান থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হন তিনি।

সে সময় গণমাধ্যমকে আসিফ জানিয়েছিলেন, ঢাকা থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা থেকেই ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি। পরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানায় এনসিপি।

দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন, প্রতিদ্বন্দ্বী সাদিক কায়েম?

এনসিপির ওই জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এখন পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তও এমনই।

নাসীরুদ্দীন বর্তমানে যে এলাকার ভোটার হয়েছেন, সেটি ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত। গত জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হন।

এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ঢাকা-১৮ আসন থেকে নির্বাচন করার গুঞ্জনও ছিল। শেষ পর্যন্ত ওই আসনে শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আরিফুল ইসলাম আদিব।

সাদিক-আসিফ লড়াইয়ের সমীকরণ বদলাবে?

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে সাবেক ছাত্রশিবির নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী।

এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সাদিক কায়েম ও আসিফ মাহমুদের সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দুই আলোচিত প্রার্থীর লড়াই হলে কে এগিয়ে থাকবেন, তা নিয়েও তৈরি হয় নানা হিসাব-নিকাশ।

তবে এনসিপির ওই নেতার দাবি, এই সমীকরণে এগিয়ে থাকতেই দক্ষিণ সিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে সাদিক কায়েম শেষ পর্যন্ত নাসীরুদ্দীনের বিরুদ্ধে প্রার্থী হবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকার দুই সিটেই প্রার্থী দিতে চায় এনসিপি

দলীয় সূত্র বলছে, আপাতত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। শেষ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক ঐক্য হলেও ঢাকায় প্রার্থী ছাড়তে রাজি নয় দলটি।

রাজধানীতে নিজেদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সিটি করপোরেশনেই নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দলটি।

ফলে আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা পরিবর্তনকে শুধু প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে না দেখে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখছেন দলটির সংশ্লিষ্টরা।