ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

১০ টাকায় ৪৮ ঘণ্টায় সারা দেশে পার্সেল, পাঠাবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দ্রুত ও নিরাপদে পণ্য পাঠানো এখন নিত্যদিনের প্রয়োজন। তবে বেসরকারি কুরিয়ার সেবার তুলনামূলক বেশি খরচ অনেকের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে কম খরচে পার্সেল পাঠানোর সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।

‘আজ বুকিং, আগামীকাল ঢাকা এবং ৪৮ ঘণ্টায় সারা বাংলাদেশ’—এই স্লোগান সামনে রেখে চালু রয়েছে ডাক বিভাগের স্পিডপোস্ট পার্সেল সেবা। কম মাশুলে দ্রুত পণ্য পাঠানোর সুবিধা থাকায় সেবাটি গ্রাহকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

১০ টাকায় শুরু পার্সেল পাঠানো

ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের যেকোনো প্রান্তে প্রথম ১ কেজি ওজনের পার্সেল পাঠাতে খরচ মাত্র ১০ টাকা। এরপর অতিরিক্ত প্রতি কেজির জন্য দিতে হবে আরও ৫ টাকা।

একটি পার্সেলের সর্বোচ্চ ওজন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ কেজি।

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, স্পিডপোস্ট সেবা ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। এর মাধ্যমে শুকনা খাদ্যসামগ্রী, মধু, তেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাঠাচ্ছেন গ্রাহকেরা।

তিনি জানান, শুরুতে কয়েকটি বাইসাইকেল ও সাইকেল পাঠিয়ে সেবাটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। ঢাকা থেকে যেকোনো জেলা শহরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য আনা-নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে প্রান্তিক ও দূরবর্তী জেলা-উপজেলায় কিছুটা বেশি সময় লাগছে। সময় আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

পার্সেল কোথায় আছে, জানা যাবে অনলাইনেই

স্পিডপোস্টকে বিশেষ পার্সেল সেবা হিসেবে চালুর পাশাপাশি এতে আধুনিক প্রযুক্তিও যুক্ত করেছে ডাক বিভাগ।

পার্সেল বুকিংয়ের পর গ্রাহককে দেওয়া ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করে সেটির অবস্থান জানা যাবে। এ ছাড়া বুকিংয়ের আগেই সম্ভাব্য খরচ হিসাব করার জন্য রয়েছে অনলাইন ক্যালকুলেটরের সুবিধা।

যেভাবে স্পিডপোস্টে পার্সেল পাঠাবেন

স্পিডপোস্টে পার্সেল পাঠাতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে। এজন্য—

১. নিকটস্থ ডাকঘরে যেতে হবে।
২. ডাক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পণ্যটি নিরাপদভাবে প্যাকেজ করতে হবে।
৩. পার্সেলের ওপর প্রাপকের নাম, ঠিকানা ও গন্তব্যের তথ্য স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।
৪. নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করে বুকিং সম্পন্ন করতে হবে।
৫. বুকিংয়ের পর ট্র্যাকিং নম্বর-সংবলিত রসিদ সংগ্রহ করতে হবে।

এরপর ওই ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করে পার্সেলের অবস্থান জানা যাবে।

কোন কোন ডাকঘর থেকে পাঠানো যাবে?

ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সব জিপিও, প্রধান ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর, টাউন সাব-পোস্ট অফিস, সাব-পোস্ট অফিস, আরএমএস বুকিং কাউন্টার এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস থেকে স্পিডপোস্টে পার্সেল বুকিং করা যাবে।

রাজধানীতে দ্রুত সেবা দিতে ঢাকা জিপিও ছাড়াও গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, ওয়ারীসহ ২১টি সাব-পোস্ট অফিসে সরাসরি পার্সেল ডেলিভারি নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

বর্তমানে প্রধান ডাকঘর ও উপজেলা ডাকঘরে পার্সেল ডেলিভারি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দুই হাজারের বেশি পোস্ট অফিস থেকে ডেলিভারি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কত সময়ে পৌঁছাবে পার্সেল?

ডাক বিভাগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্পিডপোস্টে বুকিং করা পার্সেল পৌঁছানোর সময়—

জেলা শহর থেকে ঢাকায়: সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা
এক জেলা শহর থেকে অন্য জেলা শহরে: সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা
প্রত্যন্ত বা দুর্গম এলাকায়: সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা

তবে ডাক গ্রহণ ও পরিবহনের সময়সূচির ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট ডাকঘর বুকিংয়ের সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারে।

এ ছাড়া প্রতি শুক্রবার স্পিডপোস্টের বুকিং ও ইস্যু কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

আরও তথ্য কোথায় পাবেন?

স্পিডপোস্ট পার্সেল সেবার মাশুল, ট্র্যাকিং, বুকিং পদ্ধতি ও অন্যান্য তথ্য জানতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিস্তারিত জানা যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

১০ টাকায় ৪৮ ঘণ্টায় সারা দেশে পার্সেল, পাঠাবেন যেভাবে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দ্রুত ও নিরাপদে পণ্য পাঠানো এখন নিত্যদিনের প্রয়োজন। তবে বেসরকারি কুরিয়ার সেবার তুলনামূলক বেশি খরচ অনেকের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে কম খরচে পার্সেল পাঠানোর সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।

‘আজ বুকিং, আগামীকাল ঢাকা এবং ৪৮ ঘণ্টায় সারা বাংলাদেশ’—এই স্লোগান সামনে রেখে চালু রয়েছে ডাক বিভাগের স্পিডপোস্ট পার্সেল সেবা। কম মাশুলে দ্রুত পণ্য পাঠানোর সুবিধা থাকায় সেবাটি গ্রাহকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

১০ টাকায় শুরু পার্সেল পাঠানো

ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের যেকোনো প্রান্তে প্রথম ১ কেজি ওজনের পার্সেল পাঠাতে খরচ মাত্র ১০ টাকা। এরপর অতিরিক্ত প্রতি কেজির জন্য দিতে হবে আরও ৫ টাকা।

একটি পার্সেলের সর্বোচ্চ ওজন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ কেজি।

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, স্পিডপোস্ট সেবা ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। এর মাধ্যমে শুকনা খাদ্যসামগ্রী, মধু, তেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাঠাচ্ছেন গ্রাহকেরা।

তিনি জানান, শুরুতে কয়েকটি বাইসাইকেল ও সাইকেল পাঠিয়ে সেবাটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। ঢাকা থেকে যেকোনো জেলা শহরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য আনা-নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে প্রান্তিক ও দূরবর্তী জেলা-উপজেলায় কিছুটা বেশি সময় লাগছে। সময় আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

পার্সেল কোথায় আছে, জানা যাবে অনলাইনেই

স্পিডপোস্টকে বিশেষ পার্সেল সেবা হিসেবে চালুর পাশাপাশি এতে আধুনিক প্রযুক্তিও যুক্ত করেছে ডাক বিভাগ।

পার্সেল বুকিংয়ের পর গ্রাহককে দেওয়া ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করে সেটির অবস্থান জানা যাবে। এ ছাড়া বুকিংয়ের আগেই সম্ভাব্য খরচ হিসাব করার জন্য রয়েছে অনলাইন ক্যালকুলেটরের সুবিধা।

যেভাবে স্পিডপোস্টে পার্সেল পাঠাবেন

স্পিডপোস্টে পার্সেল পাঠাতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে। এজন্য—

১. নিকটস্থ ডাকঘরে যেতে হবে।
২. ডাক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পণ্যটি নিরাপদভাবে প্যাকেজ করতে হবে।
৩. পার্সেলের ওপর প্রাপকের নাম, ঠিকানা ও গন্তব্যের তথ্য স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।
৪. নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করে বুকিং সম্পন্ন করতে হবে।
৫. বুকিংয়ের পর ট্র্যাকিং নম্বর-সংবলিত রসিদ সংগ্রহ করতে হবে।

এরপর ওই ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করে পার্সেলের অবস্থান জানা যাবে।

কোন কোন ডাকঘর থেকে পাঠানো যাবে?

ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সব জিপিও, প্রধান ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর, টাউন সাব-পোস্ট অফিস, সাব-পোস্ট অফিস, আরএমএস বুকিং কাউন্টার এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস থেকে স্পিডপোস্টে পার্সেল বুকিং করা যাবে।

রাজধানীতে দ্রুত সেবা দিতে ঢাকা জিপিও ছাড়াও গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, ওয়ারীসহ ২১টি সাব-পোস্ট অফিসে সরাসরি পার্সেল ডেলিভারি নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

বর্তমানে প্রধান ডাকঘর ও উপজেলা ডাকঘরে পার্সেল ডেলিভারি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দুই হাজারের বেশি পোস্ট অফিস থেকে ডেলিভারি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কত সময়ে পৌঁছাবে পার্সেল?

ডাক বিভাগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্পিডপোস্টে বুকিং করা পার্সেল পৌঁছানোর সময়—

জেলা শহর থেকে ঢাকায়: সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা
এক জেলা শহর থেকে অন্য জেলা শহরে: সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা
প্রত্যন্ত বা দুর্গম এলাকায়: সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা

তবে ডাক গ্রহণ ও পরিবহনের সময়সূচির ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট ডাকঘর বুকিংয়ের সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারে।

এ ছাড়া প্রতি শুক্রবার স্পিডপোস্টের বুকিং ও ইস্যু কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

আরও তথ্য কোথায় পাবেন?

স্পিডপোস্ট পার্সেল সেবার মাশুল, ট্র্যাকিং, বুকিং পদ্ধতি ও অন্যান্য তথ্য জানতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিস্তারিত জানা যাবে।