ঢাকা ০৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিজয়ের মানসিকতা নিয়ে বহুদূর যেতে চায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল! টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র, ১১ দলের প্রার্থী অলি সালমান শাহ হত্যা মামলা: বিমানবন্দর থেকে অভিনেতা ডন গ্রেপ্তার হেফাজত আমির বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী শ্যামনগরবাসীর নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের রুল জামায়াতের প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধ আছে, নেই জামায়াত জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে বিষধর সাপ, খাদ্যসংকট ও সংকুচিত আবাসস্থলই কি কারণ?

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল!

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার দিনভর এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছে বিএনপি।

রোববার (৯ আগস্ট) রাতে এক বার্তায় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম আসার বিষয়টি তাঁকে জানানো হলে মহাসচিব জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। দলের পক্ষ থেকেও তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।

শায়রুল কবির খান বলেন, ‘মহাসচিবকে এ বিষয়ে অবহিত করার পর তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কিছু জানেন না। দলের পক্ষ থেকে উনাকে কিছু বলা হয়নি।’

এর আগে রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী বুধবার (১২ আগস্ট) দলীয়ভাবে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলেও ওইসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রোববার (৯ আগস্ট) বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির দুজন জ্যেষ্ঠ সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, আগামী বুধবার (১২ আগস্ট) দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

কেন মির্জা ফখরুল

দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ধীরস্থির ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয়ের সক্ষমতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে উপযুক্ত মনে করছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

দেড় যুগের বেশি সময় পর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদগুলোতে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের রাখার বিষয়টি দলটির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে সংকটকালীন সময়ে অভিভাবকসুলভ ভূমিকা পালনের সক্ষমতাকেও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল। দলের কঠিন সময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং দেশের ভেতর-বাইরে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরায় তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁর অপেক্ষাকৃত সংযত বক্তব্য ও শান্ত রাজনৈতিক কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে বলে মনে করেন দলের নেতারা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ ও জাতীয় ঐক্য গঠনের ক্ষেত্রেও তিনি সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছেন বলে তাঁদের দাবি।

দলীয় নেতাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিত্ব, অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রেখেছে।

দুঃসময়ে দলের নেতৃত্ব

বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রেও মির্জা ফখরুলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন দলের নেতাকর্মীরা।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এবং তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাসজীবনের সময়ে তিনি দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মামলা, হামলা ও কারাবরণের মতো প্রতিকূলতার মধ্যেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে মির্জা ফখরুলকে তুলনামূলকভাবে সংযত ও মার্জিত রাজনীতিক হিসেবে বিবেচনা করেন তাঁর সমর্থকেরা। রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে নিরপেক্ষতা ও ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিত্ব উপযোগী বলেও মনে করেন অনেকে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা

১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের।

তাঁর বাবা রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজও দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ভূমিমন্ত্রী ও দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন। পরে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

মির্জা ফখরুল ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরে বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। সরকারি পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরেও কাজ করেছেন তিনি।

১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এসএ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের সময় বারী পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন।

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। পরে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

দলীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সক্ষমতার কারণে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিবেচনা করা হয়েছে।

২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরই মধ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা তথা সংসদ সদস্যদের নাম নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশনকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তবে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরই রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রার্থিতার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে স্পষ্ট হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল!

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার দিনভর এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছে বিএনপি।

রোববার (৯ আগস্ট) রাতে এক বার্তায় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম আসার বিষয়টি তাঁকে জানানো হলে মহাসচিব জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। দলের পক্ষ থেকেও তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।

শায়রুল কবির খান বলেন, ‘মহাসচিবকে এ বিষয়ে অবহিত করার পর তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কিছু জানেন না। দলের পক্ষ থেকে উনাকে কিছু বলা হয়নি।’

এর আগে রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী বুধবার (১২ আগস্ট) দলীয়ভাবে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলেও ওইসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রোববার (৯ আগস্ট) বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির দুজন জ্যেষ্ঠ সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, আগামী বুধবার (১২ আগস্ট) দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

কেন মির্জা ফখরুল

দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ধীরস্থির ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয়ের সক্ষমতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে উপযুক্ত মনে করছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

দেড় যুগের বেশি সময় পর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদগুলোতে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের রাখার বিষয়টি দলটির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে সংকটকালীন সময়ে অভিভাবকসুলভ ভূমিকা পালনের সক্ষমতাকেও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল। দলের কঠিন সময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং দেশের ভেতর-বাইরে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরায় তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁর অপেক্ষাকৃত সংযত বক্তব্য ও শান্ত রাজনৈতিক কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে বলে মনে করেন দলের নেতারা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ ও জাতীয় ঐক্য গঠনের ক্ষেত্রেও তিনি সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছেন বলে তাঁদের দাবি।

দলীয় নেতাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিত্ব, অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রেখেছে।

দুঃসময়ে দলের নেতৃত্ব

বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রেও মির্জা ফখরুলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন দলের নেতাকর্মীরা।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এবং তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাসজীবনের সময়ে তিনি দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মামলা, হামলা ও কারাবরণের মতো প্রতিকূলতার মধ্যেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে মির্জা ফখরুলকে তুলনামূলকভাবে সংযত ও মার্জিত রাজনীতিক হিসেবে বিবেচনা করেন তাঁর সমর্থকেরা। রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে নিরপেক্ষতা ও ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিত্ব উপযোগী বলেও মনে করেন অনেকে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা

১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের।

তাঁর বাবা রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজও দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ভূমিমন্ত্রী ও দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন। পরে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

মির্জা ফখরুল ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরে বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। সরকারি পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরেও কাজ করেছেন তিনি।

১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এসএ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের সময় বারী পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন।

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। পরে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

দলীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সক্ষমতার কারণে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিবেচনা করা হয়েছে।

২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরই মধ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা তথা সংসদ সদস্যদের নাম নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশনকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তবে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরই রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রার্থিতার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে স্পষ্ট হবে।