ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে ‘মানহানিকর’ পোস্ট, এনসিপি নেতা কারাগারে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারের দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গ্রেপ্তার হওয়া আনোয়ার হোসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিকশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক। তিনি রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে আনোয়ার হোসেনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তাকে মারধরের অভিযোগ তুলেছে এনসিপি।

রোববার দুপুরে যুবদল নেতা রুহুল আমিন মিঝি বাদী হয়ে রায়পুর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আনোয়ার হোসেনসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আনোয়ারের ভাই ইমন হোসেন, রুবেল হোসেন ও দীপু। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম লিখিত একটি কাগজ পায়ের নিচে রেখে ছবি তুলে প্রচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তাদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

যুবদল নেতা রুহুল আমিন মিঝি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে এনসিপির জেলা কমিটির সিনিয়র সদস্যসচিব আলমগীর হোসাইন দাবি করেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও তাকে মারধর করা হয়েছে। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেন।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, “আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

জেলা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আব্দুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন ও দণ্ডবিধির আওতায় দায়ের করা মামলায় আদালত আনোয়ার হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনাটি এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ফেসবুকে ‘মানহানিকর’ পোস্ট, এনসিপি নেতা কারাগারে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারের দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গ্রেপ্তার হওয়া আনোয়ার হোসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিকশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক। তিনি রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে আনোয়ার হোসেনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তাকে মারধরের অভিযোগ তুলেছে এনসিপি।

রোববার দুপুরে যুবদল নেতা রুহুল আমিন মিঝি বাদী হয়ে রায়পুর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আনোয়ার হোসেনসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আনোয়ারের ভাই ইমন হোসেন, রুবেল হোসেন ও দীপু। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম লিখিত একটি কাগজ পায়ের নিচে রেখে ছবি তুলে প্রচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তাদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

যুবদল নেতা রুহুল আমিন মিঝি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে এনসিপির জেলা কমিটির সিনিয়র সদস্যসচিব আলমগীর হোসাইন দাবি করেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও তাকে মারধর করা হয়েছে। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেন।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, “আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

জেলা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আব্দুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন ও দণ্ডবিধির আওতায় দায়ের করা মামলায় আদালত আনোয়ার হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনাটি এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।