ঢাকা ০২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাজেটের সামনে ত্রিমুখী চাপ: মূল্যস্ফীতি, ঘাটতি, বিনিয়োগ সংকট

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, প্রত্যাশিত হারে উৎপাদন না বাড়া এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব—সব মিলিয়ে আসন্ন জাতীয় বাজেট প্রণয়নে বাড়ছে চ্যালেঞ্জ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবও দেশের অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।

এ পরিস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। নতুন সরকার বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বস্তি দেওয়ার ওপর জোর দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব করনীতি গ্রহণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাজেট বাস্তবায়ন আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। তবে উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় বেতন-ভাতা, ভর্তুকি ও ঋণ পরিশোধসহ পরিচালন খাতে ব্যয় বেশি হয়েছে। একই সময়ে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশই ঋণ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে।

এদিকে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে। অর্থবছরের প্রথমার্ধে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে, যা বাজেট ব্যবস্থাপনাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিনিয়োগ বাড়াতে না পারলে উৎপাদন, প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান—সবই বাধাগ্রস্ত হবে। নতুন সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বড় অর্থনীতি গড়তে হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অন্তত ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন জরুরি, যা বর্তমানে অনেক কম।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দুর্বল আর্থিক খাত ও রাজস্ব ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা না গেলে বাজেট বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাজেটের সামনে ত্রিমুখী চাপ: মূল্যস্ফীতি, ঘাটতি, বিনিয়োগ সংকট

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, প্রত্যাশিত হারে উৎপাদন না বাড়া এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব—সব মিলিয়ে আসন্ন জাতীয় বাজেট প্রণয়নে বাড়ছে চ্যালেঞ্জ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবও দেশের অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।

এ পরিস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। নতুন সরকার বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বস্তি দেওয়ার ওপর জোর দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব করনীতি গ্রহণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাজেট বাস্তবায়ন আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। তবে উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় বেতন-ভাতা, ভর্তুকি ও ঋণ পরিশোধসহ পরিচালন খাতে ব্যয় বেশি হয়েছে। একই সময়ে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশই ঋণ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে।

এদিকে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে। অর্থবছরের প্রথমার্ধে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে, যা বাজেট ব্যবস্থাপনাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিনিয়োগ বাড়াতে না পারলে উৎপাদন, প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান—সবই বাধাগ্রস্ত হবে। নতুন সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বড় অর্থনীতি গড়তে হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অন্তত ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন জরুরি, যা বর্তমানে অনেক কম।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দুর্বল আর্থিক খাত ও রাজস্ব ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা না গেলে বাজেট বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।