ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘স্বার্থের উৎসব’: ১,৭০৯ কোটি টাকার সুবিধা নিয়েছে ড. ইউনূস

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কর সুবিধা গ্রহণ ও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কালে তিনি ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করেছেন।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁর প্রায় দেড় বছরের দায়িত্ব পালন শেষে উঠে আসছে বিতর্কিত নানা তথ্য।

একাধিক সূত্র, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র পরিচালনার চেয়ে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী ছিলেন তিনি—এমন অভিযোগই সামনে এসেছে অনুসন্ধানে। ক্ষমতার শীর্ষে বসে ‘স্বার্থের সংঘাত’ সৃষ্টি করে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

🔍 এক নজরে অভিযোগ ও বিতর্ক

বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনে অনিয়ম
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন নিষ্পত্তি না হলেও, মাত্র তিন মাসের মধ্যে ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’-এর অনুমোদন দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত ৫ কোটি টাকার পরিবর্তে প্রায় দেড় কোটি টাকার তহবিল দেখিয়েই এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কর মওকুফে বিপুল রাজস্ব ক্ষতি
গ্রামীণ ব্যাংক-কে পাঁচ বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতি দেওয়ার ফলে রাষ্ট্রের অন্তত ১,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কর ফাঁকি ও আইনি সুবিধা
গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্ট-এর বিরুদ্ধে ১,০৪৩ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ সুবিধা নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

মামলা থেকে অব্যাহতি
দুর্নীতি ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের আলোচিত সাতটি মামলা থেকে ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে অব্যাহতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

লাইসেন্স প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার
দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আটকে থাকা গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস-এর জন্য জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স এবং একটি ই-ওয়ালেট লাইসেন্স দ্রুত অনুমোদনের বিষয়টিও প্রশ্ন তুলেছে।

সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে নিজ প্রতিষ্ঠানের সুবিধা আদায় করাকে সংবিধানের ১৪৭ ধারা লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গ হিসেবে দেখছেন আইনজ্ঞরা।

⚖️ আইনজ্ঞদের মতামত

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এই ঘটনাগুলোকে “জনগণের সঙ্গে প্রতারণা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে থেকে ড. ইউনূস স্পষ্ট ‘স্বার্থের সংঘাত’ তৈরি করেছেন।

অন্যদিকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক মনে করেন, সাংবিধানিক পদে থেকে ব্যক্তিগত বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য সুবিধা আদায় সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।

📉 রাষ্ট্র পরিচালনা বনাম বাস্তবতা

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মব জাস্টিস, অগ্নিসংযোগ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বিদ্যুৎ সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। তবে সমালোচকদের দাবি, এসব সংকট মোকাবিলার পরিবর্তে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থেই বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।

এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময়কালটি রাষ্ট্রের জন্য যতটা না সংস্কারের ছিল, তার চেয়ে বেশি হয়ে উঠেছিল ব্যক্তিগত আইনি জটিলতা নিষ্পত্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা আদায়ের সুযোগ।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা গেলে চিত্র আরও পরিষ্কার হবে—এমনটিই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

‘স্বার্থের উৎসব’: ১,৭০৯ কোটি টাকার সুবিধা নিয়েছে ড. ইউনূস

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কর সুবিধা গ্রহণ ও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কালে তিনি ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করেছেন।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁর প্রায় দেড় বছরের দায়িত্ব পালন শেষে উঠে আসছে বিতর্কিত নানা তথ্য।

একাধিক সূত্র, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র পরিচালনার চেয়ে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী ছিলেন তিনি—এমন অভিযোগই সামনে এসেছে অনুসন্ধানে। ক্ষমতার শীর্ষে বসে ‘স্বার্থের সংঘাত’ সৃষ্টি করে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

🔍 এক নজরে অভিযোগ ও বিতর্ক

বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনে অনিয়ম
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন নিষ্পত্তি না হলেও, মাত্র তিন মাসের মধ্যে ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’-এর অনুমোদন দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত ৫ কোটি টাকার পরিবর্তে প্রায় দেড় কোটি টাকার তহবিল দেখিয়েই এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কর মওকুফে বিপুল রাজস্ব ক্ষতি
গ্রামীণ ব্যাংক-কে পাঁচ বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতি দেওয়ার ফলে রাষ্ট্রের অন্তত ১,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কর ফাঁকি ও আইনি সুবিধা
গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্ট-এর বিরুদ্ধে ১,০৪৩ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ সুবিধা নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

মামলা থেকে অব্যাহতি
দুর্নীতি ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের আলোচিত সাতটি মামলা থেকে ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে অব্যাহতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

লাইসেন্স প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার
দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আটকে থাকা গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস-এর জন্য জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স এবং একটি ই-ওয়ালেট লাইসেন্স দ্রুত অনুমোদনের বিষয়টিও প্রশ্ন তুলেছে।

সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে নিজ প্রতিষ্ঠানের সুবিধা আদায় করাকে সংবিধানের ১৪৭ ধারা লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গ হিসেবে দেখছেন আইনজ্ঞরা।

⚖️ আইনজ্ঞদের মতামত

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এই ঘটনাগুলোকে “জনগণের সঙ্গে প্রতারণা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে থেকে ড. ইউনূস স্পষ্ট ‘স্বার্থের সংঘাত’ তৈরি করেছেন।

অন্যদিকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক মনে করেন, সাংবিধানিক পদে থেকে ব্যক্তিগত বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য সুবিধা আদায় সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।

📉 রাষ্ট্র পরিচালনা বনাম বাস্তবতা

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মব জাস্টিস, অগ্নিসংযোগ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বিদ্যুৎ সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। তবে সমালোচকদের দাবি, এসব সংকট মোকাবিলার পরিবর্তে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থেই বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।

এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময়কালটি রাষ্ট্রের জন্য যতটা না সংস্কারের ছিল, তার চেয়ে বেশি হয়ে উঠেছিল ব্যক্তিগত আইনি জটিলতা নিষ্পত্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা আদায়ের সুযোগ।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা গেলে চিত্র আরও পরিষ্কার হবে—এমনটিই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।