ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতার আড়ালে সম্পদের সাম্রাজ্য: ডিআইজি মোজাম্মেল বিতর্কে

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মো. মোজাম্মেল হক-এর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জমি দখল ও বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ প্রায় ২৬ বছরের চাকরিজীবনে তিনি শত শত কোটি টাকার সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

সম্পদের বিস্তার ও অভিযোগ
অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর উপকণ্ঠ রূপগঞ্জে প্রায় তিন হাজার বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা একটি আবাসন প্রকল্পসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ও তাঁর পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ রয়েছে। এছাড়া বান্দরবান, কুমিল্লা, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় জমি, বাগানবাড়ি ও রিসোর্টের তথ্য পাওয়া গেছে।

রূপগঞ্জে ‘আনন্দ পুলিশ হাউজিং’ নামে একটি আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে জমি ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পটির সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই এবং এটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা।

স্ত্রীর নামে সম্পদ স্থানান্তর
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অর্জিত সম্পদের বড় অংশই তাঁর স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেল-এর নামে রয়েছে। ‘আনন্দ প্রপার্টিজ লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব সম্পদের একটি অংশ পরিচালিত হচ্ছে, যার অধিকাংশ শেয়ার তাঁর স্ত্রীর মালিকানায়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় জোরপূর্বক জমি দখল, কম দামে কিনতে বাধ্য করা, এমনকি ভয়ভীতি ও মামলা দিয়ে হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে জমি লিখে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

দুদকের অনুসন্ধান ও আদালতের পদক্ষেপ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্র জানিয়েছে, গাজী মোজাম্মেল হক ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে।

অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে তাঁর নামে প্রায় ১১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার এবং তাঁর স্ত্রীর নামে প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকার অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে আদালত তাঁর নামে থাকা ৬৫ বিঘা জমি জব্দের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের নামে থাকা বেশ কিছু সম্পদ জব্দ এবং ২৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ জনআস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম রোধ করা জরুরি।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও গাজী মো. মোজাম্মেল হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ক্ষমতার আড়ালে সম্পদের সাম্রাজ্য: ডিআইজি মোজাম্মেল বিতর্কে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মো. মোজাম্মেল হক-এর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জমি দখল ও বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ প্রায় ২৬ বছরের চাকরিজীবনে তিনি শত শত কোটি টাকার সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

সম্পদের বিস্তার ও অভিযোগ
অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর উপকণ্ঠ রূপগঞ্জে প্রায় তিন হাজার বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা একটি আবাসন প্রকল্পসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ও তাঁর পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ রয়েছে। এছাড়া বান্দরবান, কুমিল্লা, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় জমি, বাগানবাড়ি ও রিসোর্টের তথ্য পাওয়া গেছে।

রূপগঞ্জে ‘আনন্দ পুলিশ হাউজিং’ নামে একটি আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে জমি ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পটির সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই এবং এটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা।

স্ত্রীর নামে সম্পদ স্থানান্তর
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অর্জিত সম্পদের বড় অংশই তাঁর স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেল-এর নামে রয়েছে। ‘আনন্দ প্রপার্টিজ লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব সম্পদের একটি অংশ পরিচালিত হচ্ছে, যার অধিকাংশ শেয়ার তাঁর স্ত্রীর মালিকানায়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় জোরপূর্বক জমি দখল, কম দামে কিনতে বাধ্য করা, এমনকি ভয়ভীতি ও মামলা দিয়ে হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে জমি লিখে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

দুদকের অনুসন্ধান ও আদালতের পদক্ষেপ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্র জানিয়েছে, গাজী মোজাম্মেল হক ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে।

অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে তাঁর নামে প্রায় ১১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার এবং তাঁর স্ত্রীর নামে প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকার অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে আদালত তাঁর নামে থাকা ৬৫ বিঘা জমি জব্দের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের নামে থাকা বেশ কিছু সম্পদ জব্দ এবং ২৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ জনআস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম রোধ করা জরুরি।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও গাজী মো. মোজাম্মেল হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।